issue_cover
x
কুকুল আর এলোমেলো
গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

জমি শুঁকে শুঁকে শেষে ওরা আমাদের বাড়িতেই এসে হানা দিল। আমি তো গোড়ায় অনুসন্ধানের ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি। ফাঁদে পড়ে গিয়ে শেষে যা হয়-একেবারে বোকামুখ।

রাসবিহারী অ্যাভেনিউতে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরছি-ঠিক সেই সময়েই বা ঘুরতে গেলাম কেন কে জানে- দেখি, নেড়িগেড়ি গোটাকয়েক কুকুর-ছানাকে একজন ফেরিওয়ালা বিস্কুট খাওয়াচ্ছে। আমরা কাছে গিয়ে দাঁড়াতে বলল, “আহা, ওদের মা-টা খানিক আগে লরি চাপা পড়ে মরে গেল। শুনে এক ভদ্দরলোক একটাকে নিলেন। আপনারা একটা নিন না?” আমি, কেন কে জানে, টক করে সবচেয়ে লিঙলিঙে আর কুচকুচেটাকে তুলে নিলাম। বড় মেয়ে পুপে বলল, “মা, নিচ্ছ তো, কিন্তু বেড়াল আর পাখিটাখিদের সঙ্গে বনাতে পারবে তো?” বললাম, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঐটুকু তো একটা কুকুর!” ছোট মেয়ে পাপু, অমলবাবু সবাই সায় দিয়ে বলল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভারী তো পুঁচকে।” বাড়ি ফেরার পথে অনেক সব দোকানপাট থেকে লোকে, নোংরা কুকুর কোলে আমাদের মিছিলটাকে বকলস-চেনের দোকানের দিকে যেতে দেখে হাসাহাসি জুড়ে দিল। চেনটা হাতে দিয়ে দোকানের মালিক হেসে বললেন, “একেই বলে ভাগ্য-কোথাকার নেড়ি কোথায় চলল।”

পাছে ওকে সব ‘নেড়ু, নেড়ু’ বলে ডেকে নামটা চালু করে দেয়, তাই আমি বাড়ি পৌঁছেই ওর নাম দিয়ে দিলাম-কুকুল। ডাকনাম হল কু-কু-কু-কুক। তারপর অসংখ্য পোকা বেছে, দু-তিনবার ডেটল-লাইফবয় মাখিয়ে স্নান করিয়ে, গা ব্রাশ করে দেবার পর ছানাটা রীতিমত একটা কুকুরের মত দেখতে হল। গা-ছাঁটা কালো লোম, একেবারে তেলচুকচুকে হয়ে থাকে। বুকের কাছ ল্যাজের ডগা আর পায়ের থাবাগুলো দুধে সাদা। কান ঝোলা, কপাল কোঁচকানো, চোখ কুতোকুতো, গাঢ় নীল রঙের। অনেকে বলল, গ্রে হাউন্ড রেসিং উঠে যাবার পর এমন নেড়ি কুকুর আর কারুর ঘরে জন্মায়নি।

কুকুল দু-তিনদিনের মধ্যে নিজ মূর্তি ধারণ করল। খাওয়ার গতি আর পরিমাণ এমন ভয়ঙ্কর রকমের বেড়ে গেল যে, মনে হল এ-লাইনে ওর বিশ্বচ্যাম্পিয়ান হতে বেশী দেরি নেই। তা ছাড়া চলা ফেরার ব্যাপারটাও কেমন যেন বাড়াবাড়ি ধরনের বেড়ে গেল। প্রথম দিন, আমাদের বদরি পাখিদের মধ্যে ওর হাজির হওয়াটা বেশ অমায়িক ধরনেরই ছিল বলতে হবে। কাঁচা পরিদর্শনের পর কেবল একটাই সামান্য অপকর্ম-টিন উল্টে কাওন ধান খাওয়া। কালো মুখে সোনালী ধান মেখে দু-তিনবার লাফিয়ে ল্যাজ নেড়ে ও গেল বেড়ালদের দপ্তরে। নিচু পাঁচিলে চোখে ভীষণ সন্দেহ মাখিয়ে আমাদের তিনটি বেড়াল-বুড়ো কাজলি (সোনালি চোখ, কুচকুচে লোমলোমে গা), বাঘা রামদাস (ডোরাকাটা বাঘের মত-সবুজ চোখ) আর সুন্দরী ইউকি (ধবধবে লোমঝোলা-ল্যাজওয়ালা কটাচোখো)। বাঘা রামদাসও কিন্তু মেয়ে, ওর বাঘের মতই বাচ্চা হয়, কেবল মিনি সাইজের। কুকুল ল্যাজট্যাজ নেড়ে ওদের সঙ্গে ভাব জমাবার চেষ্টা করে যখন দেখল, ওদের সন্দেহ-বাতিক মন, তখন ও চেহারা পাল্টে ফেলল। “তবে রে”-ভাবটা আনতে ওর মিনিট খানেক লেগেছিল। এর পর ওদের তিনজনের আর বারান্দার নিচু পাঁচিলে বসা সম্ভব হল না। নীচের বাথরুমের টিনের ছাদের বসেই যে যেরকম ভাবে পারল, কুকুল্ সম্পর্কে বিরক্তি দেখাতে লাগল।

