issue_cover
x
তুতুনের ঘুমের ওষুধ
শেখর বসু

story-16.11.2018-img1

তুতুনের সব ভাল। তুতুন পড়তে পারে, লিখতে পারে, ছড়া মুখস্থ বলতে পারে। ওর দোষ শুধু একটাই। তুতুন না…
তুতুনের মা এইভাবে কারও সঙ্গে কথা শুরু করলে তুতুন বুঝতে পারে, মা কী বলতে চাইছে। ও তখন ছুটে গিয়ে মায়ের মুখের ওপর ছোট-ছোট হাতদুটো চেপে ধরে বলে, ‘‘মা বোলো না, বোলো না।’’
তাই না শুনে মা মুখ টিপে হেসে বলে, ‘‘ঠিক আছে, বলব না, কিন্তু তুমি আর কক্ষনো খাবে না তো?’’
তুতুন দুপাশে মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, ‘‘না’’।
তুতুন কী খাবে না বলছে? বাইরের লোক তখন আর জানতে পারে না। কেউ জিজ্ঞেস করলেও মা বলে না, আর তুতুন তো বলবেই না। ও জেনে গেছে, ওটা খুব লজ্জার ব্যাপার। ও কদ্দিন চেষ্টা করেছে না–খাওয়ার জন্যে, এমন অনেকদিন গেছে যে সারাদিন ও একবারও খায়নি। কিন্তু ঘুমের সময়, একটু না খেলে যে কিছুতেই ঘুম আসে না! ও যখন ঘুমোয়, তখন মা ওর পাশে বসে সেলাই করে, উল বোনে, না হলে শুয়ে-শুয়ে গল্পের বই পড়ে। একদিন তুতুনের দুচোখে যখন খুব ঘুম এসে গেল ও তখন মাকে বলল, ‘‘মা যাও না তুমি আর একটু রান্না করে এসো।’’
মা বলল, ‘‘আর কত রান্না করব? আমার রান্নাবান্না সব শেষ।’’
‘‘তাহলে তুমি ছবি কাকীমার সঙ্গে গল্প করতে যাও।’’
‘‘এত রাত্তিরে কেউ গল্প করতে যায় বুঝি?’’
‘‘তাহলে তুমি ও ঘরে গিয়ে গান শোনো।’’
‘‘বকবক কোরো না তো, ঘুমোও এবার।’’
কী আর করবে তুতুন। ও গড়াতে গড়াতে খাটের এক ধারে গিয়ে মায়ের দিকে পেছন ফিরে শুয়ে পড়ল। তারপর খেতে লাগল।
একটু পরেই শব্দ উঠতে লাগল— চুক-চুক-চুক। শব্দ শুনে মা বলল, ‘‘ ও মা! এইজন্যেই তুমি আমাকে এ-ঘর থেকে তাড়াতে চাইছিলে! বার করো, বার করো, আঙুল মুখ থেকে। বলেছি না, কক্ষনো আঙুল খাবে না।’’
ঘুম-জড়ানো গলায় তুতুন বলল, ‘‘মা, একটু খাই।’’
মা বলল, ‘‘আঙুল খেলে অসুখ করে।’’
‘‘আঙুল তো ধুয়ে নিয়েছি মা।’’
‘‘ধুলেও করে। আর আঙুল খেলে স্কুলে ভর্তি হবে কী করে? ’’
আঙুল খাওয়া না খাওয়ার সঙ্গে স্কুলে ভর্তি হওয়ার কী সম্পর্ক, তুতুন বুঝতে পারল না। ও অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকাতেই মা বলল, ‘‘আঙুল খেলে আঙুল ছোট হয়ে যাবে। আর আঙুল ছোট হয়ে গেলে তুমি পেনসিল ধরতে পারবে না। কলম ধরতে পারবে না। পেনসিল কলম ধরতে না পারলে তুমি লিখতে পারবে না। লিখতে না পারলে তোমাকে স্কুলে ভর্তিই করবে না।’’
তুতুনের ভীষণ স্কুলে যাবার শখ। ওর বন্ধুদের অনেকেই স্কুলে যায়। সবার হাতেই থাকে বইয়ের বাক্স, টিফিন কৌটো, আর কাঁধে লাল-নীল জলের বোতল। এইসব দেখে ওর মনে হয়, বাড়ির পড়াশোনার চাইতে স্কুলের পড়াশোনা অনেক ভাল। সেই স্কুলে আঙুল খাওয়ার দোষে যেতে পারবে না শুনে ওর মন খারাপ হয়ে গেল।
ওকে মন খারাপ করতে দেখে মা বলল, ‘‘তুমি যদি আঙুল না খাও, তাহলে তোমার আঙুল ছোট হবে না। আর আঙুল ছোট না হলে তুমি স্কুলে গিয়ে আর-সকলের মতো লেখাপড়া করতে পারবে।’’
তুতুন একটু চুপ করে উত্তর দিল, ‘‘মা আমি তো আঙুল খেতে চাই না। কিন্তু যেই না ঘুম পায়, অমনি আঙুলটা আমার মুখে ঢুকে যায়। আঙুলটা খুব দুষ্টু।’’
মা হেসে বলল, ‘‘হ্যাঁ তুমি তো আমার সোনামণি, আঙুলটাই দুষ্টু। এক কাজ করো, তুমি এইভাবে ঘুমোও, তাহলে আঙুলটা আর তোমার মুখে যেতে পারবে না।’’ এই না বলে মা পাশবালিশটা তুতুনের দুহাতের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল, ‘‘তুমি এই হাত দিয়ে ওই হাতটা ধরো, মধ্যিখানে থাকল পাশবালিশ। ব্যাস, দুষ্টু আঙুলটা আর তোমার মুখে ঢুকতে পারবে না।’’

