Category Archives: Current Affairs

ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বা়ড়ির তিনতলা ডুবে গেল জলে

current-affairs-4.9.2019-img1 উত্তর আমেরিকা মহাদেশের একেবারে দক্ষিণে বাহামা দ্বীপপুঞ্জ তছনছ হয়ে গিয়েছে ডোরিয়ান নামে এক বিধ্বংসী হারিকেনের তাণ্ডবে। বাহামায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি করার পর ডোরিয়ান ফ্লোরি়ডার পূর্ব উপকূলে এসে পৌঁছেছে গতকাল, সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ সন্ধেবেলায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম বাহামার অ্যাবাকো ও গ্র্যান্ড বাহামায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। বহু বা়ড়ির তিনতলা পর্যন্ত ডুবে গিয়েছে জলের তলায়। ছ’ফুট জলের তলায় ডুবে আছে গ্র্যান্ড বাহামা বিমানবন্দর। বাহামায় ভেঙে পড়েছে হাজার-হাজার বাড়ি। পানীয় জল খেতে পাচ্ছেন না ৬২০০০-এরও বেশি সংখ্যক মানুষ। ঝড় আমেরিকার ভিতরের দিকে ঢুকছে দেখে ইতিমধ্যেই ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলিনার ২০ লক্ষ বাসিন্দাকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলে সতর্ক করা হয়েছে। গতকালই রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে জরুরি ভিত্তিতে খাবার ও চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে বিপর্যস্ত এলাকাগুলোয়

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস, উড়ছে ভুয়ো ছবি

ব্রাজ়িলের আমাজ়ন বর্ষাঅরণ্যকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। বেঁচে থাকার জন্য বাতাসের যে অক্সিজেন আমাদের প্রয়োজন, তার ২০%-ই জোগায় এই অরণ্য। সেই ফুসফুসেই লেগেছে আগুন। গত তিন সপ্তাহ ধরে দাবানলের প্রকোপে একটু-একটু করে ভস্মীভূত হচ্ছে জঙ্গলের বিস্তীর্ণ এলাকা। খুব বড় জঙ্গলে দাবানল ভয়ানক অস্বাভাবিক কোনও ঘটনা নয়। প্রাকৃতিক নানা কারণে, যেমন ঘন-ঘন বজ্রপাতের জেরে জঙ্গলে আগুন লাগে। কিন্তু এবারের এই দাবানল নিয়ে এত আলোচনা কেন, তা বোঝা যাবে স্রেফ দুটো পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে। প্রথমত, গত বছর, অর্থাৎ ২০১৮ সালে ব্রাজ়িলে দাবানলের সংখ্যা ছিল ৩৯,৭৫৯টি। ২০১৯-এর মাত্র আট মাসেই সেখানে দাবানল ঘটেছে ৭৫,০০০-এরও বেশি! আর দ্বিতীয়ত, মাত্র আট মাসে এত বেশি সংখ্যক দাবানলের ঘটনা সেই ২০১৩ সালের পর আর কখনও হয়নি।

ঘটনায় অন্য মাত্রা যোগ করেছেন ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, জঙ্গল কেটেকুটে কলকারখানা বসানো, বাড়িঘর তৈরির ইচ্ছে নাকি তাঁর বহু দিনের। কিন্তু ব্রাজ়িলের এই অরণ্য যে সারা পৃথিবীতেই অক্সিজ়েন জোগান দেয়, সেকথা বুঝতে তিনি নাকি নারাজ। মাত্রাছাড়া দাবানলের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ন়ড়েচড়ে বসেছেন সারা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ উদ্বেগ প্রকাশ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আলোচনায় বসতে বলেছেন।

সবশেষে পড়ে থাকে আমাদের কথা। আমরা তো আর দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নই। আমরা আজকাল মুখোমুখি কারও সঙ্গে কথা বলি কম আর বেশি বলি সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বর্ষাঅরণ্যে দাবানলের বহু পুরনো এবং ভুয়ো ছবি। মানুষ সেই ছবি শেয়ার করে একে অন্যের সঙ্গে দাবানলের খবর ভাগ করে নিচ্ছেন, প্রার্থনা করছেন অরণ্যের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে। উদ্দেশ্য সৎ, সন্দেহ নেই। তবে আমাদের প্রিয় গ্রহের এই দুঃসময়ে যখন কার্বন ডাইঅক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে মহাদেশ আর মহাসমুদ্রের আকাশ, এই দুর্যোগের দিনে ঘরে বসে-বসে কোনও খবর আর ছবি-ই আমরা যাচাই না করে শেয়ার করব না, এটুকু অঙ্গীকার কিন্তু আমরা করতেই পারি।

