issue_cover
x
Bizzare facts

দূষণের কুয়াশা

দূষণে নাজেহাল দিল্লি শহর। কলকাতার দূষণ নিয়েও অনেকে ভাবছেন। কিন্তু ১৯৫২ সালে লন্ডনে যা হয়েছিল, তা এখনও ব্রিটিশদের স্মৃতিতে দগদগে হয়ে আছে। এমনিতেই লন্ডনের দূষণের মাত্রা সেই ১২০০ সাল থেকেই বেশি। ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পর সেটা আরও বাড়ে। কিন্তু ১৯৫২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর মাত্র পাঁচদিন এক অদ্ভুত কুয়াশা যা দূষণ থেকে উদ্ভুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরের উপর। সেই কুয়াশা এমনই ঘন যে তার ফলে এক হাত দূরত্বের জিনিসও স্পষ্ট করে দেখার জো নেই। শুধু রাস্তাঘাটই নয়, বাড়ির ভিতরেও সেই কুয়াশা ঢুকে পড়ে বিপত্তি বাধিয়েছিল।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছিল যে শুধু দেখার অসুবিধেই নয়, মানুষজনের নিশ্বাস নিতেও খুব কষ্ট হচ্ছিল। কুয়াশা যখন কাটল তখন দেখা গেল ওই কুয়াশার জেরে চার হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন। এক লাখেরও বেশি মানুষ গুরুতর অসুস্থ। পরে অবশ্য দেখা যায়, চার হাজার নয়, মৃতের সংখ্যা বারো হাজার। ওই কুয়াশার সমস্যায় ব্রিটিশরা এমন নাজেহাল হয়েছিল যে, কীভাবে দূষণ ঠেকানোর যায় তার নিয়ে তারা ভাবতে বসেছিল। যার ফলশ্রুতি, ১৯৫৬ সালের ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’।



ঘুমের শাস্তি

পড়তে-পড়তে অনেকেরই চোখ ঢুলে আসে। কাজ করতে-করতেও অনেকের চোখে জড়িয়ে আসে ঘুম। আর রাত পাহারায় যারা থাকে, তাদের বহুজনই তো পরিস্থিতি শান্ত দেখলে কোথাও হেলান দিয়ে আলতো করে ঘুমিয়ে নেয়। মনে আছে সুকুমার রায়ের ‘লক্ষ্মণের শক্তিশেল’-এ বিভীষণের সেই ঘুমের বহর? কিন্তু এমন ঘুমের শাস্তি কী? ছোটরা নির্ঘাত কানমলা খায়। বড়দের সাসপেন্ড করা হয় কাজ থেকে। কারও বা চাকরি যেতে পারে।
কিন্তু প্রাচীন রোমে যে শাস্তি দেওয়া হত, তা তোমরা কল্পনা করতে পারবে না। রোমানরা তো ছিলে যোদ্ধা জাতি। ওখানে সেনাপতিরাই রাজ্য শাসন করতেন। এমনকী সেনাবাহিনীর লোকেরাই বড়-বড় কেল্লা বানাতেন। ফলে ওখানে রাত পাহারায় যদি কেউ ঘুমিয়ে পড়ত তার শাস্তি হত চরম। কী রকম?
ওই পাহারাদারকে একটা ফাঁকা জায়গায় দাঁড় করিয়ে তার বন্ধুরা বড়-বড় মুগুর দিয়ে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতেন। এটা করার কারণ হল, ওই পাহারাদারের গাফিলতিতে যদি বর্হিশত্রু আক্রমণ করে তা হলে তো সবাই মারা পড়বে। ‘অতএব যার জন্য আমরা মরতে পারতাম, আমরা সবাই মিলে তাকেই মেরে ফেললাম’, এমনটাই ছিল রোমানদের বিচার।