issue_cover
x

‘বেন্নু’— কুখ্যাত গ্রহাণু


অসম্ভব দ্রুত গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে একটা বিশাল চেহারার গ্রহাণু। যার নাম- ‘বেন্নু’। আপাতত তার যা গতিপথ, তাতে পৃথিবীর উপর তার আছড়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। নাসার কাছে খবর পৌঁছনো মাত্র নড়েচড়ে বসলেন বিজ্ঞানীরা। কী করা যায়, কীভাবে আটকানো যাবে এই ঘাতক গ্রহাণুকে? তার আগে জেনে নিই গ্রহাণু কাকে বলে…
গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েড হল প্রধানত পাথর দ্বারা গঠিত বস্তু, যা নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে। এদের আকার সাধারণত ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধের থেকেও কম হয়, কিন্তু বেন্নু ব্যতিক্রম। বছর দুই আগে নাসা খোঁজ পায় তার। প্রতি ছ’বছর অন্তর পৃথিবীর কক্ষপথ ঘেঁষে বেরিয়ে যায় ‘বেন্নু’। আর প্রতি বারই একটু-একটু করে সরে আসে পৃথিবীর দিকে। ২১৩৫ সালে এই গ্রহাণুটি ঢুকে পড়বে পৃথিবী আর চাঁদের মাঝামাঝি এবং পৃথিবীর অনেকটাই কাছে । এই ভাবে কাছে আসতে-আসতেই দে়ড়শো বছরের মধ্যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার যথেষ্টই আশঙ্কা রয়েছে তার।
খোঁজ পেয়ে বিজ্ঞানীরা তো নড়েচড়ে বসলেন, কিন্তু উপায় কী হল? বিজ্ঞানীরা অনেক ভেবে ঠিক করলেন, ‘বেন্নু’কে চিনতে-জানতে হবে। আর সেই জন্যই মহাকাশযান ‘ওসিরিস-রেক্স’ কে রওনা করিয়ে দেওয়া হল ‘বেন্নু’-র উদ্দেশ্যে। পৌঁছনোর পরেই তার কার্বনে ভরা পিঠ থেকে ‘নুড়ি-পাথর’ কুড়নো শুরু করবে মহাকাশযানটি। শুরু করবে ওই গ্রহাণুর বিভিন্ন এলাকার ম্যাপিং-এর কাজও। এর কারণ, বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, এই গ্রহাণুটি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে সৌরজগতের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রমাণ। বেন্নুর বেশির ভাগটাই গড়ে উঠেছে কার্বন আর হাইড্রোজেন পরমাণু দিয়ে যা প্রাণ সৃষ্টির অন্যতম প্রধান উপাদান। এভাবেই হয়তো জানা যাবে, এই সৌরজগতের অন্য কোনও গ্রহেও কোনও কালে ‘প্রাণ’-এর উদ্ভব হয়েছিল কি না। যাত্রা শুরুর বছর দুই পর, এই বছরের ৩ ডিসেম্বর, ‘ওসিরিস-রেক্স’ পা রেখেছে ‘বেন্নু’তে। শুরু করে দিয়েছে নুড়িপাথর কুড়নোর কাজ, যা সে করবে প্রায় ১৮ মাস ধরে। যে যন্ত্রের সাহায্যে সে এই কাজ করছে তার নাম ‘ট্যাগসাম’— পুরো কথায় যাকে ‘টাচ অ্যান্ড গো স্যাম্পেল অ্যাকুইজ়িশন মেকানিজ়ম’ বলে। এই যন্ত্র ৬০ গ্রাম থেকে দু’কিলোগ্রাম পর্যন্ত বালি, মাটি, পাথরের টুকরো সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। তারপর বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখবেন ‘বেন্নু’-র হালহকিকত, উদ্ধার করবেন সৃষ্টির আদি রহস্য।

আন্টার্কটিকায় আগ্নেয়গিরি


আন্টার্কটিকা মানেই বিশাল এক বরফভূমির ছবি আমাদের চোখে ভেসে ওঠে। সেই বরফের নীচের রহস্য খুঁজতে গিয়েছিলেন এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ্যার ছাত্র ম্যাক্স ভ্যান। বরফের নীচে খোঁজ করতে গিয়ে পশ্চিম আন্টার্কটিকায় ৯১টি নতুন আগ্নেয়গিরির সন্ধান পেয়েছেন ম্যাক্স। যেগুলোর উচ্চতা একশো থেকে চার হাজার মিটার। আগ্নেয়গিরিগুলো ছড়িয়ে রয়েছে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার লম্বা পথে। ম্যােক্সর গবেষণার সঙ্গে সহমত তাঁর শিক্ষকরা এবং কয়েকজন ভূবিজ্ঞানী। ম্যাক্সের খোঁজ স্বীকৃতি পেলে আন্টার্কটিকা সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে যাবে। আগ্নেয়গিরিগুলো কী অবস্থায় রয়েছে এখন তা নিয়ে গবেষণা চলছে। এর আগে কৃত্রিম উপগ্রহের পাঠানো ফোটো থেকে সেখানে ৪৭টি মৃত আগ্নেয়গিরির খোঁজ মিলেছিল। সেই ফোটোর সঙ্গে ম্যাক্সের খোঁজও মিলে যাচ্ছে।