চিত্রসৌজন্য : বিবিসি

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস, উড়ছে ভুয়ো ছবি


ব্রাজ়িলের আমাজ়ন বর্ষাঅরণ্যকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। বেঁচে থাকার জন্য বাতাসের যে অক্সিজেন আমাদের প্রয়োজন, তার ২০%-ই জোগায় এই অরণ্য। সেই ফুসফুসেই লেগেছে আগুন। গত তিন সপ্তাহ ধরে দাবানলের প্রকোপে একটু-একটু করে ভস্মীভূত হচ্ছে জঙ্গলের বিস্তীর্ণ এলাকা। খুব বড় জঙ্গলে দাবানল ভয়ানক অস্বাভাবিক কোনও ঘটনা নয়। প্রাকৃতিক নানা কারণে, যেমন ঘন-ঘন বজ্রপাতের জেরে জঙ্গলে আগুন লাগে। কিন্তু এবারের এই দাবানল নিয়ে এত আলোচনা কেন, তা বোঝা যাবে স্রেফ দুটো পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে। প্রথমত, গত বছর, অর্থাৎ ২০১৮ সালে ব্রাজ়িলে দাবানলের সংখ্যা ছিল ৩৯,৭৫৯টি। ২০১৯-এর মাত্র আট মাসেই সেখানে দাবানল ঘটেছে ৭৫,০০০-এরও বেশি! আর দ্বিতীয়ত, মাত্র আট মাসে এত বেশি সংখ্যক দাবানলের ঘটনা সেই ২০১৩ সালের পর আর কখনও হয়নি।
ঘটনায় অন্য মাত্রা যোগ করেছেন ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, জঙ্গল কেটেকুটে কলকারখানা বসানো, বাড়িঘর তৈরির ইচ্ছে নাকি তাঁর বহু দিনের। কিন্তু ব্রাজ়িলের এই অরণ্য যে সারা পৃথিবীতেই অক্সিজ়েন জোগান দেয়, সেকথা বুঝতে তিনি নাকি নারাজ। মাত্রাছাড়া দাবানলের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ন়ড়েচড়ে বসেছেন সারা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ উদ্বেগ প্রকাশ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আলোচনায় বসতে বলেছেন।
সবশেষে পড়ে থাকে আমাদের কথা। আমরা তো আর দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নই। আমরা আজকাল মুখোমুখি কারও সঙ্গে কথা বলি কম আর বেশি বলি সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বর্ষাঅরণ্যে দাবানলের বহু পুরনো এবং ভুয়ো ছবি। মানুষ সেই ছবি শেয়ার করে একে অন্যের সঙ্গে দাবানলের খবর ভাগ করে নিচ্ছেন, প্রার্থনা করছেন অরণ্যের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে। উদ্দেশ্য সৎ, সন্দেহ নেই। তবে আমাদের প্রিয় গ্রহের এই দুঃসময়ে যখন কার্বন ডাইঅক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে মহাদেশ আর মহাসমুদ্রের আকাশ, এই দুর্যোগের দিনে ঘরে বসে-বসে কোনও খবর আর ছবি-ই আমরা যাচাই না করে শেয়ার করব না, এটুকু অঙ্গীকার কিন্তু আমরা করতেই পারি।