তখনই আমার প্রথম সন্দেহ হল। আমি কেন জানি না সন্দেহ করতে লাগলাম যে, কুকুলকে আমরা আনিনি। ও কায়দা করে নিজে এসেছে। আমরা না আনলেও ও আসত। পরে আরও বোঝা গেল।

কুকুল আসার কয়েকদিন পরে হঠাত্‌ আমার এক ছাত্রীর বাবা-অজিতবাবু-এসে হাজির। পেছনে চেনে বাঁধা ঝুলঝুলে সাদা-ধবধবে লোমে ঢাকা বেশ বড়সড় এক আহ্লাদী কুকুর। ঝল্ঝলে কান দুটো কাল্চে মত। চোখ কালো, বড় আর জুলজুলে, লোমে আধ-ঢাকা।

অজিতবাবু আবার তদুপরি কবি। বললেন, “কুকুর-টাকে বড্ড ভালবাসি। আমারই কুকুরের বাচ্চা। যার-যার বাড়িতে থেকেছে, কারুর সঙ্গে বনাতে পারেনি। অথচ এমন একটা মিষ্টি কুকুর আমি কমই দেখেছি। বুঝলেন? যদি আপনি রাখেন-আমি খুব নিশ্চিন্দি হই। এ ব্যাপারে আপনার একটা ইয়েও আছে।”

ভাল করে দেখলাম। আট মাস বয়েস-বেশ সভ্যভব্য-কেবল একটু ভয় পেয়েছে বলে বোধ হয় ছট্ফট্ করছে। ভাবনা হল, খাওয়াব কী, একে তো কুকুলের খিদে গরুড়ছানাকে হার মানাচ্ছে। আজও নিজের মাংস-রুটি দালিয়া ছাড়াও খেয়েছে ঘর মোছার ন্যাতা, ছেঁড়া চটির আধপাটি, বাসন মাজার খোল আর খড়-আর দেওয়ালের গায়ের খানিকটা। এগুলো সবই সকাল বারোটার মধ্যে সাবাড় করেছে।

মনের কথা বুঝে অজিতবাবু চেনটি আমার মেজো মেয়ে তোতার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “এখানেই ওর বনবে, দেখবেন। একটু চঞ্চল, মানে ছেঁড়ে-টেড়ে। তা সে তো সব ছোট কুকুরই একটু আধটু ছেঁড়ে, মানে ঐ জুতোটুতো আর কী। একটু সাবধানে রাখলেই কিচ্ছু হবে না।” তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে বললেন, “আর জানেন তো, কথিত আছে, কুকুর পুষতে হলে নিজেকে কুকুর হতে হয়! বড় আদরের জিনিস ওরা।” বলে চলে গেলেন না মিলিয়ে গেলেন জানি না। আমি বেশ একটু হতভম্ব হয়ে বসে থেকে বুঝলাম, মনটা ছ্যাঁত করে উঠেছে। বাবাঃ, কুকুর পুষতে হলে তাহলে কুকুর হতে হয়? কী জানি, এ-কথার কী বা গুপ্ত মানে!

এটার নাম আবার কী দেওয়া যায়? বড্ড ঘনঘন নাম দিতে হচ্ছে। ওর গায়ের লোম দেখে এলোঝেলো মিষ্টির কথা মনে আসতে মেয়েদের সঙ্গে একটা পারিবারিক সভা করে ফেললাম। পাপুর কথামত ওকে এলোমেলো নামটাই দেওয়া হল, কেন না, ওর সায়েব-নাম মিকি সর্বসম্মতিক্রমে বরবাদ হয়ে গেল।

