issue_cover
x
Current Affairs

ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বা়ড়ির তিনতলা ডুবে গেল জলে

current-affairs-4.9.2019-img1 উত্তর আমেরিকা মহাদেশের একেবারে দক্ষিণে বাহামা দ্বীপপুঞ্জ তছনছ হয়ে গিয়েছে ডোরিয়ান নামে এক বিধ্বংসী হারিকেনের তাণ্ডবে। বাহামায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি করার পর ডোরিয়ান ফ্লোরি়ডার পূর্ব উপকূলে এসে পৌঁছেছে গতকাল, সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ সন্ধেবেলায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম বাহামার অ্যাবাকো ও গ্র্যান্ড বাহামায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। বহু বা়ড়ির তিনতলা পর্যন্ত ডুবে গিয়েছে জলের তলায়। ছ’ফুট জলের তলায় ডুবে আছে গ্র্যান্ড বাহামা বিমানবন্দর। বাহামায় ভেঙে পড়েছে হাজার-হাজার বাড়ি। পানীয় জল খেতে পাচ্ছেন না ৬২০০০-এরও বেশি সংখ্যক মানুষ। ঝড় আমেরিকার ভিতরের দিকে ঢুকছে দেখে ইতিমধ্যেই ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলিনার ২০ লক্ষ বাসিন্দাকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলে সতর্ক করা হয়েছে। গতকালই রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে জরুরি ভিত্তিতে খাবার ও চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে বিপর্যস্ত এলাকাগুলোয়

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস, উড়ছে ভুয়ো ছবি

ব্রাজ়িলের আমাজ়ন বর্ষাঅরণ্যকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। বেঁচে থাকার জন্য বাতাসের যে অক্সিজেন আমাদের প্রয়োজন, তার ২০%-ই জোগায় এই অরণ্য। সেই ফুসফুসেই লেগেছে আগুন। গত তিন সপ্তাহ ধরে দাবানলের প্রকোপে একটু-একটু করে ভস্মীভূত হচ্ছে জঙ্গলের বিস্তীর্ণ এলাকা। খুব বড় জঙ্গলে দাবানল ভয়ানক অস্বাভাবিক কোনও ঘটনা নয়। প্রাকৃতিক নানা কারণে, যেমন ঘন-ঘন বজ্রপাতের জেরে জঙ্গলে আগুন লাগে। কিন্তু এবারের এই দাবানল নিয়ে এত আলোচনা কেন, তা বোঝা যাবে স্রেফ দুটো পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে। প্রথমত, গত বছর, অর্থাৎ ২০১৮ সালে ব্রাজ়িলে দাবানলের সংখ্যা ছিল ৩৯,৭৫৯টি। ২০১৯-এর মাত্র আট মাসেই সেখানে দাবানল ঘটেছে ৭৫,০০০-এরও বেশি! আর দ্বিতীয়ত, মাত্র আট মাসে এত বেশি সংখ্যক দাবানলের ঘটনা সেই ২০১৩ সালের পর আর কখনও হয়নি।

ঘটনায় অন্য মাত্রা যোগ করেছেন ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, জঙ্গল কেটেকুটে কলকারখানা বসানো, বাড়িঘর তৈরির ইচ্ছে নাকি তাঁর বহু দিনের। কিন্তু ব্রাজ়িলের এই অরণ্য যে সারা পৃথিবীতেই অক্সিজ়েন জোগান দেয়, সেকথা বুঝতে তিনি নাকি নারাজ। মাত্রাছাড়া দাবানলের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ন়ড়েচড়ে বসেছেন সারা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ উদ্বেগ প্রকাশ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আলোচনায় বসতে বলেছেন।

সবশেষে পড়ে থাকে আমাদের কথা। আমরা তো আর দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নই। আমরা আজকাল মুখোমুখি কারও সঙ্গে কথা বলি কম আর বেশি বলি সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বর্ষাঅরণ্যে দাবানলের বহু পুরনো এবং ভুয়ো ছবি। মানুষ সেই ছবি শেয়ার করে একে অন্যের সঙ্গে দাবানলের খবর ভাগ করে নিচ্ছেন, প্রার্থনা করছেন অরণ্যের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে। উদ্দেশ্য সৎ, সন্দেহ নেই। তবে আমাদের প্রিয় গ্রহের এই দুঃসময়ে যখন কার্বন ডাইঅক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে মহাদেশ আর মহাসমুদ্রের আকাশ, এই দুর্যোগের দিনে ঘরে বসে-বসে কোনও খবর আর ছবি-ই আমরা যাচাই না করে শেয়ার করব না, এটুকু অঙ্গীকার কিন্তু আমরা করতেই পারি।

চিত্রসৌজন্য : বিবিসি