চিত্রসৌজন্য : বিবিসি

ক্যানসার নিরাময়ে কলকাতার ছেলে

current-affair02

কলকাতার ছেলে শ্রেয়ান চৌধুরী সেন্ট জেমস স্কুল থেকে লেখাপড়া করে আমেরিকা গিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ট্যাল ডানিনো এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিকোলাস আরাপাইয়ার তত্ত্বাবধানে শ্রেয়ন গবেষণায় নিযুক্ত ছিলেন। ক্যানসার নিরাময়ের সেই গবেষণাতেই তাঁরা পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। আমাদের পরিবেশে যত ব্যাক্টেরিয়া আছে, তাদের মধ্যে কিছু আমাদের উপকারেও লাগে, জান নিশ্চয়ই? শ্রেয়নরা এমন বুদ্ধি করেছেন যাতে অমন কিছু নিরীহ ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুকে জুড়ে দিয়ে ব্যাক্টেরিয়াদের ক্যানসারে আক্রান্ত কোষে পাঠানো যায়। একবার সেখানে পৌঁছে গিয়ে ব্যাক্টেরিয়াদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকলে একসময় ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু ভেঙে যায়। ক্যানসার যেখানে বাসা বেঁধেছে, সেখানে এতক্ষণ রুগির দেহের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করতে পারছিল না। কিন্তু বাইরে থেকে ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে পাঠানো ওই অণু ভেঙে গেলে তখন তার প্ররোচনায়, আমাদের দেহের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাই আক্রমণ করে ক্যানসারে আক্রান্ত কোষকে। শ্রেয়নরা আপাতত ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে সাফল্য পেয়েছেন। মানুষের উপর পরীক্ষা এখনও বাকি। ক্যানসারের চিকিৎসা আজ সম্ভব হলেও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রুগির নানা রকম অসুবিধে হয়ে থাকে। শ্রেয়নদের পরীক্ষা সফল হলে অমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দুশ্চিন্তাও আর থাকবে না। ফলে সব মিলিয়ে তাঁদের এই পরীক্ষা যে ক্যানসার নিরাময়ে নতুন এক দিগন্তের সন্ধান দিল, সেকথা বলাই যায়।

আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পুণের ন’বছরের ছেলে

current-affair-big-img
গত ৩১ জুলাই, মাত্র ন’বছর বয়সে আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করল পুণের ছেলে অদ্বৈত ভারতিয়া। তানজানিয়ার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ, সমুদ্রতল থেকে যার উচ্চতা পাঁচ হাজার ৮৯৫ মিটার। ওই শৃঙ্গে পৌঁছতে অদ্বৈতর সময় লেগেছে সাতদিন।

বলাই বাহুল্য, কাজটা সোজা ছিল না। অবিশ্বাস্য এই কীর্তি স্থাপনের আগে প্রায় দু’মাস নানা প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে অদ্বৈতকে। ঘণ্টাখানেক সাঁতার কাটার পাশাপাশি কার্ডিয়োভাস্কুলার ট্রেনিংয়ের জন্য ক্রিকেট, ফুটবল এবং টেনিসও খেলত সে। প্রতিদিন নাকি ১০০ তলা সিঁড়ি ভেঙে উঠত একরত্তি ছেলে। শুনলে অবাক হবে, এর আগে মাত্র ছ’বছর বয়সেই অদ্বৈত মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। এবার কিলিমাঞ্জারো জয়ে তার সঙ্গী ছিলেন অভিযানের নেতা, সমীর পাঠান। ছিলেন অদ্বৈতর মা, পায়েল ভারতিয়া-ও। তবে পাহাড়ের প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না-পারায় শেষমেশ পায়েল অদ্বৈতর সঙ্গে কিলিমাঞ্জারোর শীর্ষ ছুঁতে পারেননি।

এভারেস্ট আর কিলিমাঞ্জারোর পর এবার অদ্বৈতর লক্ষ্য, ইউরোপের এলব্রুস পাহাড়। সংবাদমাধ্যমকে সে জানিয়েছে, ‘‘এবারের ট্রেকটা খুব কঠিন এবং একইসঙ্গে খুব মজার ছিল। এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে যাওয়ার সময় আমরা কাঠের বাড়িতে থাকতাম। কিন্তু কিলিমাঞ্জারোয় ট্রেক করতে গিয়ে তাঁবুতে থাকতে হয়েছে। ফলে খোলামেলা জায়গায় বরফটরফের মধ্যে থাকতে খুব ভাল লেগেছে।’’