পুন্পুন্ বলল, “যে ফ্যামিলির যা, মাছের ঝোলের সঙ্গে মিকি চলে না।”

gita3

যাই হোক, এলোমেলো দু দিনেই নিজের নামের মাহাত্ম্য ভীষণ বিক্রমের সঙ্গে জাহির করতে লাগল। কুকুল নিমেষে ওর অ্যাসিসট্যান্ট পদে বহাল হয়ে গেল। আর মুশকিল হল এই যে, পাড়া-প্রতিবেশী থেকে বাড়ির পাখি, বেড়াল, এমন কী ছুঁচোগুলো পর্যন্ত তটস্থ হয়ে উঠল। এলোমেলো এমনিতে ভারী সভ্য। অন্যায় কাজ কী কী, তা বোঝে, আর বোঝে বলেই অন্যায় করার আগে লোমে-নুয়ে-পড়া ল্যাজটা নেড়ে নিয়ে (ওর মতে ওটা ইংরেজীতে ‘সরি স্যার’ বলার সামিল) বীরবিক্রমে যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে পড়ে। কুকুলের মাত্র তিনমাসের মত বয়েস! কিন্তু সহকারী হিসেবে ওর প্রতিভা অসাধারণ।

প্রথমেই ওরা বেড়ালদের পুরোপুরি প্রবাসী করে দিল ল্যাজ ধরে টেনে টেনে। তারপর হামলা করল জুতোর র্যাকের ওপর। সকালে উঠে দেখলাম তোতা আর পাপু ইস্তিরি-না-করা, হাঁড়ি-থেকে-বার-করা টাইপের ইউনিফরম পরে ইস্কুলে যাচ্ছে। পাপু বলল, “আজ প্রার্থনার লাইন থেকে গীতাদি বার করে দিতে পারেন।” “কেন রে?” “দেখছ না জামা কাপড়ের হাল? ইস্তিরির তার পুরো খেয়ে ফেলেছে-খুণ্ডিমুণ্ডি হয়ে ঐ যে পড়ে আছে।”

সর্বনাশ। তারের যে বড্ড দাম। বলতে-না-বলতে শুনলাম সুধা বলছে, “একী সর্বনাশ, আপনার পরবার জুতো, হায় ভগবান, শুধু হিলটুকু পড়ে আছে। অ্যাঁ! ওকী, শাড়ি ছিঁড়ল কী করে!”

বারান্দার তারে মেলা ছিল, কুকুল দাঁত দিয়ে ধরে ঝুলে-ঝুলে দোল খেয়েছে।

খুঁজেপেতে একটা ছেঁড়া চটি পরে কাজে বেরিয়ে গেলাম। কয়েক ঘণ্টা মোটামুটি শান্তিতে কাটিয়ে বাড়িতে ফিরে বাইরের ঘরে পা দিয়েছি কি দিইনি, মেয়েরা হুড়মুড় করে বেরিয়ে এল। পেছনে সুধা। সকলে একই সঙ্গে কথা বলছে। এদের পায়ের চারধারে ঘুরছে কুকুর দুটো। ঘরের মধ্যে ভাল করে তাকিয়ে দেখি, তুলো উড়ছে, কুশান ছেঁড়া, চেয়ারের ওপরগুলো লন্ডভন্ড।

ওদের কথা, এলোমেলো-কুকুলের ঘেউঘেউ, বাড়িওয়ালার ইলেকট্রিক পাম্প চলার বিকট শব্দ, পাশের বাড়ির মেয়ের ক্ল্যাসিকাল গানের রেওয়াজ, পেছনের বাড়ির স্টিরিওতে পপ্ গান-সব ছাপিয়ে আমার কানে একটা লিস্ট পৌঁছল। লিস্টটা এই রকম-

এলোমেলো সহকারী কুকুলের সঙ্গে একত্রে ছিঁড়েছে দুটো কুশান, দু জোড়া চটি, আধখানা জুতো, ওদের শোবার চট, বেড়ালের বাচ্চা রাখার পিজবোর্ডের বাক্স এবং টুকিটাকি। কুকুল একা তিনবার চৌবাচ্ছা খুলে জল বার করে দিয়েছে। এলোমেলো সেই সময় এক টুকরো সাবান খেয়েছে চেখে-চেখে।

“বলিস কী রে, সাবান খেয়েছে?” এত কিছুর মধ্যে সাবান খাওয়াটা খুব বিপজ্জনক মনে হল। সেই ব্যাকরণ শিঙের ভাই, যে বার-সাবান খেয়ে মরে গিয়েছে, তার মত যদি হয়?

পরের দিন ক্ষয়ক্ষতির লিস্ট ভয়ানক হয়ে দাঁড়াল। গলির মোড় থেকেই শুনতে পেলাম লিস্টটা এইরকমঃ

“মা, তোমার স্ত্রীর পত্রে’র নাট্যরূপ লোপাট, গ্রুপ থিয়েটারের হিসেবের খাতা আধখানা, সাদা ভাল জুতোর শুধু হিল আছে, বাবার চটি-”

“অ্যাঁ? কোন সালের হিসেবের খাতা?”

“বেঁচে গিয়েছ, অনেক আগের খাতা।”

পুপের মুখ দেখলাম ভয়ানক গম্ভীর। বলল, “এসব কিছুই নয়। আসল খবর হল জীবহত্যা হয়েছে।”

“সে কী রে, জেল হবে নাকি শেষে?”

