Category Archives: Current Affairs

এবার শব্দের ছোঁয়াতেই তৈরি হবে বাষ্প

জল ফুটে তৈরি হয় বাষ্প, অনেক সময়ে তাপের প্রভাবে জলের উপরিভাগ থেকেও বাষ্প তৈরি হয়ে মিশে যায় বাতাসে। তবে এতদিন পর্যন্ত যে-কোনও উপায়েই জল থেকে বাষ্প তৈরিতে তাপের ভূমিকা ছিল অপরিহার্য। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক পরীক্ষায় প্রমাণ করেছেন যে, তাপপ্রয়োগ ছাড়াও জল থেকে বাষ্প তৈরি সম্ভব। সেক্ষেত্রে বাইরে থেকে শব্দের প্রয়োগ করতে হবে। জলের তলার নানা কার্যকলাপ পরীক্ষা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এক তীব্র আওয়াজের হদিশ পেয়েছেন। এই শব্দ সমুদ্রের তলার কোন ভূমিকম্পের ফল নয়, এটি উচ্চচাপে তৈরি একটি ছোট্ট ওয়া়টার জেট, যার বেধ আমাদের একটি চুলের বেধের অর্ধেক। প্রায় ২৭০ ডেসিবেলের এই শব্দ মানুষের কানে ধরা দেয় না, কিন্তু এর বিধ্বংসী ক্ষমতা জলের সংস্পর্শে এসে জলকে বাষ্পে পরিণত করতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশা, আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে এই শব্দপ্রবাহকে চালনা করলে জলকে ফোটানোও যেতে পারে। জলের তলায় বিভিন্ন শব্দের প্রভাবে কীভাবে বিভিন্ন অণুর পরিবর্তন ঘটে, এই আবিষ্কার সেই বিষয়ে আরও গবেষণায় সাহায্য করবে।

‘দৈত্য’দের হাতে তৈরি বিশাল পাথরের জার

দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট দেশ লাওস। সেই লাওসের জিয়াংখুয়াং প্রদেশের এক জঙ্গলে অভিযান চালাচ্ছিলেন একদল ন়ৃতত্ত্ববিদ। সেখানে তারা খুঁজে পেলেন প্রায় ১০ফুট লম্বা পাথরের বিশাল জার। সংখ্যায় যা একশোরও বেশি। কিন্তু কী কাজে ব্যবহার হত এই জারগুলো? ওই একই জায়গা থেকে পাওয়া গিয়েছে প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো কবরও। তাই নৃতত্ত্ববিদরা মনে করছেন, মৃ়তদেহকে এই জারে ভরেই কবর দেওয়া হত। তবে এই বিশাল জারগুলো কারা বানিয়েছিলেন, সে বিষয়ে গবেষকরা এখনও অন্ধকারেই রয়েছেন, তবে যাঁরা এই দৈত্যাকৃতি জার বানিয়েছিলেন, তাঁরা যে খুব একটা দুবলা-পাতলা ছিলেন না, এ কথা বলাই বাহুল্য। তবে এই ধরনের জারের হদিশ আগেও পাওয়া গিয়েছিল লাওসেরই অন্য এক অঞ্চলে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে ফিরলেন না দুই বাঙালি

CURRENT-AFFAIRs-img1 বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা জয় করতে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হল না কলকাতার দুই বাঙালির। অভিযাত্রী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই বাঙালির মৃত্যু হয়েছে আর সেই সঙ্গে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন চিলে থেকে আসা এক পর্বতারোহী। জানা যাচ্ছে, ইন্দো-নেপাল সীমান্তে ৮৫৮৬ মিটার উঁচু শৃঙ্গজয়ের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল পাঁচ সদস্যের একটি দল। এঁদের মধ্যে বিপ্লব বৈদ্য (৪৮) শৃঙ্গজয় করে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে মারা যান। কুন্তল কাঁড়ার (৪৬) নামের অন্য এক অভিযাত্রী শৃঙ্গে ওঠার আগেই অসুস্থ হয়ে মারা যান। পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে সমুদ্রতল থেকে আট হাজার মিটারের উপরে উঠলেই বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ এত কমে যায় যে নিশ্বাস নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মৃত দুই অভিযাত্রীও অক্সিজেনের অভাবেই মারা গিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বছরের এই সময়টা আবহাওয়া মোটামুটি পরিষ্কার থাকায় সারা বিশ্বের উঁচু-উঁচু সব পর্বতশৃঙ্গে পাড়ি দেন বহু মানুষ। আপাতত অভিযাত্রী দলের তরফে জানানো হয়েছে, মৃত দুই অভিযাত্রীর দেহ তাঁরা নিরাপদে নীচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এর আগে ২০১৪ সালে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে গিয়েই মারা গিয়েছিলেন বাঙালি অভিযাত্রী ছন্দা গায়েন।

সাগরের গভীরতম বিন্দুতেও প্লাস্টিক!