ক্যানসার নিরাময়ে কলকাতার ছেলে

current-affair02

কলকাতার ছেলে শ্রেয়ান চৌধুরী সেন্ট জেমস স্কুল থেকে লেখাপড়া করে আমেরিকা গিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ট্যাল ডানিনো এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিকোলাস আরাপাইয়ার তত্ত্বাবধানে শ্রেয়ন গবেষণায় নিযুক্ত ছিলেন। ক্যানসার নিরাময়ের সেই গবেষণাতেই তাঁরা পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। আমাদের পরিবেশে যত ব্যাক্টেরিয়া আছে, তাদের মধ্যে কিছু আমাদের উপকারেও লাগে, জান নিশ্চয়ই? শ্রেয়নরা এমন বুদ্ধি করেছেন যাতে অমন কিছু নিরীহ ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুকে জুড়ে দিয়ে ব্যাক্টেরিয়াদের ক্যানসারে আক্রান্ত কোষে পাঠানো যায়। একবার সেখানে পৌঁছে গিয়ে ব্যাক্টেরিয়াদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকলে একসময় ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু ভেঙে যায়। ক্যানসার যেখানে বাসা বেঁধেছে, সেখানে এতক্ষণ রুগির দেহের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করতে পারছিল না। কিন্তু বাইরে থেকে ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে পাঠানো ওই অণু ভেঙে গেলে তখন তার প্ররোচনায়, আমাদের দেহের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাই আক্রমণ করে ক্যানসারে আক্রান্ত কোষকে। শ্রেয়নরা আপাতত ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে সাফল্য পেয়েছেন। মানুষের উপর পরীক্ষা এখনও বাকি। ক্যানসারের চিকিৎসা আজ সম্ভব হলেও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রুগির নানা রকম অসুবিধে হয়ে থাকে। শ্রেয়নদের পরীক্ষা সফল হলে অমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দুশ্চিন্তাও আর থাকবে না। ফলে সব মিলিয়ে তাঁদের এই পরীক্ষা যে ক্যানসার নিরাময়ে নতুন এক দিগন্তের সন্ধান দিল, সেকথা বলাই যায়।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প

california_earthquake_img01 গত ২০ বছরে এমন ভয়ানক ভূমিকম্প হয়নি সেখানে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ আমেরিকার মোহাভি মরুভূমিতে ৬.৪ মাত্রার ভূকম্প অনুভূত হয়। তারই রেশ এসে পড়ে ক্যালিফোর্নিয়ায়। ১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসে শেষবার ৭.১ মাত্রার ভূকম্প হয়েছিল এই এলাকায়। তবে আনন্দের খবর এই যে, এত ভয়ানক ভূমিকম্পের পরও এবার সেখানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অনেকটাই কম। বাড়িঘর হেলে পড়েছে, একটি মাত্র বাড়িতে আগুনও লেগে গিয়েছিল ঠিকই, তবে দমকলকর্মীদের তৎপরতায় সেটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়নি। প্রাণহানির কোনও খবরও এখনও পর্যন্ত নেই। এত তীব্র মাত্রার ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণত কম শক্তির একাধিক ছোট কম্পন অনুভূত হয়। স্থানীয় মানুষজন আপাতত সেই আতঙ্কেই ভুগছেন। প্রশাসনিক নির্দেশে আশপাশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এই দুর্যোগ সেখানকার মানুষ শিগগিরি সামলে উঠবেন।

ক্যানসার নিরাময়ে কলকাতার ছেলে

current-affair02

কলকাতার ছেলে শ্রেয়ান চৌধুরী সেন্ট জেমস স্কুল থেকে লেখাপড়া করে আমেরিকা গিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ট্যাল ডানিনো এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিকোলাস আরাপাইয়ার তত্ত্বাবধানে শ্রেয়ন গবেষণায় নিযুক্ত ছিলেন। ক্যানসার নিরাময়ের সেই গবেষণাতেই তাঁরা পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। আমাদের পরিবেশে যত ব্যাক্টেরিয়া আছে, তাদের মধ্যে কিছু আমাদের উপকারেও লাগে, জান নিশ্চয়ই? শ্রেয়নরা এমন বুদ্ধি করেছেন যাতে অমন কিছু নিরীহ ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুকে জুড়ে দিয়ে ব্যাক্টেরিয়াদের ক্যানসারে আক্রান্ত কোষে পাঠানো যায়। একবার সেখানে পৌঁছে গিয়ে ব্যাক্টেরিয়াদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকলে একসময় ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু ভেঙে যায়। ক্যানসার যেখানে বাসা বেঁধেছে, সেখানে এতক্ষণ রুগির দেহের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করতে পারছিল না। কিন্তু বাইরে থেকে ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে পাঠানো ওই অণু ভেঙে গেলে তখন তার প্ররোচনায়, আমাদের দেহের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাই আক্রমণ করে ক্যানসারে আক্রান্ত কোষকে। শ্রেয়নরা আপাতত ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে সাফল্য পেয়েছেন। মানুষের উপর পরীক্ষা এখনও বাকি। ক্যানসারের চিকিৎসা আজ সম্ভব হলেও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রুগির নানা রকম অসুবিধে হয়ে থাকে। শ্রেয়নদের পরীক্ষা সফল হলে অমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দুশ্চিন্তাও আর থাকবে না। ফলে সব মিলিয়ে তাঁদের এই পরীক্ষা যে ক্যানসার নিরাময়ে নতুন এক দিগন্তের সন্ধান দিল, সেকথা বলাই যায়।

