issue_cover
x

শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের মন্দির ‘টেম্পল অফ দ্য টুথ’। সেখানকার বার্ষিক উৎসবে প্রতি বছরই নাচ-গানের আসর বসে। শোভাযাত্রা উপলক্ষে সাজানো হয় প্রায় ১০০ হাতিকে। কিন্তু গত মাসে সেই উৎসব নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছিল হইচই। কেন হইচই? কারণটা শুনলে তোমাদেরও রাগ হবেই হবে। ওই যে হাতিদের কথা বললাম, এবারের উৎসবে সেই হাতির দলের মধ্যে ছিল ৭০ বছরের বয়স্ক হাতি টিকিরি-ও। সঙ্গের ছবি দেখলেই বুঝবে, ৭০ বছরের টিকিরি-র শরীরের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী, এশিয়ার হাতিরা সাধারণত কম-বেশি ৬০ বছর বাঁচে। টিকিরি-র এতদিন বেঁচে থাকাটা যেমন আশ্চর্যের, তার চেয়ে অনেক বেশি দুঃখের ঘটনা এই যে, এই বয়সেও তাকে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে হয়েছিল। পশুপ্রেমীদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের দিন শীর্ণকায় টিকিরি-র গায়ে প্রচুর সাজসজ্জা চাপানো হয়েছিল। সেকারণেই উপস্থিত দর্শকরা তার ভগ্নস্বাস্থ্য দেখতে পারেননি। শ্রীলঙ্কায় অনেকেই হাতি পোষেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ক’জনের পরিচর্যা ঠিকঠাক হয়, টিকিরি-র ঘটনা তুলে দিয়ে গেল সেই প্রশ্ন। ‘তুলে দিয়ে গেল,’ বাক্যটায় এভাবে অতীত কাল ব্যবহার করার কারণ বুঝতে পারছ কি? মৃত্যু এসে অবশেষে মুক্তি দিয়ে গিয়েছে টিকিরিকে। সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ মারা গিয়েছে সে। দুঃখের মধ্যেও সান্ত্বনা শুধু এই ভেবে, বেচারি টিকিরিকে আর কোনওদিন অসুস্থ শরীরে গায়ে একগাদা জিনিস চাপিয়ে কোনও শোভাযাত্রায় অংশ নিতে হবে না।