issue_cover
x
Current Affairs

অঙ্ক কষে ভিনগ্রহীদের গান

অঙ্ক কষতে ভাল লাগে না, এই কথাটা অগ্নিজর মুখে কেউ শুনবে কি কখনও? ১৭ বছরের এই কিশোর অঙ্ক কষতে ভালবাসে বললে কম বলা হয়, বরং যদি বলা হয় সে অঙ্ক কষে ভিনগ্রহীদের গানের অর্থ বের করতে সক্ষম… তা হলে খানিকটা ধারণা করা যেতে পারে। গড়পড়তা কৈশোরের পছন্দ সোশ্যাল মিডিয়া তাই অবলীলায় সরিয়ে রেখে সে বেছে নেয় জটিল অঙ্কের বই। শুধু বেছে নেয় না, বরং নিজে লিখেও ফেলে একটি। ছোটবেলা থেকেই ছেলের যে অঙ্কের প্রতি অদম্য আকর্ষণ তা বুঝতে পেরেই শুভায়ু আর প্রণীতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন ডেভিড ডার্লিং-এর কাছে… বাকিটা ইতিহাস! শিক্ষক আর ছাত্র মিলে ২০১৮তে লিখে ফেললেন আস্ত একখানা অঙ্ক বই, ‘উইয়ার্ড ম্যাথস: অ্যাট দ্য এজ অফ ইনফিনিটি অ্যান্ড বিয়ন্ড’।
এবার আর-একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক, পাঁচ বছর আগের কথা, অগ্নিজর বয়স তখন মাত্র ১২। নিতান্তই কৌতূহল থেকে ‘মেনসা আই কিউ টেস্ট’-এঅংশগ্রহণ করেছিল সে, তারপরেই চমক। আইনস্টাইন এবং স্টিফেন হকিং-এর সমান আই কিউর সর্বোচ্চ স্কোর করে সে। নিজের শহর স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে তখন সে রীতিমতো সেলেব্রিটি। সেই শুরু… অঙ্ক নিয়ে পথ চলা তার আর থামেনি। তারপরের সাফল্য থার্ড ইয়ারে সিক্সথ ইয়ার বোর্ডের অঙ্ক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর করা। আমাদের দেশে ক্লাস সেভেনের কোনও ছাত্র মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষায় একশোয় একশো পেলে যা হবে… ঠিক তাই!
অথচ নিজের স্পেশাল ট্যালেন্ট নিয়ে অহংকার নেই একটুও, বর‌ং আরও বেশি করে সকলের অঙ্কভীতি কাটানো অগ্নিজর লক্ষ্য।
ডার্লিং নিজে ৩৫ বছর ধরে নানারকম পপুলার সায়েন্সের বই লিখে প্রসিদ্ধ। বাকি সময়টা অঙ্ক আর ফিজ়িক্স পড়ান আর অঙ্কের নতুন-নতুন থিওরি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পছন্দ করেন। অগ্নিজর সঙ্গে প্রথম আলাপের সময় তিনি তাকে নিজের লেখা ‘এনসাইক্লোপি়ডিয়া অফ ম্যাথেমেটিকস’ পড়তে দিয়েছিলেন, সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যে বইটা পড়ে ফেরত দেয় সে। শুধু তাই নয়, বইয়ের মধ্যে ছোট-ছোট ভুলগুলোও দেখিয়ে দেয় সে। তারপরেই নড়েচড়ে বসেন ডার্লিং। পরিকল্পনা শুরু হয় ‘উইয়ার্ড ম্যাথস’-এর… তারপর ২০১৮ সালে প্রকাশ পায় এই বই।
এবার ফিরে আসা যাক ওই ‘ইতিহাসে’, থুড়ি বর্তমানে। স্কুলের পড়া শেষ করে অগ্নিজ এখন কেমব্রিজে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, নিয়মিত ডান্ডি আর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কবিদদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে সে। সঙ্গে সঙ্গে চলছে ‘উইয়ার্ড ম্যাথস’- এর সিকোয়েল, ‘উইয়ার্ডার ম্যাথস: অ্যাট দ্য এজ অফ দ্য পসিবল’-এর খসড়া, যা কিনা প্রকাশ পাবে ২০১৯-এ।
বছর দুই বয়সে দেশ ছাড়লেও কলকাতা বেশ প্রিয় অগ্নিজর, নিজেকে সে ‘ভদ্র সভ্য খাদ্যরসিক সংস্কৃতিমনস্ক বাঙালি’ বলতে ভালবাসে। মায়ের হাতের মাছের ঝোল-ভাত তার প্রিয়, আর প্রিয় দুর্গাপুজো। ২০১৪ তে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে মনের মতো করে দেশ ঘুরে নিলেও কলকাতায় আসার ইচ্ছে তার রয়েছেই। তবে আপাতত তার ফোকাস কেমব্রিজ, অঙ্কের আরও গহিন সাগরে ডুব দেওয়ার জন্য।

শ্রেয়া ঠাকুর

dvbottom_bg-624x1951112

মালালা ইউসুফজাই

malala
মালালা ইউসুফজাইকে তো তোমরা সকলেই চেনো। ২০১৪ সালে সবচেয়ে কমবয়সে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারটি জিতেছিলই তো সে। কিন্তু তার পরিচিতি পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল কিছুদিন আগে, যখন স্কুলে যাওয়ার সময় চলন্ত ভ্যানে তাকে লক্ষ করে কয়েকটি বুলেট ছুটে এসেছিল। পাকিস্থানে জন্ম মালালা ইউসুফজাইয়ের একটাই ‘দোষ’ ছিল। সে তালিবানি ফতোয়া না মেনে লেখাপড়া করতে চেয়েছিল। সেজন্যই তাকে ‘শাস্তি’ দিতে চিয়েছিল মৌলবাদীরা। তবে অত সহজে তো সব কিছু রুখে দেওয়া যায় না। স্বাধীনতার স্বপ্নকে তো নয়ই। তাই মালালা গুলিবিদ্ধ হলেও তাকে থামানো যায়নি। বর্তমানে ইংল্যান্ডের বাসিন্দা মালালা। লেখাপড়া করছে দিব্যি। দেশ হয়তো ছাড়তে হয়েছে তাকে। কিন্তু তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববাসী। তার স্বপ্নকে আকার দিতে। তাকে নিয়ে হইহই কম হয়নি। এইটুকু বয়সে এতটা সাহস আর মনের জোর নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে অনেককিছু। এই মুহূর্তে ২০ বছর বয়স মালালা। নিজের দেশে তো বটেই, বিশ্বের সব পিছিয়ে থাকা ছোটদের সে নিজের জীবন বাজি রেখে উৎসাহ দিয়েছে।
এখন নতুন খবরটা হল, সম্প্রতি মালালা ‘মালালা’স ম্যাজিক পেনসিল’ একটি বই লিখে ফেলেছে। একদম খুদেদের কথা মাথায় রেখেই ছবিওলা বইটি প্রকাশিত হতে চলেছে অক্টোবর মাসে। ছেলেবেলায় একটা ‘জাদু পেনসিল’ নামে একটা কার্টুন খুব পছন্দ ছিল মালালার। সেটাই নাকি এই বইয়ের অনুপ্রেরণা। মালালার মা এখন ইংরেজি শিখছেন। টুইটারে জানিয়েছে মালালা, তার মা এই বইটির প্রথম পাঠক। তোমরাও পড়ো নিশ্চয়ই।
মালালার জাদু দীর্ঘজীবী হোক। সব অভাগাদের হাতে যেন উঠে আসে পেনসিল। বেঁচে যাক আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।