issue_cover
x
Current Affairs

আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পুণের ন’বছরের ছেলে

current-affair-big-img
গত ৩১ জুলাই, মাত্র ন’বছর বয়সে আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করল পুণের ছেলে অদ্বৈত ভারতিয়া। তানজানিয়ার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ, সমুদ্রতল থেকে যার উচ্চতা পাঁচ হাজার ৮৯৫ মিটার। ওই শৃঙ্গে পৌঁছতে অদ্বৈতর সময় লেগেছে সাতদিন।

বলাই বাহুল্য, কাজটা সোজা ছিল না। অবিশ্বাস্য এই কীর্তি স্থাপনের আগে প্রায় দু’মাস নানা প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে অদ্বৈতকে। ঘণ্টাখানেক সাঁতার কাটার পাশাপাশি কার্ডিয়োভাস্কুলার ট্রেনিংয়ের জন্য ক্রিকেট, ফুটবল এবং টেনিসও খেলত সে। প্রতিদিন নাকি ১০০ তলা সিঁড়ি ভেঙে উঠত একরত্তি ছেলে। শুনলে অবাক হবে, এর আগে মাত্র ছ’বছর বয়সেই অদ্বৈত মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। এবার কিলিমাঞ্জারো জয়ে তার সঙ্গী ছিলেন অভিযানের নেতা, সমীর পাঠান। ছিলেন অদ্বৈতর মা, পায়েল ভারতিয়া-ও। তবে পাহাড়ের প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না-পারায় শেষমেশ পায়েল অদ্বৈতর সঙ্গে কিলিমাঞ্জারোর শীর্ষ ছুঁতে পারেননি।

এভারেস্ট আর কিলিমাঞ্জারোর পর এবার অদ্বৈতর লক্ষ্য, ইউরোপের এলব্রুস পাহাড়। সংবাদমাধ্যমকে সে জানিয়েছে, ‘‘এবারের ট্রেকটা খুব কঠিন এবং একইসঙ্গে খুব মজার ছিল। এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে যাওয়ার সময় আমরা কাঠের বাড়িতে থাকতাম। কিন্তু কিলিমাঞ্জারোয় ট্রেক করতে গিয়ে তাঁবুতে থাকতে হয়েছে। ফলে খোলামেলা জায়গায় বরফটরফের মধ্যে থাকতে খুব ভাল লেগেছে।’’

ক্যানসার নিরাময়ে কলকাতার ছেলে

current-affair02

কলকাতার ছেলে শ্রেয়ান চৌধুরী সেন্ট জেমস স্কুল থেকে লেখাপড়া করে আমেরিকা গিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ট্যাল ডানিনো এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিকোলাস আরাপাইয়ার তত্ত্বাবধানে শ্রেয়ন গবেষণায় নিযুক্ত ছিলেন। ক্যানসার নিরাময়ের সেই গবেষণাতেই তাঁরা পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। আমাদের পরিবেশে যত ব্যাক্টেরিয়া আছে, তাদের মধ্যে কিছু আমাদের উপকারেও লাগে, জান নিশ্চয়ই? শ্রেয়নরা এমন বুদ্ধি করেছেন যাতে অমন কিছু নিরীহ ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুকে জুড়ে দিয়ে ব্যাক্টেরিয়াদের ক্যানসারে আক্রান্ত কোষে পাঠানো যায়। একবার সেখানে পৌঁছে গিয়ে ব্যাক্টেরিয়াদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকলে একসময় ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু ভেঙে যায়। ক্যানসার যেখানে বাসা বেঁধেছে, সেখানে এতক্ষণ রুগির দেহের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করতে পারছিল না। কিন্তু বাইরে থেকে ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে পাঠানো ওই অণু ভেঙে গেলে তখন তার প্ররোচনায়, আমাদের দেহের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাই আক্রমণ করে ক্যানসারে আক্রান্ত কোষকে। শ্রেয়নরা আপাতত ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে সাফল্য পেয়েছেন। মানুষের উপর পরীক্ষা এখনও বাকি। ক্যানসারের চিকিৎসা আজ সম্ভব হলেও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রুগির নানা রকম অসুবিধে হয়ে থাকে। শ্রেয়নদের পরীক্ষা সফল হলে অমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দুশ্চিন্তাও আর থাকবে না। ফলে সব মিলিয়ে তাঁদের এই পরীক্ষা যে ক্যানসার নিরাময়ে নতুন এক দিগন্তের সন্ধান দিল, সেকথা বলাই যায়।