“হতেও পারে। শোনো না ব্যাপারটা। বিকেলে ঐখানটায় দাঁড়িয়ে আছি। কাছেই ফুটপাথের ঘাস খেতে ডাঃ পান্ডাকাকার খরগোশকে মাসীমা ছেড়ে দিয়ে পাহারা দিচ্ছেন! আমি বললাম, মাসীমা, পাড়ায় বহু কুকুর, ওটাকে খাঁচায় রাখাই ভাল। মাসীমা হেসে বললেন, মারলে তোমাদের শয়তান দুটোই মারবে। কথাটা বলেছেন কি বলেননি, পাশ দিয়ে সাদা-কালো কী যেন শোঁ করে বেরিয়ে গেল। বোঝার আগেই দেখলাম এলোমেলোর মুখে খরগোশটা ঝুলছে, ওটা চ্যাঁ-চ্যাঁ করে হাত-পা ছুঁড়ছে। অনেকে চেঁচিয়ে এলোকে ধরতে গেল। সঙ্গে সঙ্গে ও কী করল, তোমার তক্তাপোষের তলায় ঢুকে দুবার ঝাঁকিয়ে ওকে ফেলে দিল-ব্যস, সব শেষ। আটজন লোক পাঁইপাঁই করে ওকে ফলো করে খিড়কি পর্যন্ত এসেছিল-ছিঃ কী দুষ্টু সব কুকুর। তুমি পান্ডাকাকার জন্যে একটা খরগোশ এনে দিও।”

“বেশ তো। যাই, ক্ষমা চেয়ে আসি। কিন্তু কী করা যায়?”

ঠিক করলাম আজ ওদের মেরে ঢিট্ করবো। কুকুল সব বাধা অগ্রাহ্য করে সোফায় হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমোচ্ছিল। ওর কানটা টেনে দিতেই কুঁইমুঁই করে করুণ গলায় ডেকে, চোখ পিটপিট করে চেয়ে, আবার অঘোরে ঘুমিয়ে পড়ল। আমি অন্য কানটা খুব জোরে টানলাম। কোনো সাড়া নেই। একেবারে কুম্ভকর্ণের মাসতুতো ভাই বনে গেল?

এলোমেলো গেল কোথায়? খুঁজে পেলাম ওকে দক্ষিণের বারান্দায়, যেদিকে আমাদের বদরিকা পাখিগুলো উঁচু-পাওয়ালা খাঁচায় থাকে সেখানে।

দৃশ্যটা দেখে রাগ পড়ে গেল। দেখলাম আমাদের খাঁচাতেই যার জন্ম, আরব্য সাগরের মত নীলচে-সবুজ সেই পাখিটা বুড়োবাবা বদরি-পাখিটার গা চুলকে দিচ্ছে। ‘বুড়োবাবা’র বয়েস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর নখ আর ঠোঁট এমন বেড়ে গিয়েছিল যে, আমাকে সাহস করে ‘নেল কাটার’ দিয়ে সব ঠিক করে কেটে দিতে হয়েছিল। পাখিটাকে আর-একজন উড়ে এসে কাওন তুলে তুলে খাইয়ে দিচ্ছে দেখলাম। একজন দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে। খাঁচার মধ্যে তৈরি বাসায় যে বসেছে, সে বোধহয় ডিম দেবে। এই দৃশ্যটাকে মুগ্ধ চোখে চেয়ে-চেয়ে যে দেখছে, সে হল একটু আগের সেই হত্যাকারী-এলোমেলো। চোখের ওপর ঝাঁকড়া লোমের ফাঁক দিয়ে ও এই ভালবাসার ছবি দেখছে আর মাঝে-মাঝে টুক-টুক করে ওর বাহারে ল্যাজটা নাড়াচ্ছে।

আমি যেতেই ও ঘাড় হেঁট করে রইল খানিকক্ষণ। ওর এই একটা ব্যাপার আছে। অন্যায় না-করে পারে না, কিন্তু অন্যায় করার পর বুঝতে পারে ও অপরাধ করে বসেছে। আমি শুধু ‘ছিঃ’ বলে ওকে বেশী করে লজ্জা দেবার চেষ্টা করতেই ও ল্যাজ গুটিয়ে চলে গেল খাটের নীচে। ওখানে ও অনেকক্ষণ বসে ভাববে। তারপর ভুলে যাবে।