আঙুলকে জব্দ করার কায়দাটা তুতুনের খুব ভাল লেগে গেল। ও এক হাত দিয়ে আর-এক হাত ধরে রাখল শক্ত করে। তারপর ঘুমিয়ে পড়ল একসময়। ঘুমিয়ে পড়েছে তো, সেই জন্যে টের পেল না দুষ্টু আঙুলটা কখন আবার ওর মুখের মধ্যে ঢুকে গেছে। জানতে পারল শুধু মা। মা তো আর ঘুমোয়নি, তাই একটু পরেই মা দেখল, তুতুন আঙুল চুষছে। শব্দ উঠছে— চুক-চুক-চুক।
পরদিন বাবা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে এসে বলল, ‘‘তুতুন, এই দেখো তোমার জন্যে একটা ওযুধ নিয়ে এসেছি।’’ ওযুধ দেখে তুতুন অবাক। বাবা রোজ ওর জন্য হয় ক্যাডবেরি, নয় বিস্কুট নিয়ে আসে। আজ ওষুধ কেন?
ওষুধের শিশিটা ও হাতে নিয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করল, ‘‘ওষুধ এনেছ কেন, আমার কি অসুখ করেছে?’’
বাবা বলল, ‘‘না-না, তোমার অসুখ হবে কেন? শুনলাম তোমার আঙুলটা দুষ্টুমি করে মুখে ঢুকে যাচ্ছে। এই ওষুধটা এবার থেকে ঘুমোবার সময় আঙুলে লাগিয়ে দেবে, ব্যাস, আঙুল আর একটুও দুষ্টুমি করতে পারবে না।’’
তুতুন ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারল না। বাবা ওর হাত থেকে ওষুধের শিশিটা নিয়ে আলমারির মাথায় রেখে দিল।
রাত্তিরবেলা তুতুন খাওয়া-দাওয়া সেরে শোবার পরে মা শিশিটা খুলে একটু ওষুধ লাগিয়ে দিল ওর আঙুলে। তুতুন একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল আঙুলটার দিকে। কিন্তু কই, ওষুধ লাগাবার পরেও আঙুলটা জব্দ হল না তো! একটু পরেই ওর ঘুম পেয়ে গেল ভীষণ আর অভ্যেসমতো আঙুলটা মুখে ঢোকাতেই— অ্যা! কী তেতো! কী তেতো!
ওকে ওই রকম করতে দেখে মা হেসে ফেলল। মা হাসতেই তুতুন রেগে গিয়ে বলল, ‘‘তুমি বলেছিলে আঙুলটা জব্দ হবে। আঙুলের কিছু হল না। আমার মুখটাই তেতো হয়ে গেল।’’
মা আঁচল দিয়ে হাসি চেপে বলল, ‘‘ দুষ্টু আঙুলটা তেতো হয়ে গেছে, তুমি আর কক্ষনো ওকে মুখে ঢুকতে দেবে না।’’
তুতুন আঙুলটা দূরে সরিয়ে রাখল। কিন্তু আঙুল মুখে না দিলে যে ওর কিছুতেই ঘুম আসে না!
মা পাশ ফিরে শুয়ে গল্পের বই পড়ছে। তুতুন হঠাৎ খাট থেকে নেমে চুপি-চুপি বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। তারপর বাথরুমে গিয়ে আঙুলটা ভাল করে ধুয়ে ফিরে এল। একটু পরেই শব্দ উঠতে লাগল— চুক-চুক-চুক। মা অবাক হয়ে দেখে, তুতুন অঘোরে ঘুমোচ্ছে আর ওর আঙুল মুখের মধ্যে।
তেতো ওষুধ আঙুলে লাগিয়েও তুতুনের আঙুল খাওয়া বন্ধ করা গেল না। ও ঠিক এক ফাঁকে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে আঙুল ধুয়ে আসবে, না হলে ভেজা তোয়ালেতে আঙুল মুছে নেবে ভাল করে। বোঝানো, বকুনিতেও কোনও কাজ হয় না। আঙুল খাওয়া খারাপ, লজ্জার— এটা তুতুন বোঝে, কিন্তু বুঝেও ও ছাড়তে পারে না। আঙুল না খেলে যে ওর ঘুমই আসে না।