CURRENT-AFFAIRs-img2 পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সমুদ্রখাতের গভীরতম বিন্দুতে নেমে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন আমেরিকান অভিযাত্রী ভিক্টর ভেসকোভো। গত তিন সপ্তাহে অন্তত চারবার সাবমেরিনে চেপে প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাতে নেমেছিলেন ভিক্টর। চারবারের চেষ্টায় তিনি পৌঁছন সমুদ্রের প্রায় ১০,৯২৮ মিটার গভীরতায়। মারিয়ানা খাতের গভীরতা ১১,০০০ মিটারের কাছাকাছি। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা সেখানে ৯০০০ মিটারের কাছাকাছি। মানে আস্ত মাউন্ট এভারেস্টটাকে যদি উলটো করে মারিয়ানা খাতে ঢোকানোর চেষ্টা করো, তা হলেও খাতের বেশ খানিকটা জায়গা ফাঁকা থেকে যাবে। তা যাই হোক, সেই খাতের ওই গভীরতম বিন্দু, যাকে ‘চ্যালেঞ্জার্স ডিপ’ বলেই সারা বিশ্ব জানে, সেখানে তো ভিক্টর পৌঁছলেন। মানুষের অচেনা নানা প্রাণীও দেখতে পেলেন। কিন্তু সঙ্গে দেখতে পেলেন প্লাস্টিক আর ধাতুর টুকরো! আর তাতেই মন খারাপ হয়েছে ভিক্টর ভেসকোভোর। মন খারাপ হওয়া উচিত আমাদেরও, কারণ সমুদ্রকে এভাবে দূষিত করে তুলেছি এই আমরাই। দিনের পর-দিন ক্ষতিকর বর্জ্য আর প্লাস্টিক যথেচ্ছভাবে সমুদ্রে ফেলার কারণে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়েছে। হয়ে চলেছে এখনও। বিশ্ববাসীর প্রতি ভিক্টরের তাই আর্জি, দূষণ কমান। সমুদ্রকে রক্ষা করতে না শিখলে প্রকৃতিও আমাদের চিরকাল রক্ষা করতে পারবে না, এই তাঁর আশঙ্কা। যা একেবারে অমূলক নয়।

আবহাওয়া নিয়ে চিন্তিত আয়ারল্যান্ড

আবহাওয়ার বদলে যাওয়া নিয়ে চিন্তা না করে আমাদের আর উপায় নেই। সারা বিশ্ব জুড়ে দ্রুত পালটে যাচ্ছে আমাদের চেনা নীল গ্রহের আকাশ-বাতাস, বিষিয়ে উঠছে পৃথিবীর নদী-নালা-গাছগাছালি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, বিশ্বে প্রথমবারের জন্য, ২০১৯ সালের মে মাসের এক তারিখ ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আবহাওয়া সম্পর্কিত জরুরি অবস্থার কথা ঘোষণা করেছিল। সেই তালিকায় দ্বিতীয় দেশ হিসেবে নাম লেখাল আয়ারল্যান্ড। সেদেশের সরকার ও বিরোধী পক্ষ, দু’দলই এই ঘোষণা মেনে নিয়েছেন। বিশ্বের আবহাওয়া যে দ্রুত পালটাচ্ছে, সেকথা মেনে নিয়ে আয়ারল্যান্ড ঠিক করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ বন্ধ করে দেখাবে। ওই একই সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি এবং পরিবেশবান্ধব বাসস্থানও তৈরি করার পরিকল্পনাও নিয়েছেন তাঁরা। পরবর্তীতে তেল এবং গ্যাসের যথেচ্ছ উত্তোলনেও তাঁরা রাশ টানবেন বলে ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।

