Category Archives: নিজের হাতে

কোলাজ করে বানাও সাগরতল


উপকরণ: কাগজ, আঠা, কাঁচি ও অ্যাক্রিলিক রং।

কীভাবে বানাবে: ১। কোবাল্ট নীলের সঙ্গে সামান্য কালো আর ছিটেফোঁটা লাল রং মেশাও।
২। এবার একফালি কাগজে তা সপসপ করে মাখিয়ে নাও।
৩। রং খানিকটা শুকিয়ে গেলে তুলিতে জল নিয়ে ছিটিয়ে দাও। এবার একটা পরিষ্কার কাপড় নিয়ে তাতে আলতো করে চাপ দাও। দেখবে বেশ মজাদার টেক্সচার তৈরি হয়েছে।
৪। এবার ছবি অনুযায়ী অন্য একটা কাগজ ভিজিয়ে তাতে লাল, নীল, সবুজ রং পাতলা করে গুলে ছাড়তে থাকো। দেখবে কী দারুণ কাণ্ড! একটা রং অন্যের সঙ্গে মিশে যাবে।
৫। এমন একটা রংবাহারি কাগজে বেশ কিছু সামুদ্রিক প্রাণী এঁকে ফেলো। পরে কাঁচি দিয়ে সেগুলো কেটে আঠা দিয়ে নীল কাগজের উপর আটকে দাও।

 

ব্যস, তোমার চোখের সামনে সমুদ্রের তলার দৃশ্য যেন জ্যান্ত হয়ে উঠে আসবে তক্ষুণি।

গুরুপ্রসাদ দে

জগন্নাথ তাস

উপকরণ: মাউন্টবোর্ড, কম্পাস, কাঁচি, পেনসিল, অ্যাক্রিলিক রং।
 

কীভাবে বানাবে: বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প দশাবতার তাস। তোমরা যে তাসটির ছবি দেখছ, সেখানে আছে জগন্নাথের ছবি। সাধারণ তাসের মতো আয়তকার এটি। গোলাকার। বানানো মোটেই কঠিন নয়।
 

পর্যায়: ১। কম্পাসে বৃত্ত এঁকে মাউন্টবোর্ড থেকে গোলাকার অংশ কেটে নাও।
২। এবার ছবি দেখে ওতে জগন্নাথের ছবি এঁকে ফেলো।
৩। এর পর সেটা রং করে নাও।
 

যদি তোমরা বিষ্ণুর দশ অবতারের নাম ও কাহিনি জান, তবে তো কথাই নেই। বাকি ন’টা তাসে নিজের মতো করে এঁকে ফেলো নয় অবতার। তবে বলে রাখি, ওড়িশার পটের প্রভাবের জন্য এখানে বুদ্ধের বদলে জগন্নাথের ছবি আঁকা হয়ে থাকে। হয়ে গেলে ফ্রেমে বাঁধিয়ে ঘর সাজাতে পার বা স্বজনদের উপহার দিও। কীভাবে ভারতের ঐশ্বর্যময় ঐতিহ্যের অংশ হয়ে যাবে, নিজেও জানবে।

হাতি ও সিংহ

উপকরণ: রুলটানা কাগজ, স্কেচপেন, প্যাস্টেল রং, কাঁচি, মাউন্টবোর্ড, আঠা।

কীভাবে করবে:

তিনটে সমান মাপের রুলটানা কাগজ নাও। রুলটানা কাগজের একটায় সিংহ, আর-একটায় হাতি আঁকো ও শেষটায় কালো রং করে দাও। হাতি ও সিংহের ছবির একপ্রান্ত থেকে খাড়া রেখাগুলো কাঁচি দিয়ে কাটতে থাকো। কিন্তু অপরপ্রান্ত যেন কেটে ফেলো না। ওটা ছেড়ে রাখো। কালো রং করা কাগজের দু’প্রান্ত ছেড়ে মাঝের অংশের রেখাবরাবর কেটে ফেলো। এক্ষেত্রে ধারালো ছুরি ও স্কেলের দরকার হবে। ফলে বড়দের সাহায্য নিয়ো। এবার একটা মাউন্টবোর্ড নিয়ে তাতে আঠা মাখিয়ে দাও। এবার হাতি ও সিংহের ফালি ১-১, ৩-৩, ৫-৫ পর্যায়ে অর্থাৎ হাতি ও সিংহের ফালির প্রথম দুটো পাশাপাশি আবার দুয়েরটা ছেড়ে তিনের দুটো পাশাপাশি রাখো। এভাবে পুরো ফিগারটা আঠা লাগানো মাউন্টবোর্ডের উপর সাজিয়ে ফেলো। কালো রং করা কাগজের একটা ছেড়ে একটা ফালি কেটে ফেলো। পুরো কাটিংটা যেন জানলার গরাদের মতো দেখায়। এবার এই কালো কাটিংটা দিয়ে মাউন্টবোর্ডের হাতির ফালিগুলো ঢেকে দিলে গরাদের পিছনে সিংহ দেখা যাবে আর একইভাবে সিংহ ঢেকে দিলে হাতি। দারুণ না?