ব্যস্ত শহরে চলে এল মেরুভল্লুক

লালমোহনবাবু থাকলে হয়তো বলতেন, ‘‘আরে মশাই, এ যে দেখি ‘মেরুশহরে মেরুভল্লুক’!’’ আর সত্যিই এর চেয়ে ভালভাবে এই পরিস্থিতির বর্ণনা করা সম্ভব নয়। ধবধবে সাদা নাদুসনুদুস মেরু ভল্লুকদের দেখতে পাওয়া যায় উত্তর মেরুর কাছাকাছি সাইবেরিয়ায় চিরতুষারাবৃত অঞ্চলে। সেখানে এতদিন পর্যন্ত বেশ ভালই ছিল তারা। কিম্তু সম্প্রতি মানুষের নানা কাজকর্মই বাধ সেধেছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। নির্বিচারে গাছকাটাসহ নানা কারণে বেড়েছে পৃথিবীর উষ্ণতা। গলেছে মেরু অঞ্চলের বরফ। তার ফলে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। খাবারের খোঁজে তাই মেরুভল্লুকরা চলে আসছে জনবসতি অঞ্চলে। সম্প্রতি একটি স্ত্রী মেরুভল্লুককে দেখতে পাওয়া গিয়েছে পৃথিবীর উত্তরপ্রান্তের শেষ শহর রাশিয়ার নরিলস্কে। তার চেহারায় ছিল অপুষ্টির ছোঁয়া, চারটে পা কাদামাখা। বোঝাই যাচ্ছে, অনেক ঘোরাঘুরির পর শহরে এসে হাজির হয়েছে সে। কারখানা অ়ঞ্চলে গাড়িঘো়ড়া ভর্তি ব্যস্ত রাস্তা অতিকষ্টে পার হচ্ছিল সে। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, খাবারের খোঁজেই শহরে হানা দিয়েছে ভল্লুকটি। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে বনকর্মীরা। মাসখানেক আগে রাশিয়ার এক গ্রামে হানা দিয়েছিল মেরুভল্লুক। মানুষ যদি এখনও সতর্ক না হয়, তাহলে এই ঘটনা বাড়তেই থাকবে। হয়তো একসময় খাবারের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে মেরুভল্লুক।

সঙ্গীত-যোগের দিন আজ

ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে কিংবা ফ্রেন্ডশিপ ডে-র মতো আজ, অর্থাৎ ২১ জুন দিনটিও একটা বিশেষ দিন। শুধু একটা নয়, আজ একসঙ্গে দুটো বিশেষ দিন। একটা হল, বিশ্ব সঙ্গীত দিবস, আর অন্যটা আন্তর্জাতিক যোগ দিবস।
‘বিশ্ব সঙ্গীত দিবস’ বিষয়টির সূচনা হয় ফ্রান্সে। ১৯৮২ সালে ফ্রান্সে একটি সমীক্ষা করা হয়। সে দেশের জলসংখ্যা তখন প্রায় ৫০ লক্ষ। তার মধ্যে প্রতি দু’জন অল্পবয়সি ছেলেমেয়ের মধ্যে একজন গানবাজনার সঙ্গে যুক্ত। এই গানবাজনার রেওয়াজ সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সেই বছর ২১ জুন প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশ্ব সঙ্গীত দিবস’। এই দিনটিতে গানপাগল মানুষেরা বিনা পারিশ্রমিকে বাড়ির কাছাকাছি পার্ক বা কনসার্ট হলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। এখন পৃথিবীর প্রায় ১২০টি দেশের সাতশোর বেশি শহরে দিনটি পালন করা হয়।
‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ বিষয়টি তুলনায় নতুন। ২০১৫ সাল থেকে এই দিনটির উদযাপন শুরু হয়। এই দিনটি শুরু হওয়ার পিছনে কিন্তু মূল অবদান ভারতের। ‘যোগ’ হল শরীরচর্চার এক বিশেষ প্রকার। ‘যোগ’ শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানুষের মানসিক অবস্থার উন্নতিতেও নজর দেয়। এর উৎপত্তি প্রাচীন ভারতে বলে অনেকেই মনে করেন। ২০১৪ সালে ভারতের সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পক্ষ থেকে তাই রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে আবেদন জানানো হয়, ‘যোগ’-কে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যেন একটি দিনকে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদের প্রচেষ্টাতেই রাষ্ট্রপুঞ্জের ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে আজকের দিনটি ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসেবে পালিত হতে শুরু করে।