প্লাস্টিক দূষণ হয়তো কমবে এবার

প্লাস্টিক যখন প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল, যুগান্তকারী আবিষ্কার হিসেবে তাকে নিয়ে ধন্য ধন্য করেছিলেন বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই। ইচ্ছেমতো আকার দেওয়া যায়, একটু বেশি গরম বা বেশ অনেকটা ঠান্ডায় এর আকার বা অবস্থার পরিবর্তন হয় না, একে ইচ্ছে মতো রং দেওয়া যায়, উপরন্তু এর ভার প্রায় নেই বললেই চলে! এমন জিনিসকে ভাল না বেসে আর উপায়ই বা কী ছিল! কিন্তু প্লাস্টিকের জনপ্রিয়তা যেমন রাতারাতি আকাশ ছুঁয়েছিল, তেমনই হু হু করে তাতে ভাটা পড়তেও দেরি হল না। দেখা গেল, প্লাস্টিককে মোটেই পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যাচ্ছে না। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর তাকে মাটির তলায় পুঁতে রাখলে বা সমুদ্রের জলে ফেলে দিলেও সে থেকে যাচ্ছে নির্বিকার! ফলে প্লাস্টিক দূষণ অচিরেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠল মানুষের। আজ এই দূষণের কারণেই বছর-বছর বিশ্ব জুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে বহু জানা-অজানা, ছোট-বড় উদ্ভিদ বা প্রাণী। কিন্তু অবশেষে এই সমস্যার কিছু সমাধান খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে! আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি দাবি করেছেন, তাঁরা তৈরি করে ফেলেছেন সম্পূর্ণ পুনর্নবীকরণযোগ্য এক বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক পলিমার, রসায়নের বই অনুযায়ী যার নাম পলিডাইকিটোন্যামিন। তাঁদের দাবি, এই প্লাস্টিক পলিমারকে একেবারে আণবিক স্তরে ভেঙে ফেলে নতুন-নতুন প্লাস্টিকজাত পদার্থ তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। জিনিসটা তৈরি করেই অবশ্য বিজ্ঞানীরা ক্ষান্ত দেননি। তাঁরা চেষ্টা করছেন এটিকে আরও উন্নত, আরও পরিবেশবান্ধব করে তোলার।

ইয়েতির নয়, পায়ের ছাপ ভল্লুকের

দিনকয়েক আগে শোরগোল উঠেছিল ভারতীয় সেনার একটি দাবিকে ঘিরে। সেনাবাহিনীর এক পর্বত অভিযাত্রী দল জানায়, মাকালু বেস ক্যাম্পের কাছে তারা এক আশ্চর্য জিনিস দেখতে পেয়েছে। সেটা হল, বরফের উপর বিশাল-বিশাল পায়ের ছাপ। তাঁদের দাবি, সেটা ইয়েতির পায়ের ছাপও হতে পারে। টিনটিন থেকে শুরু করে কাকাবাবুর গল্পেও বিশালাকৃতির এই প্রাণীর উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু, এখনও এর বাস্তব অস্তিত্বের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই সেনাবাহিনী তরফ থেকে পায়ের ছাপের ছবি প্রকাশ করার সঙ্গে-সঙ্গেই শোরগোল পড়ে যায়। সবাই ভাবতে শুরু করে, তবে কি অবশেষে ইয়েতির অস্তিত্বের হদিশ পাওয়া গেল? ছবি নিয়ে বিজ্ঞানীরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও শুরু করার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু হঠাৎই সব আশায় জল ঢেলে দিল নেপালের সেনাবাহিনী। ভারতের অভিযাত্রী দলের সঙ্গে বেশ কয়েকজন নেপালি সদস্যও অভিযানে গিয়েছিলেন। তাঁরাও সেই রহস্যময় পায়ের ছাপটি দেখেছেন। তাঁরা নেপালের সেনাবাহিনীকে জানিয়েছেন যে, সেই ছাপটি বুনো ভল্লুকের, ইয়েতির নয়। হিমালয়ের ওই অ়ঞ্চলে বিশেষ প্রজাতির সেই ভল্লুক প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায়। তাঁদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, এবারেও হয়তো অধরাই থেকে গেল ইয়েতি!