পিয়ানো বাজিয়ে একটু মনটা হালকা করব ভেবে যেই একটা সুর বাজিয়েছি, এলোমেলো অমনি খাটের তলা থেকে বেরিয়ে এসে কান নাচাতে লাগল। তারপর মুখে উঁ উঁ আওয়াজ তুলে আকাশের দিকে মুখ করে সে কী গান! বুঝলাম এতদিনের শখের অভ্যেসটাও আমার শেষ পর্যন্ত ছাড়তে হবে। কেন না, ইতিমধ্যে কুকুলও ঘুম ছেড়ে হাই তুলতে তুলতে এসে হাজির। তারপর ওদের মারাত্মক কোরাস গান শুরু হল। নাঃ, ওরা সিরিয়াসলি রেওয়াজ করবে বলেই তো বোধ হচ্ছে।

এর পরের দিন থেকে ওরা ভীষণ সঙ্গীতরসিকের মত ব্যবহার শুরু করল। বটুকদা ওঁর সদানন্দ মুখখানি নিয়ে হাজির হতেই ওরা ওঁকে ঘিরে ল্যাজ নেড়ে নেড়ে বড্ড আদিখ্যেতা করতে লাগল। কে জানে, আবার নবজীবনের গান গাইতে বলছে কিনা। বলা তো যায় না, সব অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া কুকুর। কুকুরের বুদ্ধিতে মানুষের ওষুধের কী ফল ফলেছে তা নিয়ে যখন কোন গবেষণা আজও হয়নি সে-ভাবে।

প্রদ্যোত্‌ আর বটুকদার মধ্যে সবে একটা হাসিখুশির কথা শুরু হয়েছে, ওরা ত্রিকোণ খেলা শুরু করে দিল। খেলাটা এই রকম ভাবে হচ্ছিল-কুকুল যখন বটুকদার হাঁটু ছুঁয়ে লাফিয়ে দূরের খাটে পড়ছে, তখন এলোমেলো  প্রদ্যোতের কোলের ওপর ঝাঁপ খেয়ে নিমেষে বটুকদার হাঁটুর ওপর সার্কাসের সিংহের মত চার-পা জোড়া করে ছুঁয়ে ঝাঁপ দিচ্ছে খাটে। এরকম তিনকোণা ভাবে কয়েকবার ঝাঁপাঝাঁপি হতেই সকলের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। বটুকদার মুখখানা ফ্যাকাশে হয়ে উঠতে ওদের দুজনকে মাথা ঠুকে বারান্দায় বার করে দিয়ে দরজা আটকে দিলাম। বললাম, “বড্ড লাইভলি-না?” বটুকদা গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন। নিচু গলায় বললেন, “একটু বেশী।”

ওমা, সবে গান গেয়ে শুনিয়েছেন বটুকদা-দু’ কি তিন কলি হবে-দড়াম করে দরজা খুলে গেল। চোখগুলো বড়-বড় করে ভীষণ গোমড়া মুখে দাঁড়িয়ে পাপু একটা নতুন জুতো সকলের নাকের সামনে তুলে ধরল-

“দাদার জামাইষষ্ঠীর জুতো, জিভ আর কান খেয়ে ফেলেছে, এখনও পরেনি দাদা। র্যাক থেকে টেনে নামিয়েছে। দিদিভাইয়ের দোষ-জুতো নিচুতে রেখেছিল কেন? তোমরাই বা ওদের ঘর থেকে বার করে দিলে কেন?”

কিছু না বলে উঠে দাঁড়ালাম আর মনে-মনে একটা সিদ্ধান্ত করতে লাগলাম। মনে পড়ল অজিতবাবু বলেছিলেন, যদি খুব তেমন মুশকিলে পড়ি তো উনি একজন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান টিউটর ওদের জন্যে ঠিক করে দিতে পারেন। তিনি ওদের লাঠি না-মেরেই ট্রেনিং দেবেন। সেটা কী করে সম্ভব, দেখার জন্যেও ভাবছি তাঁকে একমাস রাখব। তার আগে আমার নীতিমত দু ঘা লাগাব ঠিক করলাম।

“পাপু, লাঠিটা নিয়ে আয় তো!”

এতক্ষণ ওরা ল্যাজ নেড়ে-নেড়ে জুতো সম্পর্কে সকলের মনোভাব লক্ষ করছিল। লাঠি শুনেই বোঁ করে খোলা দরজা দিয়ে পালাল। হাঁ-হাঁ করে ছেলেপুলেরা ছুটল ওদের পেছনে। খানিকক্ষণ সব চুপচাপ। তারপর ঘরে ছুটে ঢুকল তোতা।

“পিসীকে ফেলে দিয়েছে ওরা। কুকুল পায়ে জড়িয়ে গিয়ে পড়ে যাওয়ায় পিসীর পা মচকে গেছে। এর মধ্যে গোদের মত ফুলেছে।”

