issue_cover
x
Sports

এশিয়ান গেমসে রুপো জয় হিমার

আনন্দমেলার ওয়েবসাইটের পাতায় এর আগেও লেখা হয়েছে হিমা দাসের কথা। বিশ্ব জুনিয়র অ্যাথলেটিক্‌সে সোনা জিতে এই তো সেদিন সারা দেশের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন অসমের কৃষক পরিবারের এই মেয়ে। কিন্তু এশিয়ান গেমস থেকেও কি পদক আনতে পারবেন হিমা? সংশয় ছিল অনেকের মনেই। গত দু’দিনে হিমা সেই সব সন্দেহ স্রেফ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন বলা চলে। শনিবার হিটে ৪০০ মিটার ৫১ সেকেন্ডে দৌড়ে হিমা ফাইনালে উঠেছিলেন নিজেরই রেকর্ড ভেঙে। রবিবার ফাইনালে সেই রেকর্ডও ভেঙে ৪০০ মিটার শেষ করেছেন ৫০.৫৯ সেকেন্ডে। জিতেছেন রুপো। প্রথম স্থানে থেকে দৌড় শেষ করেছেন ২০১৭-র বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে রুপোজয়ী, বাহরিনের সালওয়া নাসের। তাঁর সময় ছিল ৫০.০৯ সেকেন্ড। এর আগে এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৪০০ মিটারে ভারত শেষবার পদক পেয়েছিল ১২ বছর আগে, ২০০৬ সালে। আনন্দের খবর এই যে, হিমার পাশাপাশি পুরুষদের ৪০০ মিটারে রুপো জিতেছেন ২৫ বছর বয়সি ভারতীয় রানার মহম্মদ আনাস ইয়াহিয়া-ও।


রুপো জিতে রেকর্ড দ্যুতি চন্দের

ওড়িশার গোপালপুরের মেয়েটি ছোট থেকেই উসেইন বোল্টের ভক্ত। স্প্রিন্টিং তাঁর ভালবাসা। আর সেই ভালবাসার জোরেই পি টি উষার মস্কো অলিম্পিক্‌সের হিটে গড়া ১২.২৭ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙে ১১.২৪ সেকেন্ডে রেস শেষ করে এশিয়ান গেমসে রুপো জিতে শুধু নতুন রেকর্ডই গড়েননি, সঙ্গে-সঙ্গে রিও অলিম্পিকের ছাড়পত্রও পেয়ে গিয়েছেন তিনি। দ্যুতি চন্দ, যিনি অ্যাথলেটিক্সে নামার সময় থেকেই স্বপ্ন দেখতেন অলিম্পিক্‌সে একশো মিটার দৌড়নোর, আজ এই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়ে তাঁর মুখে সার্থকতার হাসি। দ্যুতিই ভারতের প্রথম অ্যাথলিট যিনি ৩৬ বছর পরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে রিও অলিম্পিক্‌সে নামবেন। তবে তার জন্য নিজেকে অহেতুক চাপ দিতে আগ্রহী নন তিনি। জেতা-হারার কথা ভাবনাতেই নেই, তাঁর কাছে দেশের হয়ে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নামার গুরুত্ব প্রাথমিকভাবে অনেক বেশি। এশিয়ান গেমসে শেষ চল্লিশ মিটার চোখ বন্ধ করে দৌড়েছিলেন তিনি, তখনও মাথায় ছিল না জেতার কথা। তবে রুপো জেতায় স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ খুশি তিনি। দ্যুতির উত্থানের পিছনে তাঁর কোচ এন রমেশের কৃতিত্ব অনেকটাই, দুশো বা চারশো মিটার স্প্রিন্টের ট্রেনিং দিয়ে তাঁর ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে তাঁর বোন সরস্বতী দ্যুতির ট্রেনিংয়ের জন্য সমস্ত রকম আর্থিক সুবিধে তাঁকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। দ্যুতির রুপো জেতা তাঁকে নিয়ে অনেকটা আশা বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের, এখন শুধু অলিম্পিক্‌সের অপেক্ষা।