আকাশে উড়ন্ত চাকি দেখলে দিতে হবে প্রমাণ

আকাশে উড়ন্ত চাকি দেখতে পাওয়ার খবর নতুন কিছু নয়। ভিনগ্রহীরা আমাদের অজান্তে চুপিচুপি এসে মাঝে-মাঝেই আমাদের দেখে যায়, এ বিশ্বাস সারা বিশ্বে বহু মানুষেরই আছে। মানুষের ইতিহাসে অসংখ্য এমন দাবির কথা জানা গিয়েছে বারবার, কিন্তু প্রমাণ হয়নি তার কোনওটাই। আমেরিকান নৌবাহিনীর পাইলটরা যেমন। প্রায়ই তাঁরা প্লেন নিয়ে উড়েটুড়ে শেষে যুদ্ধজাহাজে ফিরে এসে দাবি করেন, তাঁরা নাকি উড়ন্ত চাকি দেখতে পেয়েছেন। সেই চাকির সামনে-পিছন-উপর-নীচ কোথাও দিয়েই ধোঁয়া বা বাতাস বেরতে দেখা যায়নি, চাকির ওড়ার কোনও শব্দও তাঁরা পাননি। এমন উন্নত প্রযুক্তি ভিনগ্রহী ছা়ড়া আর কাদের কাছেই বা থাকতে পারে? এদিকে কোনও প্রমাণ সমেত ফিরতে না-পারায় পাইলটদের এমত দাবি তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও মেনে নিতে পারেন না। অবশেষে পাইলটদের উড়ন্ত চাকি দেখতে পাওয়ার উপর্যুপরি দাবিতে অতিষ্ঠ হয়ে আমেরিকান নৌবাহিনী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের কাজের ধরনে বদল আনবেন। কেউ উড়ন্ত চাকি দেখে এসে শুধু মুখে-মুখে বললেই হবে না। নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম এরপর তাঁরা করে দেবেন। সেগুলো ঠিক-ঠিক মেনে লিখিত রিপোর্ট দিলে তবেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে, আশ্বাস দিয়েছেন নৌবাহিনীর অধিকর্তারা। তা হলে কি অবশেষে ধরা পড়বে বুদ্ধিমান ভিনগ্রহীরা? যারা নাকি খালি-খালি এসে বারবার ‘টুকি’ দিয়ে চলে যায়, ধরা আর পড়ে না!

এবার মেয়েরাও মিলিটারি পুলিশে

আজকের দিনটা, অর্থাৎ ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে। ঘটনা কী? না, সেনাবাহিনীতে ‘মহিলা মিলিটারি পুলিশ’ পদে ১০০ জন মেয়েকে নেওয়া হবে জানিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী আজ একটি নোটিশ জারি করেছে। মেয়েদের যে এই পদে নেওয়া হবে, সে-খবর আগেই জানা গিয়েছিল। আজ সেই খবরটাই নোটিশের আকারে সেনাবাহিনীর ভিতর থেকে পাকাপাকি ভাবে পাওয়া গেল। নোটিশে ইচ্ছুক ও যোগ্য প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। মিলিটারি পুলিশে এতদিন মেয়েদের নেওয়া হত না। দেশের এত বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার মেয়েরাও মিলিটারি পুলিশে ডাক পেলেন। ফলে, দিনটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

আকাশে উড়ন্ত চাকি দেখলে দিতে হবে প্রমাণ

আকাশে উড়ন্ত চাকি দেখতে পাওয়ার খবর নতুন কিছু নয়। ভিনগ্রহীরা আমাদের অজান্তে চুপিচুপি এসে মাঝে-মাঝেই আমাদের দেখে যায়, এ বিশ্বাস সারা বিশ্বে বহু মানুষেরই আছে। মানুষের ইতিহাসে অসংখ্য এমন দাবির কথা জানা গিয়েছে বারবার, কিন্তু প্রমাণ হয়নি তার কোনওটাই। আমেরিকান নৌবাহিনীর পাইলটরা যেমন। প্রায়ই তাঁরা প্লেন নিয়ে উড়েটুড়ে শেষে যুদ্ধজাহাজে ফিরে এসে দাবি করেন, তাঁরা নাকি উড়ন্ত চাকি দেখতে পেয়েছেন। সেই চাকির সামনে-পিছন-উপর-নীচ কোথাও দিয়েই ধোঁয়া বা বাতাস বেরতে দেখা যায়নি, চাকির ওড়ার কোনও শব্দও তাঁরা পাননি। এমন উন্নত প্রযুক্তি ভিনগ্রহী ছা়ড়া আর কাদের কাছেই বা থাকতে পারে? এদিকে কোনও প্রমাণ সমেত ফিরতে না-পারায় পাইলটদের এমত দাবি তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও মেনে নিতে পারেন না। অবশেষে পাইলটদের উড়ন্ত চাকি দেখতে পাওয়ার উপর্যুপরি দাবিতে অতিষ্ঠ হয়ে আমেরিকান নৌবাহিনী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের কাজের ধরনে বদল আনবেন। কেউ উড়ন্ত চাকি দেখে এসে শুধু মুখে-মুখে বললেই হবে না। নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম এরপর তাঁরা করে দেবেন। সেগুলো ঠিক-ঠিক মেনে লিখিত রিপোর্ট দিলে তবেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে, আশ্বাস দিয়েছেন নৌবাহিনীর অধিকর্তারা। তা হলে কি অবশেষে ধরা পড়বে বুদ্ধিমান ভিনগ্রহীরা? যারা নাকি খালি-খালি এসে বারবার ‘টুকি’ দিয়ে চলে যায়, ধরা আর পড়ে না!

