issue_cover
x
Featurelist detail

z কলকাতায় ডাইনোসর
অসিত পাল


এই সেই ডাইনোসর, যাকে নিয়ে বহু রূপকথা আর লোকগাথা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৪৭ ফুট লম্বা ও দোতলা বাসের সমান উঁচু এই কঙ্কালটি পাওয়া গেছে ভারতের দক্ষিণ-পূর্বে গোদাবরীর উত্তর তীরে। নদীর তীরে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে ছিল বিস্তর হাড়গোড়। জেলের ছেলেরা ওইসব হাড় নিয়ে খেলাধুলো করত। ১৯৫৮ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটির শ্রীমতী পামেলা এল রবিনসনের নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউট গোদাবরীর তীরে একটি অনুসন্ধানকারী দল পাঠায়। তাঁরা ডাইনোসরের কঙ্কালটির অংশবিশেষ উদ্ধার করেন। ১৯৬০-৬১ সালে আর-একবার অনুসন্ধানের কাজ চলে। প্রচুর হাড় পাওয়া যায় সেবার। তিন ট্রাক ভর্তি হাড়ের ওজন হবে প্রায় দশ হাজার কিলোগ্রাম। হাড় এল কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউটে। ১৯৭৬-এর ডিসেম্বরে শ্রী প্রণবকুমার মজুমদার মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে সব হাড় ঠিক-ঠিক সাজিয়ে বিশালাকৃতি ডাইনোসরের কঙ্কালকে দাঁড় করিয়ে দিলেন। শ্রীমজুমদার মূলত একজন শিল্পী। অনুসন্ধানকারীদের দলে ইনিও ছিলেন। আমেরিকান মিউজিয়ামের প্রখ্যাত পুরাতত্ত্ববিদ ডঃ এডউইন এইচ কোলবার্ট এত অল্প সময়ের মধ্যে কঙ্কালটি জোড়া লাগাতে দেখে অবাক হয়ে যান। এই প্রথম ভারতবর্ষে ডাইনোসরের কঙ্কাল পাওয়া গেল। এর বয়েস হবে প্রায় ষোল কোটি বছর। বিশাল দেখতে হলে কী হবে, ডাইনোসর আসলে ছিল খুব ভিতু প্রকৃতির প্রাণী। মাংস খেত না, খেত শুধু গাছপালা। ডাইনোসরের এই কঙ্কালটির নাম রাখা হয়েছে ‘বরাপাসৌরস টেগোরী’। বরাপাসৌরস মানে বড় পা’ওলা গিরগিটি আর টেগোরী রাখা হয়েছে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীর সময় এটিকে পাওয়া গিয়েছিল বলে।