পুনপুন দেখলাম সুধাকে ধরে ধরে নিয়ে আসছে। আপিস থেকে সবে ফিরেছে। এখনও ওর জুতোর অবস্থা জানে না। সব শুনে তো বেচারা মাথা চাপড়াতে লাগল, “ইস, এক মিনিটও জুতোটা পরিনি, এত নতুন!” তারপর সুধাকে বলল, “পিসী, অত ব্যাজার মুখ করছ কেন? পা সেরে গেলে আর ব্যথা থাকে না। কিন্তু জুতোর জিভ খেয়ে ফেললে আর জিভ গজায় না।”

কথা দিলাম একটা জিভওয়ালা জুতো ডেমারেজ মিলবে। কিন্তু সুধার পা সম্পর্কে বরং কোন কথা দেওয়া যাচ্ছে না। যা ফুলেছে, ভোগাবে। খোঁড়া না হয়ে গেলে বাঁচি। ওরা ফিরে এল অমায়িকভাবে ল্যাজ নাড়তে নাড়তে। সুধা বলল, “না, না, মারবেন না, ওরা তো শিশু-তায় কুকুর!”

এলোমেলোর ধরনধারণ দেখে মনে হচ্ছে ও শিশু বটে, কিন্তু মূর্তিমান দানবশিশু। কুকুলের ব্যাপার তো আগেই ধরা পড়ে গেছে। বিরাট একটা ষড়যন্ত্র কোথাও আছে বলে মনে হয়।

এরপর থেকে সবাই সব কিছু চোখে-চোখে রাখছে। বেড়ালগুলোর বাচ্চা হয়েছে। কিন্তু তারা ছানাগুলোকে কাছাকাছি কোন খুপরি-টুপরিতে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে ডাক শুনে। পাখিদের ভাবনা নেই। এলোমেলো মন ভাল করতে ওদের খাবার উল্টে দেওয়া ছাড়া তেমন কোন অপকর্ম করে না। টিকটিকি, মাকড়শা, এমন কী আরশোলাগুলো পর্যন্ত আজকাল লক্ষ করছি দেওয়ালের উঁচুর দিকেই থাকে। ইঁদুর, ছুঁচোদের বেপরোয়া চলা ছিল এ-বাড়ির একটা চিরদিনের বদনাম। আজকাল পাশের বাড়ি থেকে মাঝে মাঝে কেবল বোকা প্রজাপতি অথবা বেপরোয়া মাছিদের নিচুতে ঘুরে বেড়াতে দেখি, এবং মরতে দেখি ওদের দুজনের হাঁ-য়ের মধ্যে।

রাত হয়েছে। ঘরে ঢুকে দেখি কী শান্তশিষ্ট পরিবেশ। মেয়েরা ঘুমোচ্ছে, কুকুরা ঘুমোচ্ছে। ভাবলাম আমিও শুয়ে পড়ি হাত-পা ধুয়ে। মনের আনন্দে ‘পাগলা মনটারে তুই বাঁধ’ গানটা গাইতে গাইতে কাজ সারছি। সম্ভবত কুকুলের হাসিহাসি শয়তানের মত মুখখানা মনে পড়ে গিয়েছিল। আর এলোমেলোকে তো দেখলেই ঐ গানটা মনে হয়।

একটু পরে যখন ঘরে ফিরলাম, গাইতে গাইতে চেয়ে দেখি-‘একী, এ যে একেবারে ডাইনীর ফাঁদ পেতে বসেছে। কোথায় ঘুম কোথায় কী। জাগ্রত দৈত্য দাপাদাপি করছে। ঘর সম্পূর্ণভাবে লন্ডভন্ড। বালিশ দুটোকে মাটিতে ফেলে ঠেসে ধরে শিকারীর মত হাবভাব করছে এলোমেলো, আর কুকুল কচি মুরগীর ঠ্যাঙ খাওয়ার মত ‘কুড়মুড়’ করে আমার হাতঘড়িটা খাচ্ছে।

দুটোর চেহারা সত্যিকারের দানোয়-পাওয়া লোকজনের মত। চোখ ঘুরছে, অকারণ দাঁত খিঁচোচ্ছে, ডাকছে। আর সব চাইতে মজা হচ্ছে এই যে, কুকুল ঘড়ি ভাঙার খেলায় যোগ দেবার জন্যে আমাকে মাথা নেড়ে নেড়ে ডাকছে।

ঠিক তখুনি ভীষণ জোরে দরজার বেল বেজে উঠল। পড়িমরি করে ওরা ডাকতে-ডাকতে বাইরের দরজার দিকে ছুটল। মেয়েরা লাফিয়ে উঠল, “বাবা ফিরেছে, বাবা ফিরেছে” বলে।

কায়রো থেকে বাড়ির কর্তা ফিরেছেন। কুকুরদের সঙ্গে পরিচয় না-থাকায় তারা প্রথমে ঢুকতে দিল না। তারপর যখন বুঝল লোকটা নেহাত খারাপ নয়, তখন ছোঁ মেরে ব্যাগটা টেনে নিয়ে ভেতরে চলে গেল চেখে দেখার জন্যে। ধস্তাধস্তি করে মেয়েরা একটা ছাড়ায় তো অন্যটায় ওরা দাঁত বসায়। দেখেশুনে সুভাষবাবু বললেন, “ও বাবা, এগুলো আবার কোত্থেকে এল? দেখতে তো খাসা, কিন্তু একটু দুষ্টু মনে হচ্ছে। কিছু ছিঁড়বে-টিড়বে না তো?”

