issue_cover
x

প্রাণিজগত্‌
পুনেতে পাওয়া গেল নতুন ব্যাঙ

ঝিঁঝিঁ ব্যাঙ। আসলে ব্যাঙ। কিন্তু তারা ডাক ছাড়ে ঠিক ঝিঁঝিঁ পোকার মতোই। ইংরেজিতে এদের নাম cricket frog। এই ক্রিকেট ব্যাঙেরই নতুন এক প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার উত্তর দিকে, মহারাষ্ট্রের পুনেতে। পুকুরের ধারে-ধারেই এরা থাকতে ভালবাসে বলে জানা গিয়েছে। নিজেদের সুরেলা কণ্ঠের সাহায্যে এরা যে একে অন্যকে রীতিমতো ডাকা়ডাকি করে, পাওয়া গিয়েছে তার প্রমাণও। বর্ষাকালে পুকুরের ধারে এরা ডিম পাড়ে। সেই ডিম আবার কাঁকড়ায় খেয়েও ফেলে। তবুও এরা টিকে আছে। যেখানে এদের দেখা পাওয়া গিয়েছে, তার আশপাশে অন্যান্য জায়গাতেও এদের কিছু আত্মীয়স্বজনকে খুঁজে পাওয়া যাবেই যাবে, এই আশায় বুক বেঁধেছেন জীববিজ্ঞানীরা। পুনেতে এই ব্যাঙ খুঁজে পাওয়া নিয়ে হইচই করার আরও একটা বড় কারণ, এর আগে এই ঝিঁঝিঁ ব্যাঙেরই অন্য এক প্রজাতিকে পুনেতে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল একশো বছরেরও বেশি আগে, ১৯১৫ সালে। নতুন এই প্রজাতি কবে থেকে ওই জঙ্গলে ছিল, জানা নেই। তবে এতদিন তারা ছিল আমাদের নজর এড়িয়ে, চুপিচুপি। পৃথিবীর আকাশ-বাতাসের সীমানা ছাড়িয়ে মহাকাশে আমরা আজকাল ঘুরে-ঘুরে বেড়াচ্ছি বটে, তবে এই আবিষ্কার প্রমাণ করে দিয়েছে, বিপুলা এই পৃথিবীর বহু কিছু আমাদের কাছে এখনও রয়ে গিয়েছে অজানা। এখনও অচেনা।

সাদা রক্তের মাছ তুষারমৎস্য

মেরুদণ্ডী, অথচ তার রক্তের র‌ং লাল নয়। হওয়ার কথাও নয়। এদের রক্তে না আছে হিমোগ্লোবিন, না-ই আছে লোহিত রক্তকণিকা। আন্টার্কটিকাকে ঘিরে থাকা দক্ষিণ মহাসাগরে দুধ-সাদা রংয়ের রক্তের এই মাছের নাম যে-কারণে দেওয়া হয়েছে তুষারমৎস্য (ইংরেজিতে Icefish)।

কিন্তু আমাদের শরীরের কোষে-কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় তো লোহিতকণিকাই। হিমোগ্লোবিনই অক্সিজেনকে বেঁধেছেদে ধরে রাখে লোহিতকণিকার পেটে। সেই হিমোগ্লোবিন আর লোহিতকণিকার অনুপস্থিতিতে প্রচণ্ড ঠান্ডা জলের মধ্যে এরা তা হলে বেঁচে থাকে কী করে?
জানা গিয়েছে, তুষারমৎস্যদের হৃৎপিণ্ডই বলো কিংবা রক্তবাহ (যাদের মধ্য দিয়ে রক্ত আমাদের সারা শরীরে বইতে থাকে নিরন্তর), সবই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বড়। ফলে এদের শরীরে রক্ত চলাচল হয় অনেক বেশি দ্রুত গতিতে। হিমোগ্লোবিন না থাকায় রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর তুলনায় মাত্র ১০% হলেও তুষারমৎস্যেরা অতএব বেঁচে থাকে দিব্যি। অক্সিজেন কম পৌঁছলেও তাড়াতাড়ি তো পৌঁছচ্ছে। বেঁচে থাকার জন্য সেই বা কম কী!

লোহিতকণিকা না থাকায় তুষারমৎস্যের ফ্যাকাসে রক্তের ঘনত্বও অনেকটা কম হয়। ফলে দ্রুতগতিতে তা চলাচল করতে পারে আরও ভাল। বিজ্ঞানীদের ধারণা অত্যন্ত ঠান্ডা জলে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকার ফলেই প্রকৃতি এদের রক্তকে এমন ভাবে তৈরি করেছে। আশপাশ যখন অক্সিজেনে ভুরভুর, খামোখা রক্তে তা বয়ে বেড়ানোর কোনও মানে আছে কি? ঠিক কি না?