গুরুপ্রসাদ দে

গম্ভীরা নাচের মুখোশ


উপকরণ: মাউন্টবোর্ড, কাঁচি, পেনসিল, অ্যাক্রিলিক রং ও সুতো।

কীভাবে করবে:

মালদহের প্রাচীন লোকনৃত্য হল গম্ভীরা। গম্ভীরা শিবের এক নাম। সেই থেকেই এই নামকরণ। চৈত্র সংক্রান্তিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। নাচের সময় নাচিয়েরা মুখে শিব ও কালীর মুখোশ পরে থাকেন। আজ তোমাদের জন্য এই মুখোশ তৈরির টিপ্‌স থাকল। এই মুখোশ তৈরি হয় কাঠে। তবে মাউন্টবোর্ড দিয়েও এটা বানাতে পার। প্রথমে মুখোশের আদলে মাউন্টবোর্ডে পেনসিল স্কেচ করে নাও। তারপর রং করো। এবার দু’পাশে সুতো পরিয়ে দিলেই মুখোশ তৈরি।

ডোকরা ঘোড়া


উপকরণ: মাটি অথবা সিন্থেটিক ক্লে, অ্যাক্রিলিক রং, টোন সুতো, আঠা।

কীভাবে করবে:

ছবিতে যে ঘোড়াটা তোমরা দেখছ সেটা বাঁকুড়ার বিকনা গ্রামের। এই ঘোড়াটা ডোকরা পদ্ধতিতে তৈরি। ঢোকরা ধামার বাংলার এক প্রাচীন উপজাতি। এরা ধাতু গলিয়ে হাতি, ঘোড়া, দেবদেবী ইত্যাদি তৈরি করত। তাদের নামেই তাদের এই পদ্ধতি ও কাজকে ঢোকরা বা ডোকরা বলা হয়। তাদের নামেই তাদের এই পদ্ধতি ও কাজকে ঢোকরা বা ডোকরা বলা হয়। এই পুতুলের আদল সহজভাবে দেখলে কিছু চোঙ আর শঙ্কু আকৃতি পাবে। এবার সেগুলি মাটিতে বানাও ও পরস্পর জুড়ে ঘোড়ার আকৃতি দাও। বাঁকুড়ার ডোকরা পুতুলের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলেও এর গায়ে জড়ানো সুতোর চিহ্ন। এইটা তারা ধুনোরও ও মোমের মিশ্রণের সুতো দিয়ে করে। তোমরা এক্ষেত্রে টোন বা টোয়াইন সুতো ব্যবহার করতে পার। সুতো দিয়ে করে। তোমরা এক্ষেত্রে টোন বা টোয়াইন সুতো ব্যবহার করতে পার। সুতো দিয়ে পুরো ঘোড়াটা জোড়া হয়ে গেলে একে খুশিমতো রং করে দাও।

বানাও কাগুজে বিড়ালের মুখ

উপকরণ: চৌকো সাদা কাগজ, টিপ ও স্কেচপেন।

 
কীভাবে বানাবে: খুব সহজে সামান্য জিনিসে একটা বিড়াল বানানোর কৌশল শিখে রাখো। একটা চৌকো সাদা কাগজকে কোনাকুনি সমানভাবে ভাঁজ করো। দ্যাখো, এভাবে তোমরা একটা ত্রিভুজ পেয়ে যাবে। এবার ত্রিভুজের ভূমির মাঝবিন্দু থেকে ডান-বাম দুই প্রান্তকে উপর দিকে মুড়ে দাও। তারপর ত্রিভুজের মাথার প্রান্তটি নীচের দিকে মুড়ে দাও। মুড়ে দেওয়া দিকের বিপরীতে দেখো, বিড়ালের মুখের আদল পেয়ে যাবে। শেষে টিপ দিয়ে দু’টি চোখ আর স্কেচপেন দিয়ে নাক ও ঠোঁট এঁকে দিলেই তৈরি বিড়ালের মুখ। গোঁফ দিতে ভুলো না।

স্টিমার

উপকরণ: চ্যাপ্টা ধূপের বাক্স, শেভিং ক্রিমের বাক্স, দেশলাইয়ের বাক্স, সুতোর রিলের ভিতরের চোঙ, ব্রাউন পেপার এবং অ্যাক্রিলিক রং।

