Category Archives: Bizzare facts

আমেরিকায় এসেছিল ভিনগ্রহীরা?

Bizarre-Facts-img01 উড়ন্ত চাকি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আর কৌতূহল চিরন্তন। অনন্ত এই মহাবিশ্বে আমরা যে একা নই, এই বিশ্বাস যবে থেকে মানুষের মনে জন্মেছে, তবে থেকেই তার আশা, ব্রহ্মাণ্ডের কোথাও না-কোথাও নিশ্চয়ই বাস করে আমাদের মতোই, কিংবা হয়তো আমাদের চেয়েও উন্নত আর বুদ্ধিমান কোনও প্রাণী। একদিন না-একদিন নিশ্চয়ই তারা আসবে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে। কিংবা হয়তো এসেছিল অনেকদিন আগে। এখনও কি বারবার তারা আসে, কিন্তু গোপনীয়তা রক্ষা করে থেকে যায় আমাদের সবার চোখের আড়ালে? উড়ন্ত চাকি নিয়ে এমনই এক রহস্যময় গল্প তোমাদের আজ বলব এই লেখায়।

১৯৪৭ সাল। আমেরিকার নিউ মেক্সিকোতে, রসওয়েল নামের শহর থেকে ৭৫ মাইল দূরের এক গ্রাম। সেখানকার এক পশুপালক (ম্যাক ব্র্যাজ়েল) রোজকার মতোই সকাল-সকাল তাঁর ভেড়ার পালকে ঘাস খাওয়াতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন এ কী আশ্চর্য ঘটনা! দিনের আলোয়, মাঠের ঠিক মধ্যিখানে ওগুলো কী আবর্জনা পড়ে আছে? একরাশ বিরক্তি মনে চেপে রেখে নোংরার স্তূপটার দিকে এগিয়ে যান ম্যাক। এ কী! এ তো টেপ দিয়ে জুড়ে রাখা একগোছা ধাতব দণ্ড, প্লাস্টিক আর অন্যান্য মোড়ক, আর কিছু চকচকে কাগজের মতো জিনিসপত্র! মাথামুন্ডু কিছু বুঝতে না পেরে ম্যাক খবর দিলেন রসওয়েলের শেরিফকে। শেরিফ এলেন বটে, তবে তিনিও বুঝতে পারলেন না জিনিসগুলো কী আর এলই বা কোথা থেকে। ফলে খবর গেল রসওয়েল আর্মি এয়ার ফোর্সে বেস-এ। দেখতে-দেখতেই ম্যাকের খামার ছেয়ে গেল সৈন্যসামন্তে, যাঁরা যত্নের সঙ্গে সমস্ত টুকরোটাকরা তুলে নিয়ে চলে গেলেন বড়-বড় ট্রাকে তুলে।

কিন্তু চুপচাপ চলে গেলেই তো আর হল না! পরদিন খবরের কাগজের পাতা থেকে শুরু করে পাড়ায়-পাড়ায় এই নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার পর সেনাবাহিনীর লোকেরা বিবৃতি দিয়ে জানালেন, ও কিছু নয়! তাঁরা নাকি আবহাওয়ার খবর নিতে ‘ওয়েদার বেলুন’ পাঠিয়েছিলেন। ম্যাকের খামারে পাওয়া গিয়েছে সেই বেলুনেরই ভাঙা অংশ। বলাই বাহুল্য, লোকে আদৌ একথা বিশ্বাস করল না। পরের কয়েক বছর নিউ মেক্সিকোর আরও বিভিন্ন জায়গায় ধপাধপ এমন সব ভাঙা টুকরোটাকরা আকাশ থেকে পড়তে থাকল। কয়েক জায়গায় তো যন্ত্রপাতির ভাঙা টুকরোর সঙ্গে-সঙ্গে মানুষের মতো দেখতে পুতুলের ভাঙাচোরা অংশও পাওয়া গেল! ব্যস, স্থানীয় মানুষরা নিশ্চিত বিশ্বাস করে বসলেন, ওগুলো ভিনগ্রহ থেকে আসা উ়ড়ন্ত চাকি বই অন্য কিচ্ছু হতেই পারে না। আর ওই ছেঁড়াখোঁড়া পুতুলগুলো নিঘঘাত ভিনগ্রহীদের মৃতদেহ! এর আগে সেনাবাহিনীকে চেপে ধরায় তাঁরা এই অদ্ভুত ঘটনার একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ফলে হাতের কাছে অন্য কাউকে না পেয়ে ফের একবার চেপে ধরা হল তাঁদেরই। সেনাবাহিনীর লোকেরা একটুও না ঘাবড়ে সাংবাদিকদের ডেকে এনে ফলাও করে বলে দিলেন, ‘আরে ও কিছু নয়! মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান ভেঙে গেলে বা দুর্ঘটনায় পড়লে বিমানচালক যাতে সহজে ও নিরাপদে মাটিতে নেমে আসতে পারেন, তারই মহড়া দেওয়া হচ্ছিল। আমরা নতুন কিছু ব্যবস্থাট্যবস্থা করেছি, তার জন্যই মানুষের মতো পুতুল বানিয়ে পরীক্ষা করছিলাম আর কী!’ এবং, বলাই বাহুল্য, সাধারণ মানুষ তাঁদের কথা এক ফোঁটাও বিশ্বাস করলেন না। বরং এত বছর পর আজও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ রসওয়েলে যান সেই জায়গাগুলো দেখতে, যেখানে নাকি ভিনগ্রহীরা ভুল করে এসে পড়েছিল! সত্যিই এসেছিল কি?