একদিন সন্ধে হতে না হতেই ঝুপ করে বাড়ির সব আলো নিবে গেল। শুধু ওদের বাড়ির নয়, সারা পাড়ার। এক নিমেষে অন্ধকার হয়ে গেল এ-বাড়ি সে-বাড়ি। আলো নিবে গেলে বড়রা সব হায়-হায় করে, কিন্তু তুতুনের বেশ মজাই লাগে। ঘরে-ঘরে মোমবাতি জ্বলে। মোমবাতির আলো কী ভাল! আজও মোমবাতি জ্বলল। অন্যান্য দিন একটা মোমবাতি শেষ হতে না হতেই দেয়ালের আলোগুলো জ্বলে ওঠে দপ করে। আজ কিন্তু আর জ্বলল না। একটা মোমবাতি শেষ হল, দুটো শেষ হল, তিনটে শেষ হল— তাও দেয়ালের আলো জ্বলল না। মা রাগ-রাগ মুখ করে বলল, ‘‘যা গরম! পাখা না চললে তো দেখছি রাতে ঘুমোতেই পারব না।’’
মোমবাতির আলোতেই তুতুন খেল, তারপরে মোমবাতির আলোতেই ঘরে এসে শুয়ে পড়ল বিছানায়।
সকালবেলায় তুতুন ঘুম থেকে উঠে দেখে মায়ের মুখটা আরও রাগ-রাগ হয়ে গেছে। মা সকালে কত আদর করে তুতুনকে, আজ আদর তো করলই না, উলটে শুধু-শুধু ধমক লাগিয়ে দিল ওকে।
ধমক খেলে তুতুনের গলার ভেতরটা ভার-ভার হয়ে যায়, চোখে জল আসে। ও রাগ করে মায়ের সঙ্গে কথাই বলল না অনেকক্ষণ। রাগ কমল দুপুরে চান করে ভাত খাওয়ার পরে।
খাওয়ার পরে ও মায়ের সঙ্গে শোবার ঘরে আসে। এখন গরমকাল, মা তাই ঘরের সব জানলা-দরজা বন্ধ করে পাখা চালিয়ে ঘুমোয়। দুপুরে তুতুনের একটুও ঘুমোতে ইচ্ছে করে না, কিন্তু মা শোওয়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়ে।
আজকেও মা ঘরের দরজা-জানলা বন্ধ করে সুইচ টিপল, অথচ পাখা ঘুরল না। পাখা চলল না দেখে মা রেগে গেল ভীষণ। তারপর নিজের মনেই বলতে লাগল, ‘‘এখনও আলো-পাখা এল না! এইভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে? না ঘুমিয়ে ধুঁকতে-ধুঁকতে কি নেমন্তন্ন খেতে যাওয়া যায়! আজ সন্ধেবেলায় আমি আর অনুদের বাড়িতে যাচ্ছি না।’’