অন্ধকারে ডুবে গেল পাঁচটি দেশ

শুধুমাত্র কয়েকটি এলাকা নয়, রবিবার সকালে এক বিরাট বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কবলে পড়ল দক্ষিণ আমেরিকার পাঁচটি দেশ। প্রথমে এই সমস্যার মুখে পড়েন আর্জেন্তিনার বাসিন্দারা। শুধুমাত্র একটি প্রদেশ ছাড়া সমগ্র আর্জেন্তিনায় হঠাৎই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেশী দেশ উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ের বিরাট অংশও এই সমস্যার সম্মুখীন হয়। আঁচ পড়ে ব্রাজ়িল এবং চিলির কিছু অংশেও। জেনারেটরের সাহায্যে হাসপাতালসহ বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু রাখা হলেও থমকে যায় বিদ্যুৎচালিত নানা যানবাহনসহ আরও অনেক কিছুই। রাতের দিকে আর্জেন্তিনা এবং প্যারাগুয়েতে বিদ্যুৎ চালু হলেও বাকি দেশগুলোয় অবস্থা স্বাভাবিক হতে লেগে যায় একদিনেরও বেশি। কী কারণে এই বিপর্যয়, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি।

লৌহযুগে বাকল দিয়ে তৈরি হত ঢাল

সময়টা লৌহযুগ। সেই সময় মানুষ গাছের বাকল দিয়ে রোজকার ব্যবহার্য বাসনপত্র এবং আরও নানা জিনিস বানাত। সম্প্রতি নৃতত্ত্ববিদরা এমন একটি জিনিস খুঁজে পেয়েছেন, যা তাঁদের অবাক করেছে। সেটি হল বাকলের তৈরি একটি ঢালের ধ্বংসাবশেষ। কার্বন ডেটিং প্রক্রিয়ায় ইংল্যান্ডে প্রাপ্ত এই জিনিসটির বয়স বের করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৫ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৫৫-র মধ্যে এটি তৈরি হয়েছিল, যে সময়টাকে লৌহযুগের মাঝামাঝি বলে ধরা হয়। ঢালটি সম্ভবত উইলো, পপলার কিংবা হেজ়েল জাতীয় গাছের বাকল দিয়ে তৈরি। তবে ঢালের মতো আত্মরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিসও যে গাছের বাকল দিয়ে বানানো হত, এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছেন নৃতত্ত্ববিদরা।

কলকাতায় অ্যানাকোন্ডা!

গত বছর থেকেই শোনা যাচ্ছিল, আলিপুর চিড়িয়াখানায় নাকি আসতে চলেছেন ভয়াল, বিশাল সরীসৃপ অ্যানাকোন্ডা। সেই শুরু দিন গোনার। অবশেষে অপেক্ষার অবসান। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ় ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক অ্যান্ড সেন্টার ফর হারপেটোলজি থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছেছে চার-চারটি হলুদ অ্যানাকোন্ডা। পরিবর্তে আলিপুর থেকে চারটি কেউটে এবং চারটি শাঁখামুটিকে পাঠানো হয়েছে চেন্নাইতে। নতুন অতিথিরা নাকি এই মুহূর্তে লম্বায় চার-সাড়ে চার ফুট। তবে তারা বাড়তে পারেন ১৫ ফুট পর্যন্তও। আপাতত অবশ্য একমাস এদের রাখা হবে পর্যবেক্ষণে। কলকাতার জল-হাওয়ায় এই চারজন একটু মানিয়ে নিতে শিখলেই তাদের নিয়ে আসা হবে দর্শকদের সামনে। টিভি কিংবা সিনেমার পরদার বাইরে! এক্কেবারে চোখের সামনে! উফফ!

