issue_cover
x
Sports

স্বর্ণপদক জয় হিমার


অসমের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে গড়ে ফেললেন ইতিহাস। ১৮ বছরের হিমা দাস ৪০০ মিটার দৌড়ে ভারতকে এনে দিয়েছেন কোনও আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে ভারতের প্রথম ট্র্যাক গোল্ড। ফিনল্যান্ডের তাম্পেরা-তে অনূর্ধ্ব ২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০০ মিটারের ফাইনালে হিমা জিতেছেন স্বর্ণপদক। নিজের জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক দৌড় তিনি দৌড়েছিলেন মাত্র ১৮ মাস আগে, আসামের শিবনগরে, একটি আন্তঃজেলা প্রতিযোগিতা়য়।
দৌড়ের শুরুতে হিমা ধীরে শুরু করলেও শেষ ৮০ মিটারে তিনি পেরিয়ে যান তিন-তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে! গুয়াহাটিতে বসে থাকা হিমার কোচ নিপন দাস অবশ্য বলছেন, ‘‘ওই শেষ ৮০ মিটারেই আসল দৌড় শুরু করে ও (হিমা)। ওর ভিতরে কতটা সম্ভাবনা আছে, সেটা ওর উন্নতি দেখেই বোঝা যায়।’’
কাদাভরা মাঠে ফুটবল পিটিয়ে নিজের খেলোয়াড় জীবন শুরু করেছিলেন হিমা। স্থানীয় এক কোচের পরামর্শেই তিনি অ্যাথলেটিক্সের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এবং চোখে পড়েন কোচ নিপন দাসের। নিপন দাসের পরামর্শেই হিমা তাঁর পাঁচ ভাই-বোন এবং বাবা-মাকে ছেড়ে, নিজের গ্রামের বাড়ি থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূর গুয়াহাটিতে চলে আসেন এবং শিখতে থাকেন। স্বর্ণপদকজয়ী হিমার তৈরি হওয়ার দিনগুলোতে তাঁর জন্য নিপনের পরামর্শ ছিল একটাই, ‘‘ঈশ্বরদত্ত প্রতিভা সকলের থাকে না। তোমার আছে। কাজেই বড় স্বপ্ন দেখা অভ্যেস করো!’’
স্বপ্ন সত্যি হওয়াই বটে। প্রতিভার সঙ্গে পরিশ্রমের যোগ্য মিশেলে আজ সারা দেশের গর্ব হয়ে উঠেছেন হিমা। টুইটারে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের তাবড়-তাবড় ব্যক্তিত্ব।


সোনা পেলেন দীপা

চোটের কারণে প্রায় দু’বছর প্রতিযোগিতার মাঠ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে দীপা কর্মকারকে। দু’বছর পর যখন ফিরলেন, ফেরার মতো করেই ফিরলেন। তুর্কির মারসিনে এফ আই জি আর্টিস্টিক জিমনাস্টিক্স ওয়র্ল্ড চ্যালেঞ্জ কাপের ভল্ট ইভেন্টে দীপা জিতেছেন স্বর্ণপদক। ২০১৬-র রিও অলিম্পিক্সে একটুর জন্য পদক হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল দীপার। কোনও ওয়র্ল্ড চ্যালেঞ্জ কাপে এটিই তাঁর প্রথম স্বর্ণপদক। এশিয়াডের জন্য নির্বাচিত আর-এক জিমন্যাস্ট আকাশ পাত্র রোমান রিংস ফাইনালসে চতুর্থ স্থান পেয়েছেন। দীপার স্বর্ণপদক জয়ের খবরে স্বাভাবিকভাবেই শুভেচ্ছাবার্তা আসতে শুরু করেছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব— টুইটারে দীপাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সকলেই।