শুনে সকলে মুখ টিপে-টিপে হাসতে লাগল। পরদিন দেখা গেল, যা যা নীচে রেখে সুভাষবাবু শুয়েছিলেন, তার মধ্যে চামড়া আর কাঠের সবকিছুতে ফুটো-ফাটা। আরও বিপদ হল এই যে, ঐ বিদেশী কাঠের পাইপ টাইপ খেয়ে ওদের দারুণ নেশা হয়ে গেল। আর সেই নেশার আবেগে ওরা আমাদের একমাত্র ভাল কাঠের খাবার টেবিলের গোল মোটা পা খেয়ে ফেলল। মানে সবটা নয়। দাগড়া-দাগড়া করে খাবলিয়ে খেল, ঠিক যেমন করে বাঘ-সিংহরা হরিণ খায় আর কী!

এমন সময় ঘুম থেকে উঠে সুভাষবাবু চোখ রসগোল্লার মত করে বললেন, “এ কী! এরকম সব কে করল? উঃ, ব্যাগের তলাটা এতখানি ফুটো হয়ে গেল রাতারাতি?”

“ওরা করেছে।” বলে পুনপুন তার পুরনো জুতো পরে আপিস চলে গেল গটগট করে। সেদিকে তাকিয়ে-তাকিয়ে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে সুভাষবাবু বললেন, “উঃ কী সাংঘাতিক। এখন আমি পুন্পুুনের মনের অবস্থাটা বুঝতে পারছি। ওদের বেঁধে রাখো তো!”

কিন্তু কুকুর বাঁধা উচিত কি না, তাই নিয়ে মেয়েদের সঙ্গে আমার খুব চোট বেধে গেল। দু পক্ষই যে যার গোঁ ধরে রইলাম। মাঝের থেকে এই হল যে, এলোমেলোরা পুরোপুরি স্বাধীনতা ঘোষণা করে এমন-কী বিছানায় পর্যন্ত শুয়ে থাকতে লাগল। কারুর কথা গ্রাহ্যও করল না। আরও হল কী, খাওয়ার রুচি বদলে ফেলতে লাগল। জুতো ছেঁড়ার ফাঁকে ফাঁকে ওরা দুধের সর বা চিনি মাখানো মাখন-টোস্ট চেয়ে খাবে। চাওয়া মানে হল মল্লযুদ্ধ। প্রয়োজনবোধে খাওয়ার টেবিলে ভর দিয়ে তোমার গায়ে থাবা রেখে বা থাবা দিয়ে ডেকে-ডেকে ঘাড় বেঁকিয়ে, লোমে-ঢাকা চোখে চেয়ে, তোমার গাল পর্যন্ত চেটে দেবে। সর না দিয়ে তুমি তখন নিস্তার পাবে না।

দেখা গেল, আমরা একেবারেই ওদের ফাঁদে পড়ে গেছি। কিন্তু কে এরা? ভাবতে ভাবতে চোখ ঢুলে আসছে। পুপের লম্বা বিনুুনিটার তলার দিক থেকে চুল ছিঁড়ে ছিঁড়ে এলোমেলো নাকি কুকুল খাচ্ছে। খুব তারিয়ে তারিয়ে পুপের কোঁকড়ানো চুলগুলো কুচকুচ করে খেয়ে চলেছে। কে যেন ছাড়িয়ে নিল বিনুনিটা। পুপে ঘুম ভেঙে লাফিয়ে সরে গেল। কিছু কচ্কচ্ করে কে বা কারা যেন খাচ্ছে।

অন্ধকারের ঘোরটা খুব ঘন গাঢ় ধরনের নয়। ছাই-ছাই রঙের অন্ধকার। আমাদের বাইরের ঘরের আলোর সুইচ টিপলাম। জ্বলল না। ঘরের মধ্যে দুদারের দুটো চেয়ারে দু’জন লোক বসে। কাছে আসতে দেখলাম, একদিকে গৌরবাবু আর একদিকে সন্দীপনবাবু। সন্দীপনবাবুর চুলে বছর খানেক কাঁচি ছোঁয়ানো হয়নি-ঘাড় অবধি বাব্রি।

