issue_cover
x

ক্যানসার নিরাময়ে নতুন দিশা দেখাল আইআইটি

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কেউ বা কোনও জিনিস কোথায় আছে, তা জানার সবচেয়ে সুন্দর উপায় হল জিপিএস, যার পুরো নাম গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম। স্মার্টফোনের লোকেশন সার্ভিস অন করার অর্থ, তোমার ফোনের জিপিএস চালু হয়ে গেল। ওটা চালু হল মানে, সারা পৃথিবীর মানচিত্রে তুমি ঠিক কোথায়, তা এবার ফুটে উঠতে পারে তোমার ফোনের পরদায়। ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীকে শুধু ওষুধ দিলেই চলে না, তা দেহের ঠিক জায়গায় ঠিক-ঠিক কাজ করছে কিনা, কখনও-কখনও তা জানারও প্রয়োজন পড়ে। অর্থাৎ, ওই যে লোকেশনের কথা বলছিলাম, ক্যানসারের ক্ষেত্রে ওষুধ দেহে প্রবেশ করার পর তার লোকেশন বা অবস্থান জানতে পারলে তাতে চিকিৎসায় সুবিধে হয়। এই যে ওষুধ দেহে ঢোকার পর তার অবস্থান জানা, সেই প্রযুক্তি মানুষ আবিষ্কার করে ফেলেছিল আগেই। এবার তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এক প্রযুক্তি তৈরি করে ফেললেন আইআইটি মান্ডির একদল তরুণ গবেষক। খুব সহজ করে বলতে গেলে, তাঁরা বানিয়েছেন মাল্টিফাংশনাল গোল্ড ন্যানোস্ট্রাকচার, যা ক্যানসার ইমেজিং ও থেরাপিতে কাজে আসতে পারে। এই ন্যানোস্ট্রাকচার ওষুধকে তার সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গন্তব্যে পৌঁছনোর পর একসঙ্গে একাধিক ছবি তুলতে পারবে, যার ফলে ক্যানসার আক্রান্ত কোষদের পরীক্ষা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে অনেক বেশি সুবিধে হবে। ব্যাপারটা শুনতে যতটা সহজ, কাজটা অবশ্য ততখানিও সহজ ছিল না। আনন্দের খবর এই যে, নিজেদের সাফল্যে তুষ্ট হয়ে থেমে না গিয়ে অমিত জয়সওয়ালের নেতৃত্বাধীন গবেষক দলটি এখন চেষ্টা করছেন, ক্যানসার নিরাময়ের আরও সহজ এবং আরও কার্যকর উপায় খুঁজে বের করার।

প্লুটোর বরফের তলায় আস্ত সমুদ্র?

২০১৫ সালের জুলাইয়ে নাসার নিউ হরাইজ়ন নামের মহাকাশযান প্লুটোর ছবি তুলে এনেছিল। সেই ছবি দেখেই জানা গিয়েছিল, সূর্য থেকে অনেক-অনেক দূরের এই বামন গ্রহের গায়ে বি-শা-ল জায়গা জুড়ে একটা গর্ত মতো আছে। তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘স্পুটনিক প্লেনিশিয়া’। আরও জানা গিয়েছিল, প্লুটোর গায়ে একটা বরফের আস্তরণ আছে, যেটা ওই স্পুটনিক প্লেনিশিয়া-য় খুব পাতলা। প্রশ্নটা বিজ্ঞানীদের মাথায় ঘুরছিল তখন থেকেই, তা হলে কি প্লুটোর গায়ের বরফের আস্তরণের তলায় জল থাকতে পারে? কিন্তু জল থাকবেই বা কী করে? সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে প্লুটো তৈরি হয়ে থাকলে এতদিনে সমস্ত তাপ ছেড়ে ঠান্ডা কঠিন বরফের গোল্লায় পরিণত হওয়ার কথা ছিল প্লুটোর। তা হলে প্লুটোর পেটের মধ্যে যদি জল থেকেও থাকে, সেটা তাপ ছেড়ে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে না কেন? জাপানের একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি দাবি করেছেন, তাঁরা এই রহস্য ভেদ করে ফেলেছেন। কীরকম? বিজ্ঞানীদের ওই দল বলছেন, এ আর এমন কী আশ্চর্য ঘটনা! প্লুটোর গায়ের ওই বরফের চাদরের তলায় নিঘঘাত গ্যাসের একটা আস্তরণ আছে। আর তার তলায় আছে জল। মাঝের ওই গ্যাসের চাদর তাপের ভীষণ কুপরিবাহী হওয়ায় প্লুটোর পেটের ওই জল তাপ ছেড়ে ঠান্ডা হতে পারে না। সে না হয় হল, কিন্তু প্রশ্ন হল, বিজ্ঞানীদের এই দাবি যদি সত্যিও হয়, তাতে আমাদের কী? বা রে! সূর্য থেকে এত দূরের ঠান্ডা এক বামন গ্রহে যদি জল থাকতে পারে, তার মানে কী দাঁড়ায়? মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা ছোট-বড় অন্য নানা গ্রহ উপগ্রহেও তার মানে জল থাকা অসম্ভব নয়। আর জলের অন্য নাম কী? কী যেন?