issue_cover
x

প্রাণিজগত্‌
‘‘ওরে ভোঁদড় ফিরে চা, খোকার নাচন দেখে যা।’’

জান কি, পৃথিবীর সমস্ত স্তন্যপায়ীর মধ্যে সবচেয়ে ঘন লোম দেখা যায় ভোঁদড়ের গায়ে? এদের ত্বকের প্রত্যেক বর্গইঞ্চিতে দশ লাখের কাছাকাছি লোম থাকে। তার উপর এদের গায়ের লোমে দুটো স্তর থাকে। প্রথম স্তরে কিছু ছোট-ছোট লোম থাকে, যেগুলো আমরা দূর থেকে দেখতে পাই না। অন্য স্তরের বড়-বড় লোমগুলোই দূর থেকে আমাদের চোখে পড়ে। দুটো স্তর থাকায় দুই স্তরের মাঝে বাতাস আটকে থাকে। যার ফলে ভোঁদড়ের ত্বক শুষ্ক এবং উষ্ণ থাকে। পাশাপাশি এভাবে বাতাস আটকে থাকায় ভোঁদড়দের একটা বড় সুবিধে হয় জলে ভেসে থাকতে। ছোট-ছোট বাচ্চা ভোঁদড়দের ওই দুই স্তর লোমের মাঝে এতটাই বেশি পরিমাণে বাতাস আটকে থাকে যে তারা চাইলেও অনেকসময় জলে ডুব দিতে পারে না। ডুবলেই ভুস করে আবার ভেসে ওঠে। ভোঁদড়দের নিয়ে যখন কথা উঠলই, তখন এ-ও জানাই যে, দিনের অধিকাংশ সময় এরা খেয়ে আর ঘুমিয়ে কাটালেও খেলাধুলোর কথা উঠলে কিন্তু এরা সবসময় এক পায়ে খাড়া! নদীর ধারে যেখানে ভোঁদড়রা থাকে, সেসব জায়গায় প্রায়ই দেখা যায়, নদীর ধারের পাথরের ঢাল বেয়ে সাঁইসাঁই করে জলে নেমে ভোঁদড়দের সে কী আহ্লাদ, সে কী আনন্দ!

সাদা রক্তের মাছ তুষারমৎস্য

মেরুদণ্ডী, অথচ তার রক্তের র‌ং লাল নয়। হওয়ার কথাও নয়। এদের রক্তে না আছে হিমোগ্লোবিন, না-ই আছে লোহিত রক্তকণিকা। আন্টার্কটিকাকে ঘিরে থাকা দক্ষিণ মহাসাগরে দুধ-সাদা রংয়ের রক্তের এই মাছের নাম যে-কারণে দেওয়া হয়েছে তুষারমৎস্য (ইংরেজিতে Icefish)।

কিন্তু আমাদের শরীরের কোষে-কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় তো লোহিতকণিকাই। হিমোগ্লোবিনই অক্সিজেনকে বেঁধেছেদে ধরে রাখে লোহিতকণিকার পেটে। সেই হিমোগ্লোবিন আর লোহিতকণিকার অনুপস্থিতিতে প্রচণ্ড ঠান্ডা জলের মধ্যে এরা তা হলে বেঁচে থাকে কী করে?
জানা গিয়েছে, তুষারমৎস্যদের হৃৎপিণ্ডই বলো কিংবা রক্তবাহ (যাদের মধ্য দিয়ে রক্ত আমাদের সারা শরীরে বইতে থাকে নিরন্তর), সবই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বড়। ফলে এদের শরীরে রক্ত চলাচল হয় অনেক বেশি দ্রুত গতিতে। হিমোগ্লোবিন না থাকায় রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর তুলনায় মাত্র ১০% হলেও তুষারমৎস্যেরা অতএব বেঁচে থাকে দিব্যি। অক্সিজেন কম পৌঁছলেও তাড়াতাড়ি তো পৌঁছচ্ছে। বেঁচে থাকার জন্য সেই বা কম কী!

লোহিতকণিকা না থাকায় তুষারমৎস্যের ফ্যাকাসে রক্তের ঘনত্বও অনেকটা কম হয়। ফলে দ্রুতগতিতে তা চলাচল করতে পারে আরও ভাল। বিজ্ঞানীদের ধারণা অত্যন্ত ঠান্ডা জলে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকার ফলেই প্রকৃতি এদের রক্তকে এমন ভাবে তৈরি করেছে। আশপাশ যখন অক্সিজেনে ভুরভুর, খামোখা রক্তে তা বয়ে বেড়ানোর কোনও মানে আছে কি? ঠিক কি না?