মঙ্গলে প্রথম ভূমিকম্পের খোঁজ পেল নাসা

‘লাল গ্রহ’ অর্থাৎ, পৃথিবীর প্রতিবেশী মঙ্গল গ্রহকে নিয়ে পৃথিবীর মানুষের অসীম কৌতূহল। এই গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর মিলও প্রচুর। ভবিষ্যতে এখানে বিকল্প বাসস্থান তৈরির কথাও ভাবছে মানুষ। তাই বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন মহাকাশযান পাঠিয়ে কড়া নজর রেখেছে গ্রহটির উপর। নাসার পাঠানো এইরকমই একটি মহাকাশযানের সূত্রে সম্প্রতি মঙ্গলের মাটিতে ভূমিকম্পের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এইরকম ঘটনা যে মঙ্গলের মাটিতে ঘটে, তা আগেই আঁচ করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। তাই, গত ডিসেম্বরে তাদের ‘ইনসাইট’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নাসা মঙ্গল গ্রহে একটি সিসমোগ্রাফ যন্ত্র পাঠায়, যার সঙ্গে ভূমিকম্পের মাত্রা মাপা যায়। সেই যন্ত্রেই সম্প্রতি ভূমিকম্পের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে, সেই ভূমিকম্পের কারণ অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, এই ঘটনার ফলে মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কিত অনেক তথ্য জানা যাবে।

রয়্যাল সোসাইটির প্রথম ভারতীয় মহিলা সদস্য

চিকিৎসাবিজ্ঞান কিংবা প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত সকল গবেষকের স্বপ্ন রয়্যাল সোসাইটি অফ লন্ডনের সদস্যপদ লাভ করা। কিন্তু, ইচ্ছে থাকলেই তো আর উপায় হয় না সবসময়। সকলকে সবসময় এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ দেওয়াও হয় না। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যদি মনে করেন, গণিত, চিকিৎসাবিজ্ঞান কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তির কাজ সমাজের মৌলিক জ্ঞান ব়ৃদ্ধির সহায়ক হয়েছে, তবেই তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের ৩৬০ বছরের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতীয় মহিলা এই বিরল সম্মানের অধিকারী হননি। সম্প্রতি সেই সম্মান পেলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানী গগনদীপ কং। তাঁকে ভারতে টীকাকরণের দুনিয়ায় ‘দেবী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। রোটা ভাইরাসের টীকা আবিষ্কার করে তিনি ডায়েরিয়ার মতো রোগের হাত থেকে অনেক শিশুকে বাঁচিয়েছিলেন। তিনি চান, ভবিষ্যতে এরকম আরও অনেক টীকা আবিষ্কার করে ভারতীয় শিশুদের জীবনকে আরও সুরক্ষিত করে তুলতে। তাঁর মতে, রয়্যাল সোসাইটির এই স্বীকৃতি ভারতের জন্য এক গর্বের বিষয়।

আজকের দিনটা পৃথিবীর জন্য

Current-affairs-22.4.2019-big-img1 মা, বাবা, বন্ধু, শিক্ষক, সকল প্রিয় মানুষের জন্যই বছরে একটি দিন নির্দিষ্ট করা রয়েছে, তা হলে যে গ্রহে আমরা বাস করি তার জন্যও তো একটা দিন নির্দিষ্ট থাকা উচিত। আজ হল সেই দিন। আজ, মানে ২২ এপ্রিল হল পৃথিবী দিবস। এই দিনটার একটা ইতিহাস রয়েছে। ১৯৬৯ সালের ২৮ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্তা বারবারা উপকূলের এক তেল উত্তোলন কেন্দ্র থেকে আচমকা তেল বেরোতে শুরু করে। এই তেল সমুদ্রের জলে মিশে হাজার-হাজার সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু ঘটায়। ভবিষ্যতে যাতে এইরকম দুর্ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু পরিবেশ সংক্রান্ত আইন চালু করার দাবি জানান পরিবেশবিদরা। এর পরেই পৃথিবীর জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করার কথা সকলের মাথায় আসে। সেই উদ্দেশ্য থেকেই ১৯৭০ সালের ২২ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুল, কলেজের প্রায় দশহাজার ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে প্রথম ‘পৃথিবী দিবস’ পালন করা হয়।

