issue_cover
x

হয়তো প্রাণ ছিল শুক্রগ্রহে

বুধ, শুক্র, পৃথিবী আর মঙ্গল। সূর্যের সবচেয়ে কাছের চারটে গ্রহ এরাই। এদের মধ্যে পৃথিবীর যমজ বলা হয় শুক্রগ্রহকে, কারণ আকার এবং সূর্য থেকে দূরত্বের বিচারে পৃথিবীর সঙ্গে শুক্রগ্রহের ব্যাপক মিল। তবে মিল ওই পর্যন্তই, কারণ শুক্রগ্রহের বায়ুমণ্ডলের পুরুত্ব পৃথিবীর প্রায় ১০০ গুণ। ফলে ওই গ্রহের বাতাস খুবই বিষাক্ত। গ্রহের পিঠে তাপমাত্রাও ভয়ানক, প্রায় ৪৭২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু সম্প্রতি জানা গিয়েছে, চিরকাল শুক্রগ্রহের অবস্থা মোটেও এরকম ছিল না।
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র নাসার এক অভিযান থেকে জানা গিয়েছে, আনুমানিক ৭০ কোটি বছর আগে শুক্রগ্রহে ছিল মনোরম পরিবেশ। পৃথিবী তার জন্মের পর যেভাবে আস্তে-আস্তে ঠান্ডা হয়েছে, শুক্রও নাকি ঠান্ডা হচ্ছিল সেভাবেই। তা হলে কী করে আজকের এই ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হল? বিজ্ঞানীদের অনুমান, ৭০ কোটি বছর আগে শুক্রগ্রহের পিঠে এক আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকে বেরনো উত্তপ্ত ম্যাগমা গলিয়ে দেয় শুক্রগ্রহের পিঠে থাকা পাথরকে। তার ফলে বাতাসে ছ়ড়িয়ে পড়ে বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড। কিন্তু শুক্রগ্রহের অভিকর্ষের টান এড়িয়ে সেই কার্বন ডাইঅক্সাই়ড পালিয়ে যেতে পারেনি। ফলে হু হু করে বেড়ে যায় গ্রহের তাপমাত্রা। কিন্তু কার্বন ডাইঅক্সাইডে চতুর্দিক ভরে যাওয়ার আগে তো সেখানে তাপমাত্রা এত বেশি ছিল না। তা হলে নিশ্চয়ই সেসময় সমুদ্রটমুদ্রও থেকে থাকবে শুক্রগ্রহের বুকে? হয়তো বা থেকে থাকবে প্রাণও! নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেকথা বলা যাচ্ছে না এক্ষুনি। তার আগে করতে হবে আরও পরীক্ষানিরীক্ষা। আগ্নেয়গিরির সেই ভয়াল অগ্ন্যুৎপাত কি একবারই হয়েছিল, নাকি বারবার, সেসবও এখনও জানা যায়নি। ২০২৩ সালে আমাদের দেশের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র ইসরো-ও শুক্রগ্রহে রকেট পাঠাবে বলে ঠিক করেছে। বিজ্ঞানীদের আশা, সৌরজগৎ থেকে অনেক দূরে পৃথিবীর মতো যেসব গ্রহ আমরা খুঁজে পেয়েছি, তার কোনওটায় পৃথিবীর মতোই পরিবেশ আছে কিনা— শুক্রগ্রহে অনুসন্ধান চালিয়েই তা জানা যাবে।

প্লুটোর বরফের তলায় আস্ত সমুদ্র?

২০১৫ সালের জুলাইয়ে নাসার নিউ হরাইজ়ন নামের মহাকাশযান প্লুটোর ছবি তুলে এনেছিল। সেই ছবি দেখেই জানা গিয়েছিল, সূর্য থেকে অনেক-অনেক দূরের এই বামন গ্রহের গায়ে বি-শা-ল জায়গা জুড়ে একটা গর্ত মতো আছে। তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘স্পুটনিক প্লেনিশিয়া’। আরও জানা গিয়েছিল, প্লুটোর গায়ে একটা বরফের আস্তরণ আছে, যেটা ওই স্পুটনিক প্লেনিশিয়া-য় খুব পাতলা। প্রশ্নটা বিজ্ঞানীদের মাথায় ঘুরছিল তখন থেকেই, তা হলে কি প্লুটোর গায়ের বরফের আস্তরণের তলায় জল থাকতে পারে? কিন্তু জল থাকবেই বা কী করে? সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে প্লুটো তৈরি হয়ে থাকলে এতদিনে সমস্ত তাপ ছেড়ে ঠান্ডা কঠিন বরফের গোল্লায় পরিণত হওয়ার কথা ছিল প্লুটোর। তা হলে প্লুটোর পেটের মধ্যে যদি জল থেকেও থাকে, সেটা তাপ ছেড়ে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে না কেন? জাপানের একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি দাবি করেছেন, তাঁরা এই রহস্য ভেদ করে ফেলেছেন। কীরকম? বিজ্ঞানীদের ওই দল বলছেন, এ আর এমন কী আশ্চর্য ঘটনা! প্লুটোর গায়ের ওই বরফের চাদরের তলায় নিঘঘাত গ্যাসের একটা আস্তরণ আছে। আর তার তলায় আছে জল। মাঝের ওই গ্যাসের চাদর তাপের ভীষণ কুপরিবাহী হওয়ায় প্লুটোর পেটের ওই জল তাপ ছেড়ে ঠান্ডা হতে পারে না। সে না হয় হল, কিন্তু প্রশ্ন হল, বিজ্ঞানীদের এই দাবি যদি সত্যিও হয়, তাতে আমাদের কী? বা রে! সূর্য থেকে এত দূরের ঠান্ডা এক বামন গ্রহে যদি জল থাকতে পারে, তার মানে কী দাঁড়ায়? মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা ছোট-বড় অন্য নানা গ্রহ উপগ্রহেও তার মানে জল থাকা অসম্ভব নয়। আর জলের অন্য নাম কী? কী যেন?