লৌহযুগে বাকল দিয়ে তৈরি হত ঢাল

সময়টা লৌহযুগ। সেই সময় মানুষ গাছের বাকল দিয়ে রোজকার ব্যবহার্য বাসনপত্র এবং আরও নানা জিনিস বানাত। সম্প্রতি নৃতত্ত্ববিদরা এমন একটি জিনিস খুঁজে পেয়েছেন, যা তাঁদের অবাক করেছে। সেটি হল বাকলের তৈরি একটি ঢালের ধ্বংসাবশেষ। কার্বন ডেটিং প্রক্রিয়ায় ইংল্যান্ডে প্রাপ্ত এই জিনিসটির বয়স বের করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৫ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৫৫-র মধ্যে এটি তৈরি হয়েছিল, যে সময়টাকে লৌহযুগের মাঝামাঝি বলে ধরা হয়। ঢালটি সম্ভবত উইলো, পপলার কিংবা হেজ়েল জাতীয় গাছের বাকল দিয়ে তৈরি। তবে ঢালের মতো আত্মরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিসও যে গাছের বাকল দিয়ে বানানো হত, এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছেন নৃতত্ত্ববিদরা।

বায়ুদূষণে হাঁসফাঁস করছে ভারত

recগত বছর আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে দূষণ তালিকায় ১৭৭-এ ছিল আমাদের দেশ। এবছর পরিস্থিতি আরও বিগড়েছে বই শুধরোয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘স্টেট অফ গ্লোবাল এয়ার ২০১৯’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর ভারতে প্রাণ হারাচ্ছেন ১২ লক্ষ মানুষ। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বাড়ছে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, চেন্নাইয়ের মতো দেশের সব বড় শহরেই। এবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসের থিম হিসেবে রাষ্ট্রপুঞ্জ বেছে নিয়েছে ‘বায়ুদূষণ’কেই। সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, এই দেশের প্রায় ৭৬•৮% মানুষ দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন বা নিতে বাধ্য হন। কারণ বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার নিরিখে আমাদের দেশের ১০২টি শহরেই বায়ুদূষণের মাত্রা ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। পাশাপাশি, সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে দেশে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। ফলে সব মিলিয়ে ঘরে-বাইরে ঘোর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছি আমরা সবাই। পরিবেশ দিবস তো বছরে একদিন, কিন্তু তারপরেও বছরের প্রত্যেক দিনেই বাতাসের দূষণ কমাতে না পারলে এই গ্রহের কতটা ক্ষতি হবে জানা নেই, তবে ডায়নোসরদের মতোই মানুষেরও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে ষোলো আনা!

লৌহযুগে বাকল দিয়ে তৈরি হত ঢাল

সময়টা লৌহযুগ। সেই সময় মানুষ গাছের বাকল দিয়ে রোজকার ব্যবহার্য বাসনপত্র এবং আরও নানা জিনিস বানাত। সম্প্রতি নৃতত্ত্ববিদরা এমন একটি জিনিস খুঁজে পেয়েছেন, যা তাঁদের অবাক করেছে। সেটি হল বাকলের তৈরি একটি ঢালের ধ্বংসাবশেষ। কার্বন ডেটিং প্রক্রিয়ায় ইংল্যান্ডে প্রাপ্ত এই জিনিসটির বয়স বের করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৫ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৫৫-র মধ্যে এটি তৈরি হয়েছিল, যে সময়টাকে লৌহযুগের মাঝামাঝি বলে ধরা হয়। ঢালটি সম্ভবত উইলো, পপলার কিংবা হেজ়েল জাতীয় গাছের বাকল দিয়ে তৈরি। তবে ঢালের মতো আত্মরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিসও যে গাছের বাকল দিয়ে বানানো হত, এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছেন নৃতত্ত্ববিদরা।

দেখা গেল ‘মোনালিসা’র বিভিন্ন রূপ

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত ছবি ‘মোনালিসা’ তো আমরা প্রায় সকলেই দেখেছি। সেই ছবির রহস্যময়ী হাসি সকলেরই নজর কেড়েছে। সম্প্রতি দেখা গেল সেই ছবির আরও বর্ধিত কয়েকটি রূপ। কয়েকদিন আগে ইন্টারনেটে একটি ভিডিয়োতে দেখা গেল, ছবির মোনালিসা মাথা ঘোরাচ্ছেন, ঠোঁট নাড়াচ্ছেন। কী করে হল এটা? এটা সম্ভব করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে যন্ত্র অর্থাৎ কম্পিউটার প্রায় মানুষের মাথার মতোই কোনও জিনিসের বিশ্লেষণ করতে পারে। এই পদ্ধতিতেই আসল মোনালিসার ছবির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য রূপগুলো তৈরি করেছে কম্পিউটার। শুধু মোনালিসাই নয়, আরও বহু বিখ্যাত ব্যক্তিদের এইরকম বিভিন্ন ভঙ্গিমার ছবি তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, চিত্রশিল্পী সালভাদর দালির মতো ব্যক্তিরা।