এই বছর এই দিনটি এক অভিনব উপায়ে পালন করছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বহুজাতিক সংস্থা। তারা পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন কাজে সামিল করেছে তাদের সংস্থায় কর্মরত মানুষদের। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, গাছ লাগানো, আশপাশের অঞ্চল পরিষ্কার, হেঁটে বা সাইকেলে কাজের জায়গায় পৌঁছনোসহ আরও অনেক কিছু। তাদের বিশ্বাস, এই অভ্যেস শুধু একদিনে আটকে থাকবে না। রোজকার জীবনে এই অভ্যেস কাজে লাগালে পরিবেশ তথা পৃথিবী আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।

আর ৫০ বছর, তারপরেই হয়তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

Current-affairs-22.4.2019-big-img2 চোরাশিকারিদের উৎপাত তো ছিলই, এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে আরও কয়েকটি কারণ। তার জন্য প্রায় বিলুপ্তির পথে যেতে চলেছে বাংলার গর্ব রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এমনিতেই গত একশো বছরে বাংলার এই বিশেষ প্রজাতির বাঘের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে সমুদ্রের জলস্তর। ফলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মূল বাসস্থান সুন্দরবনের অনেক অংশই চলে যাচ্ছে জলের তলায়। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলকষ্ট। নির্বিচারে চোরাশিকারের ফলে খাবারের অভাবও দেখা দিয়েছে। তাই তারা এখন হানা দিচ্ছে বিভিন্ন গ্রামেও। এই অবস্থা চলতে থাকলে আর বড়জোর ৫০ বছর, তারপর পৃথিবীর বুক থেকে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তারা।

গ্রহের নাম নিয়ে ভোট

Current-affairs-img1 ভারতের ভোট পর্ব চলার সময় সৌরমণ্ডলের একটি গ্রহের নাম নিয়েও ভোটাভুটি শুরু হল। এই ভোট করছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন। সংক্ষেপে আই এ ইউ। ২০০৭ সালে বিজ্ঞানীরা সৌরমণ্ডলে এই গ্রহটিকে আবিষ্কার করেন। তখন তার নাম দেওয়া হয়, ২০০৭ ও আর ১০। সেই সময় রোবোটিক টেলিস্কোপ দিয়ে বিজ্ঞানীরা কুইপার বেল্টে নজর রাখছিলেন। নেপচুনের লক্ষ-লক্ষ কিলোমিটার পিছনে এই কুইপার বেল্ট। সেখানে অনেক ছোট-ছোট টুকরো রয়েছে এই সৌরমণ্ডলের সূচনার সময় থেকেই। প্রথমবার ২০০৭ ও আর ১০-কে কম্পিউটারের পরদায় দেখা গিয়েছিল একটা সাদা বিন্দুর মতো। তাই বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে ওই গ্রহের নাম রেখেছিলেন, স্নো হোয়াইট। কিন্তু পরে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, ওই গ্রহটির রং লাল। এবং গ্রহটির একটি নিজস্ব চাঁদও রয়েছে। ২০০৭ ও আর ১০ আয়তনে প্লুটোর অর্ধেক। গ্রহটির ব্যাস ৭৭৫ মাইল।

এবার সেই গ্রহেরই নামকরণ নিয়ে ভোটাভুটি চলছে। কিন্তু কী-কী নাম দিয়েছে আই এ ইউ, যাদের মধ্যে এত ভোটাভুটি হবে? প্রথম নাম, গংগং। চিনের জলদেবতা গংগং। তাঁর চুলের রং লাল। সাপের মতো একটি লেজও রয়েছে। দ্বিতীয় নাম, হোলে। এই হোলে হল ইউরোপের শীতের দেবী। তিনি মহিলা এবং জন্মগ্রহণের দেবীও। তৃতীয় নাম, ভিলি। তিনি আবার নর্স দেবতা। ওডিনের ভাই। এ বছরের ১০ মে পর্যন্ত থাকবে ভোট দেওয়ার সুযোগ। তিনটে নামের মধ্যে যে নাম বেশি ভোট পাবে, সেই নামই দেওয়া হবে ২০০৭ ও আর ১০-কে।