দুজনে সমস্বরে ‘হ্যাঃ, হ্যাঃ হ্যাঃ, হাঃ হাঃ হাঃ, হোঃ হোঃ হোঃ’ করে হাসতে লাগলেন। কিছু জিজ্ঞেস করতে গেলেই হাসি বাড়িয়ে দেন।

তাই সাত-পর্দা গলা তুলে বললাম-

“অন্যায়, অন্যায়! আমাদের অবস্থা কাহিল হয়ে এসেছে। দুটো কুকুর-”

সন্দীপনবাবু একটু ঠোঁট বাঁকিয়ে সায় দিলেন-“আর চারজনও এল বলে। ছিঁট চরিত্রকে একই সঙ্গে খুঁজতে বেরুতে হয়েছিল। ওরাও খুঁজে পাবে।”

আমি আতঙ্কে নীল হয়ে গেলাম। “অ্যাঁ, এরা মানে কারা? ছটি চরিত্র-কী, কারা, কবে, কোথায়? ওরে বাবা।”

গৌরবাবু তু তু তু বলে কী-একটা মন্তর বলে, “আশ্চর্য! একথা শোনেননি? শহর তো গরম। এক ইংরেজী কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছে যে, ছটি জীবজন্তু, জামা প্যান্টালুন পরে একটি শিশু-সাহিত্যিকের সন্ধানে বেরিয়েছে। যে-সব শিশু-সাহিত্যিক বিজ্ঞাপনটা পড়েছেন, এখন তাঁরা সবাই দোর বন্ধ করে জানলার ফুটো দিয়ে সব কিছু অবজার্ভ করছেন।”

“ভয় নেই,” বলে সন্দীপনবাবু লম্বা একগোছা চুল ঠিক করতে করতে বললেন, “অন্য চারটি হল বন্যপ্রাণী। পোষা কুকুরের মত হিংস্র নয়। কুকুররা তো মানুষের কাছে মানুষ, হিংস্র তো হবেই। বন্য-প্রাণীরা খুব অ্যাড্জাস্ট করে থাকবে, দেখবেন।”

“না, না, এ খুব অন্যায়। আমার তো এমনিতেই হাফ্বন্য তিনটে বেড়াল আর পাঁচটা পাখি আছেই। তাছাড়া ঘরে ঘরে যেখানে লেখক-কবি, সেখানে আবার শিশু-সাহিত্যিকের সন্ধান করার অসুবিধে কোথায়? কেবল একজন কেন ছটি বাড়তি চরিত্র নেবে? লীলা মজুমদার, সত্যজিত্‌ রায়-ওঁরাও দুটো-দুটো করে ভাগ করে নিন্ না! তা ছাড়া খরচ? খাওয়াবার খরচ কে দেবে?”

এই সব তর্কে ফাঁসাতে গিয়ে দেখি ম্যাজিশিয়ানতুল্য বন্ধু দুজন উপে গেলেন। একেবারে পলক ফেলতে না ফেলতে।

আমার তো হাত পা কেমন যেন হয়ে যেতে লাগল। কেননা তাকিয়ে দেখলাম, মস্ত মস্ত দুটো হাড় দুজনে মিলে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। চার ঠ্যাঙে জড়িয়ে আহ্লাদীর মত খুশী-খুশী মুখে এলোমেলো কখনও গড়াচ্ছে, কখনও আলতোভাবে হাড়টাকে দাঁতে কাটছে। সাদা লোমে বাদামী রঙ ধরেছে। কু-কু-কু-কু-কু-কুক্কুল্ তো একেবারেই উন্মাদের মত হাড় চিবুচ্ছে-জ্ঞান আছে বলে মনেই হয় না। এগুলো সুভাষবাবু ছেলের হাতে মোয়া হিসেবে ধরিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ আটকে রাখা যায়। ঘরদোর তো মুড়ি-মুড়কির মত হয়ে এসেছে কিনা!

কী পরম আহ্লাদীর মত নিশ্চিন্ত হয়ে শুয়ে গড়াচ্চে ওরা! আরও চারজন আসছে-বন্যপ্রাণী। তারপর ছটি চরিত্র মিলে এক শিশু-সাহিত্যিককে কী জ্ঞান দেবে তারাই জানে। খরচের জন্যে বন্যপ্রাণী-সংরক্ষকদের কাছে একটা দরখাস্ত দিলে রেশন-কার্ড ইস্যু করতে কতদিন লাগবে, তাই ভাবছি!

- – - – - – - – - – - – - – - – - – - – -

দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা, জ্যৈষ্ট, ১৩৮৩ সাল।

বানান অপরিবর্তিত রাখা হল।