লৌহযুগে বাকল দিয়ে তৈরি হত ঢাল

সময়টা লৌহযুগ। সেই সময় মানুষ গাছের বাকল দিয়ে রোজকার ব্যবহার্য বাসনপত্র এবং আরও নানা জিনিস বানাত। সম্প্রতি নৃতত্ত্ববিদরা এমন একটি জিনিস খুঁজে পেয়েছেন, যা তাঁদের অবাক করেছে। সেটি হল বাকলের তৈরি একটি ঢালের ধ্বংসাবশেষ। কার্বন ডেটিং প্রক্রিয়ায় ইংল্যান্ডে প্রাপ্ত এই জিনিসটির বয়স বের করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৫ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৫৫-র মধ্যে এটি তৈরি হয়েছিল, যে সময়টাকে লৌহযুগের মাঝামাঝি বলে ধরা হয়। ঢালটি সম্ভবত উইলো, পপলার কিংবা হেজ়েল জাতীয় গাছের বাকল দিয়ে তৈরি। তবে ঢালের মতো আত্মরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিসও যে গাছের বাকল দিয়ে বানানো হত, এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছেন নৃতত্ত্ববিদরা।

এবার শব্দের ছোঁয়াতেই তৈরি হবে বাষ্প

জল ফুটে তৈরি হয় বাষ্প, অনেক সময়ে তাপের প্রভাবে জলের উপরিভাগ থেকেও বাষ্প তৈরি হয়ে মিশে যায় বাতাসে। তবে এতদিন পর্যন্ত যে-কোনও উপায়েই জল থেকে বাষ্প তৈরিতে তাপের ভূমিকা ছিল অপরিহার্য। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক পরীক্ষায় প্রমাণ করেছেন যে, তাপপ্রয়োগ ছাড়াও জল থেকে বাষ্প তৈরি সম্ভব। সেক্ষেত্রে বাইরে থেকে শব্দের প্রয়োগ করতে হবে। জলের তলার নানা কার্যকলাপ পরীক্ষা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এক তীব্র আওয়াজের হদিশ পেয়েছেন। এই শব্দ সমুদ্রের তলার কোন ভূমিকম্পের ফল নয়, এটি উচ্চচাপে তৈরি একটি ছোট্ট ওয়া়টার জেট, যার বেধ আমাদের একটি চুলের বেধের অর্ধেক। প্রায় ২৭০ ডেসিবেলের এই শব্দ মানুষের কানে ধরা দেয় না, কিন্তু এর বিধ্বংসী ক্ষমতা জলের সংস্পর্শে এসে জলকে বাষ্পে পরিণত করতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশা, আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে এই শব্দপ্রবাহকে চালনা করলে জলকে ফোটানোও যেতে পারে। জলের তলায় বিভিন্ন শব্দের প্রভাবে কীভাবে বিভিন্ন অণুর পরিবর্তন ঘটে, এই আবিষ্কার সেই বিষয়ে আরও গবেষণায় সাহায্য করবে।

‘দৈত্য’দের হাতে তৈরি বিশাল পাথরের জার

দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট দেশ লাওস। সেই লাওসের জিয়াংখুয়াং প্রদেশের এক জঙ্গলে অভিযান চালাচ্ছিলেন একদল ন়ৃতত্ত্ববিদ। সেখানে তারা খুঁজে পেলেন প্রায় ১০ফুট লম্বা পাথরের বিশাল জার। সংখ্যায় যা একশোরও বেশি। কিন্তু কী কাজে ব্যবহার হত এই জারগুলো? ওই একই জায়গা থেকে পাওয়া গিয়েছে প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো কবরও। তাই নৃতত্ত্ববিদরা মনে করছেন, মৃ়তদেহকে এই জারে ভরেই কবর দেওয়া হত। তবে এই বিশাল জারগুলো কারা বানিয়েছিলেন, সে বিষয়ে গবেষকরা এখনও অন্ধকারেই রয়েছেন, তবে যাঁরা এই দৈত্যাকৃতি জার বানিয়েছিলেন, তাঁরা যে খুব একটা দুবলা-পাতলা ছিলেন না, এ কথা বলাই বাহুল্য। তবে এই ধরনের জারের হদিশ আগেও পাওয়া গিয়েছিল লাওসেরই অন্য এক অঞ্চলে।