নেমন্তন্ন আর অনুদের বাড়ি— এই দুটো কথা কানে যেতেই তুতুন বলল, ‘‘মা, আজ কি আমাদের অনুদের বাড়িতেই নেমন্তন্ন?’’
মা খবরের কাগজ দিয়ে হাওয়া খেতে-খেতে বলল, ‘‘হ্যাঁ তবে আমি যেতে পারব না। তুমি তোমার বাবার সঙ্গে যেও।’’ অনুদের বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে যাওয়ার কথায় তুতুনের খুব আনন্দ হল, কিন্তু মা যেতে পারবে না শুনে মন খারাপও হয়ে গেল সেই সঙ্গে। মা সঙ্গে না থাকলে তুতুনের কোথাও যেতে ভাল লাগে না।
‘‘মা তুমি কেন যাবে না?’’
মায়ের মুখটা এখনও রাগ রাগ। বলল, ‘‘কী করে যাব? কাল রাত্তিরে ঘুমোতে পারিনি, এখনও পারব না। যা গরম! পাখা ছাড়া এই গরমে কেউ ঘুমোতে পারে? জানলাও খোলা যাবে না, বাইরে লু বইছে।’’
মা শুয়ে-শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছে তখন থেকে। আঁচল দিয়ে গলার ঘাম মুছছে বারবার। মাঝেমধ্যে খবরের কাগজ দিয়ে হাওয়া খাচ্ছে। মায়ের কষ্ট দেখে তুতুনেরও কষ্ট হচ্ছে খুব, কিন্তু ওর তো কিছু করার নেই। অনেক দূরে বসে-বসে সবার বাড়িতে যারা আলো জ্বালায়, পাখা ঘোরায়, তাদের ওপর ওর খুব রাগ হয়ে গেল।
আর রাগ হতেই তুতুনের মাথায় বুদ্ধি এসে গেল একটা। ও আস্তে-আস্তে বলল, ‘‘মা একটা কাজ করবে, তাহলে ঠিক তোমার ঘুম এসে যাবে।’’
মা ওর দিকে তাকাতেই তুতুন বলল, ‘‘তুমি তোমার আঙুলটা খাও, খেলেই ঘুমিয়ে পড়বে।’’
মা হেসে ফেলে বলল, ‘‘যাঃ।’’
তুতুন কিন্তু নাছোড়। ও বারবার একই কথা বলতে লাগল মাকে। অনেকক্ষণ পরে, কিছুতেই ঘুম আসছে না দেখে মা তুতুনের মতো বুড়ো আঙুলটা ঢুকিয়ে দিল নিজের মুখের মধ্যে। মায়ের মুখে আঙুল। শব্দ উঠছে— চুক-চুক-চুক। একটু পরে তুতুন অবাক হয়ে দেখল, মা ঘুমিয়ে পড়েছে।
ঘুম থেকে ওঠার পরে মা আবার আগের মতো হাসিখুশি। মুখে একটুও আর রাগ–রাগ ভাব নেই।
সন্ধেবেলায় অনুদের বাড়িতে গিয়ে খুব মজা করল তুতুনরা। খাওয়াদাওয়াও হল অনেক। তুতুন একাই তিনটে আইসক্রিম খেল। তারপর ওরা বাড়ি ফিরে এল। বাড়িতে আলো জ্বলছে, পাখা ঘুরছে। আলো, পাখা দেখে তুতুনের মা খুব খুশি। তুতুনের বাবা রোজ রাত্তিরে খাওয়ার পরে অঙ্ক কষতে বসে। বাবাদের অফিসে শুধু অঙ্ক কষার কাজ। বাবা অফিসের কাজ বাড়িতেও নিয়ে আসে। আজ তো অনুদের বাড়িতেই নেমন্তন্ন খাওয়া হয়ে গেছে, বাবা তাই বাড়িতে এসেই কাগজ-পত্তর টেনে নিয়ে অঙ্ক কষতে বসে গেল।
তুতুনের ভীষণ ঘুম পেয়ে গিয়েছিল, ও বিছানায় শোওয়া মাত্তরই ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখল তিন-চারটে। তারপর মাঝরাত্তিরে চেঁচামেচি শুনে ওর ঘুম ভেঙে গেল।