ঘরছাড়া মেরুভল্লুকেরা

Current-affairs-img2 বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং পরিবেশ দূষণের কারণে গলে যাচ্ছে মেরু প্রদেশের বরফ। সমস্যায় পড়েছে সেখানকার প্রাণিকুল। এই নিয়ে চিন্তিত বিজ্ঞানীরা। তাঁদের সেই চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে একটি সাম্প্রতিক ঘটনা। সম্প্রতি একটি বিধ্বস্ত পুরুষ মেরুভল্লুকের দেখা মিলেছে রাশিয়ার পূর্বতম প্রান্তের এক গ্রামে। এই গ্রাম মেরুভল্লুকদের প্রকৃত বাসস্থান থেকে প্রায় ৪৩৫ মাইল দক্ষিণে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, খাবার এবং থাকার জায়গার খোঁজেই ভল্লুকটি সেখানে হানা দিয়েছে। বিধ্বস্ত ভল্লুকটির শরীরে অপুষ্টি এবং দুর্বলতার ছাপ স্পষ্ট। গ্রামবাসীরা অবশ্য তার সঙ্গে কোনও খারাপ ব্যবহার করেনি। বিজ্ঞানীদের সাহায্যে তাকে তার আসল জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু চিন্তার বিষয় একটাই। এভাবে চলতে থাকলে আস্তে-আস্তে সব প্রাণীই মেরুপ্রদেশ ছেড়ে হানা দেবে বিভিন্ন লোকালয়ে। তখন মানুষের সঙ্গে তাদের বিবাদও লেগে যেতে পারে। তাতে নষ্ট হবে বাস্তুতন্ত্র। বিলুপ্ত হবে মেরুভল্লুক বা এই ধরনের অন্যান্য প্রাণী। তাই সময় থাকতে-থাকতেই সতর্ক হওয়া দরকার।

প্রাচীন মিশরীয় সমাধি থেকে শিল্পকর্ম উদ্ধার


মিশরের প্রাচীন সমাধির কারুকার্য যেন আকাশের তারার মতো অফুরন্ত। আজও সেখান থেকে যা উদ্ধার হচ্ছে, তাতে চোখ কপালে উঠে যাওয়ার জোগাড়। কিছুদিন আগে সাক্কারা অঞ্চলে খননকার্য চালিয়ে তেমনই নানা কিছু পাওয়া গেল। সাক্কারা হল কায়রো থেকে ৩০ মাইল দক্ষিণে। সেখানে এক প্রাচীন সমাধিতে খননকার্য চালানো হচ্ছিল। আর সেই খননকার্য করে দেওয়ালে আঁকা ছবি উদ্ধার করলেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। তাঁরা মনে করছেন, প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো এই সব ছবি। কিন্তু কার সমাধি থেকে পাওয়া গেল এমন চিত্রকর্ম? প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানাচ্ছেন, এই সমাধি খুয়াই নামের এক বিশিষ্টজনের। খুয়াই সম্পর্কে যেটুকু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা হল তিনি সমাজের অত্যন্ত গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ফারাওয়ের কাছের জন ছিলেন। আরও জানা গিয়েছে, ৪৩০০ বছরের পুরনো এই চিত্রগুলি খুবই ভাল অবস্থায় রয়েছে, রংয়ের ক্ষেত্রেও খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এই চিত্রগুলো থেকে সেই সময়কার অনেক অজানা তথ্য জানা যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

মাঝসমুদ্রে সাঁতার কাটছে কুকুর

মাঝসমুদ্রে ভাসমান তেল উত্তোলন কেন্দ্রে কাজ করার সময়ে অনেক শ্রমিকেরই মাঝে-মাঝে দৃষ্টিবিভ্রম হয়। তাই তাইল্যান্ডের উপকূল থেকে ১৩৫ মাইল দূরে একটি তেল উত্তোলন কেন্দ্রে কাজ করার সময়ে যখন কয়েকজন শ্রমিক দেখেন যে, সাঁতার কেটে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে একটি কুকুর, সকলেই ভেবেছিলেন যে সেটা চোখের ভুল। কিন্তু অচিরেই সেই ভুল ভাঙল, যখন তাঁরা দেখলেন যে, ঢেউয়ের মধ্যে মাঝে-মাঝেই একটা মাথা ক্রমাগত ডুবছে আর ভেসে উঠছে। আর মাথাটা আস্তে-আস্তে তাঁদের দিকেই এগিয়ে আসছিল। তড়িঘড়ি খয়েরি রংয়ের অ্যাসপিন প্রজাতির কুকুরটিকে উদ্ধার করেন তাঁরা। তারপর সে বহাল তবিয়তে থাকলেও সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কুকুরটি সেখানে গেল কীভাবে? মনে করা হচ্ছে, সকলের অলক্ষ্যে কোনও চলন্ত জলযান থেকে পড়ে গিয়েছিল সে। তবে জোর বরাত যে, সমুদ্র তখন মোটামুটি শান্ত ছিল। না হলে হয়তো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হত না।