 
কীভাবে করবে: ধূপের চ্যাপ্টা বাক্সটা হল স্টিমারের মূল আদল। এর উপরের তলার আদল আনতে শেভিং ক্রিমের বাক্স ছবি দেখে কেটে নাও। তারপর আঠা দিয়ে মূল ধূপের বাক্সের উপর বসিয়ে দাও। তার উপরে দেশলাইয়ের বাক্স বসাও। এবার ব্রাউন পেপার কেটে ভাঁজ করে ধূপের বাক্সের একপ্রান্তে স্টিমারের সুচালো দিকের মতো আকৃতি বানাও। এবার নিজের খুশিমতো চোঙ ও অন্যান্য আকৃতিগুলো বিভিন্ন জায়গায় এমনভাবে জুড়ে দাও, যাতে শেষে গোটা চেহারাটা একটা স্টিমারের মতো দেখতে লাগে। সুবিধের জন্য ছবি দেখে নাও। শেষে সুন্দর আর পরিচ্ছন্ন রং করে দাও। তবে খ‌েয়াল রেখো, আঠা যেন ঠিকঠাক শুকিয়ে যায়। না হলে স্টিমার অচিরেই ভেঙে যাবে। সাজিয়ে রাখো বা উপহার দাও প্রিয়জনকে।

পরার নয়, এটা সাজানোর মুখোশ


উপকরণ: বাতিল হওয়া প্লাগের ভিতরের অংশ, দেশলাই বাক্স।

কীভাবে করবে: আমাদের চারপাশে পড়ে থাকা অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে ভালভাবে খুঁজলে দারুণ মজার সব রূপ পাওয়া যায়। তেমনি বাতিল হয়ে যাওয়া একটা প্লাগ নাড়াচাড়া করতে গিয়ে ওর ভিতরে মানুষের মুখের আদল খুঁজে পাওয়া যায়। একটা ফ্রেম দেওয়ার জন্য একে একটা দেশলাই বাক্সের মধ্যে আটকে দেওয়া হল। দৃশ্যে একটা মজা আনতে একই রকম আর-একটা মুখসমেত বাক্স এনে দুটোকে পাশাপাশি রাখলাম। এর পর এদের একটা বেসের উপর বসিয়ে দিলাম। এবার ইচ্ছেমতো রং করে নেওয়ার পালা। দেখো যত ভাল সাজাতে পারবে, মুখোশদুটো তত আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

এরোপ্লেন

Nijer-Hate-img2-jj
উপকরণ: ধূপের বাক্সের চোঙ, মাউন্টবোর্ড, হোমিওপ্যাথি ওষুধের দুটো শিশি, অ্যাক্রিলিক রং ও কাঁচি।

কীভাবে করবে: ধূপের বাক্সের ভিতরের চোঙটা হবে এরোপ্লেনের মূল বডি। এর উপরে এরোপ্লেনের ডানার মতো একটা আকৃতি মাউন্টবোর্ড থেকে কেটে নিয়ে এর উপর আটকে দিতে হবে। ডানার নীচে দু’দিকে হোমিওপ্যাথি ওষুধের দুটো শিশি আটকে দাও। এবারে প্লেনের শেষ প্রান্তটিও মাউন্টবোর্ড থেকে অংশ কেটে বানিয়ে নাও। আর এরোপ্লেনের মাথার দিকে গোলাকার কিছু একটা জুড়ে দাও। শেষে গোটা আকৃতিটাকে পছন্দমতো রং করে নাও।

বেলুন বানাও, বেলুন ওড়াও


উপকরণ: রঙিন কাগজ, কাঁচি, আঠা।
 
কীভাবে করবে: ছবিতে দেওয়া এই বালবের আকারের তিনটে সমমাপের অংশ কাগজে থেকে কেটে নিতে হবে।

bullet37এবার তিনটে খণ্ডকেই মাঝবরাবর ভাঁজ করতে হবে ও ছবি অনুযায়ী আঠার সাহায্যে পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে দিতে হবে।
 
bullet37এভাবে বেলুন তৈরি হয়ে যাবে। তবে এ বেলুন তো সাধারণ বেলুন নয়। এ তো মানুষকে নিয়ে আকাশে ওড়া বেলুন।
 
bullet37এ তো মানুষকে নিয়ে আকাশে ওড়া বেলুন। তাই এবার মানুষের বসার জায়গাটা বানাতে হবে।
 
bullet37এর জন্য শুধু একটা ছোট চোঙ বানালেই চলবে।
 
এর পর সরু চারফালি কাগজের সাহায্যে চোঙ ও বেলুনকে পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে দিলেই কাজ শেষ।