মা ওর পাশে শুয়ে আর বাবা দাঁড়িয়ে আছে মেঝেয়। বাবার মুখটা রাগ-রাগ। বাবা মাকে বলল, ‘‘বাড়িতে ঘুমের ওষুধ নেই, তুমি আমাকে আগে বললে না কেন? কাল অফিসে জরুরি মিটিং আছে, রাত্তিরে ঘুমোতে না পারলে খুব মুশকিলে পড়ে যাব।’’
মা একটু মুচকি হেসে বলল, ‘‘তোমাকে আমি যা করতে বললাম, তাই করো না, দেখবে ঠিক ঘুম এসে যাবে।’’
বাবা আরও রেগে গিয়ে বলল, ‘‘তোমার মাথা।’’ তারপর আলো নিবিয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায়।
মা আস্তে আস্তে বলল, ‘‘তখন থেকে তুমি ছটফট করছ, যা বললাম তাই করে দেখো না একবার, দেখবে ঠিক ঘুম আসবে।’’
বাবা এবার আর কোনও উত্তর দিল না। একটু পর তুতুন হঠাৎ শুনতে পেল, কোত্থেকে যেন শব্দ উঠছে— চুক-চুক-চুক। বাবা শুয়ে আছে বিছানার এক ধারে। মনে হচ্ছে শব্দটা ওই দিক থেকেই আসছে। তুতুন গড়িয়ে গড়িয়ে বাবার কাছে চলে গেল, তারপর একটু উঁচু হয়ে দেখল, বাবার মুখে বুড়ো আঙুল, বাবা আঙুল চুষছে চোখ বন্ধ করে।
কিছুক্ষণ পরেই ঘর্ঘর ঘর্ঘর করে বাবার নাক ডাকতে লাগল। তুতুন জানে, বড়রা ঘুমিয়ে পড়লে ওদের নাক ডাকে। নাক যখন ডাকছে, বাবা তখন নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে। নিশ্চিত হয়ে তুতুন নিজের বুড়ো আঙুলটা মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। সবে চুষতে যাবে এমন সময় মায়ের দিক থেকেও একটা শব্দ ভেসে এল— চুক-চুক-চুক।

 

ছবি : সমীর সরকার

||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
তৃতীয় বর্ষ, সপ্তম সংখ্যা, কার্তিক, ১৩৮৪ সাল (অক্টোবর, ১৯৭৭)। বানান অপরিবর্তিত রাখা হল।