আগুনের গ্রাসে প্যারিসের ৮৫৬ বছরের গথিক স্থাপত্য নোত্‌রদেম ক্যাথেড্রাল


১৫ এপ্রিল সোমবার বিকেলে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত ৮৫৬ বছরের পুরনো নোত্‌রদেম ক্যাথেড্রালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এই দেশের দমকল-কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। মনে করা হচ্ছে, সংস্কার কাজ করার সময় কোনওভাবে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। প্যারিসের মেয়র আন্নে হিদালগো এটিকে ভয়ঙ্কর আগুন বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলেছেন। আগুন লাগার পরপরই ভবনটি ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং দমকলকর্মীরা গভীর রাতের দিকে ধীরে-ধীরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। গির্জাটির উপরের অংশ পুরোপুরি আগুনে জ্বলে গিয়েছে এবং গির্জার ছাদ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দুটি বেল টাওয়ারেই দূর থেকেও পরিষ্কার আগুন দেখা গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নোত্‌রদেম অগ্নিকাণ্ডকে ফ্রান্সের ভয়াবহ ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।

একতলা বাড়ির সমান পাইথন

ফ্লোরিডার বিগ সাইপ্রেস জাতীয় সংরক্ষণকেন্দ্র থেকে সম্প্রতি সরিয়ে ফেলা হল ১৭ ফুট লম্বা এবং ৬৩ কেজি ওজনের একটি স্ত্রী পাইথনকে। সাপটা যে ঠিক কত বড়, সঙ্গের ছবিতে তো তোমরা সেটা দেখতে পাচ্ছই, এবার একটু ভেবে দেখো এই সাপকে লম্বালম্বি দাঁড় করালে সেটা ঠিক কতটা উঁচু হবে! অন্তত একটা একতলা বাড়ির সমান তো বটেই। দৈত্যাকৃতি এই সাপ ধরতে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল ওই প্রজাতিরই কয়েকটি পুরুষ সাপকে। শেষমেশ যখন স্ত্রী সাপটিকে ধরা হয়, তখন তার পেটে ছিল ৭২টি ডিম। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে এই যে, সাপটাকে ধরার পর ওই সংরক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা তাকে মেরে ফেলেছেন। নষ্ট করে দিয়েছেন সাপের পেটের সমস্ত ডিমও। আর এখানেই দ্বিধাবিভক্ত হয়েছেন সারা বিশ্বের মানুষ। ইন্টারনেটের সৌজন্যে সাপের ছবি আর তার পরিণতির কথা জনসমক্ষে আসতেই লেগেছে গোলমাল। পশুপ্রেমীরা বলছেন, সাপ এবং তার ডিম, কোনওটাকেই হত্যা করা অত্যন্ত অমানবিক হয়েছে! আর-একদলের আবার বক্তব্য, ‘আপনার নিজের পাড়ায় যদি এমন একটা দৈত্য ঘুরে বেড়াত আর তার এত-এত সন্তান জন্মাত, তা হলে আপনি তার সঙ্গে থাকতেন তো?’ পশুপ্রেমীরা বলছেন, পৃথিবীর অনেক জঙ্গলেই তো সাপটাকে ছেড়ে দিয়ে আসা যেত, যেখানে মানুষের বসবাস নেই। উলটো দিকের লোকগুলো তখনও মুঠি পাকিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন, ‘অত বড় একটা সাপকে অজ্ঞান করে অত দূর নিয়ে যেতে কত খরচ হত জানেন?’ কিন্তু খরচ বাঁচাতে প্রকৃতির তৈরি একটা প্রাণকে একেবারে মেরেই ফেলার অধিকার মানুষকে কে দিল? সেটা কিন্তু ভেবে দেখার মতো বিষয়।

চিত্রসৌজন্য : ফেসবুক