কাঁদালেই পুরস্কার

Bizarre-Facts-fb-img1 জাপানের নানা মন্দিরে চালু, ৪০০ বছরের প্রাচীন এই প্রথার কথা শুনলে একটু-একটু খারাপই লাগবে হয়তো। প্রথার নাম ‘কোনাকি সুমো’। জাপানের ইয়াম্মোটা সুমো পালোয়ানদের কথা তো তোমরা অনেকে জানই। আর ‘কোনাকি’ শব্দের মানে হল গিয়ে ‘কান্না’। তা হলে কোনাকি সুমো কথাটার মানে দাঁড়াল ‘কাঁদতে থাকা সুমো’। অথচ এই অনুষ্ঠানে কিন্তু সুমোরা আদৌ কাঁদেন না। অনুষ্ঠানের প্রথা মেনে দুই সুমো পালোয়ান নিজের-নিজের কোলে দুই পুঁচকে শিশুকে নিয়ে একে অন্যের মুখোমুখি দাঁড়ান। নিয়ম অনুযায়ী, যাঁর কোলের বাচ্চা আগে কেঁদে ফেলবে, জিতে যাবেন তিনিই। শুধু যে সুমোরাই নিজের কোলে থাকা বাচ্চাকে কাঁদানোর চেষ্টা করবেন, তা-ই নয়, ঘটনাটা ঘটার সময় পাশেই দাঁড়িয়ে থাকেন এক পুরোহিত। বিচিত্র সব অঙ্গভঙ্গি করে তিনিও চেষ্টা করতে থাকেন ছোট-ছোট বাচ্চাদের কাঁদানোর। বছরের নানা সময়, জাপানের আলাদা-আলাদা মন্দিরে এই অনুষ্ঠান বেশ আনন্দ করে পালন করা হয়।

আর দুই পালোয়ানের কোলের বাচ্চা একই সময়ে কাঁদলে? তখন সেই পালোয়ানকে জেতানো হয়, যে বেশি জোরে চেঁচিয়ে কেঁদেছে! কী বিচ্ছিরি না?

মশা-রাজার উৎসব

Bizarre-Facts-fb3গল্পকথা অনুযায়ী, পবিত্র রক্তের অধিকারী, মশাদের রাজা উইলি-ম্যান-চিউ বহু বছর আগে নিজের জন্য একটি স্বপ্ননগরী খুঁজছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে বহু দিন ধরে, বহু দেশ ঘুরে অবশেষে টেক্সাসের ক্লুট নামের এক জায়গায় এসে রাজা দেখেন, সেই চত্বরে শয়ে-শয়ে নাদুসনুদুস মানুষ এক বিশাল মাঠের ইতিউতি ভীষণ হইহুল্লোড় করছে। ব্যস, দেখামাত্রই জায়গা রাজার মনে ধরে যায়। রাজামশাইয়ের মর্জি হয়েছে, তার পরেও পারিষদরা তো আর বেশিক্ষণ চুপ করে থাকতে পারেন না। রাজার নির্দেশে তাঁর ‘সোয়্যাট টিম’ (যার সদস্যরা আসলে মানুষ) অতএব সঙ্গে-সঙ্গে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। সেই থেকে বছর-বছর টেক্সাসের ক্লুটে ‘দ্য গ্রেট টেক্সাস মসকিউটো ফেস্টিভ্যাল’ হতে থাকল। এবছর এই উৎসব পা দেবে ৩৯ বছরে। না হয় মশা একটু রক্ত খেলই, তা বলে তাদের ছাড়া তো জীবন কাটানো অসম্ভব রে বাবা! তার চেয়ে না হয় ওদের মনে রেখে একটু আনন্দ-উৎসবই হল! বড় হয়ে কখনও জুলাই মাসের শেষে টেক্সাসে যেতে পারলে দারুণ এই উৎসব দেখে আসতে ভুলো না যেন!

বাদুড় যখন হাতিয়ার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরমাণু বোমা বানানোর আগে বাদুড়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কথা ভেবেছিল আমেরিকা। এই ধরনের বোমায় একটি চোঙাকৃতি পাত্র বানানো হয়েছিল, যে পাত্রের মধ্যে ছিল সহস্রাধিক খোপ। সেই খোপে রাখা থাকত ঘুমন্ত মেক্সিকান বাদুড় এবং প্রতিটি বাদুড়ের সঙ্গে একটি করে ছোট, টাইম বোমা বাঁধা থাকত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোরবেলা একটি বোমারু বিমানের সাহায্যে প্যারাসুটের সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি এই বোমা ফেলা হবে এবং বাদুড়গুলিকে ছেড়ে দেওয়া হবে। বাদুড়গুলি উড়তে থাকবে এবং আগে থেকে ঠিক করা নির্দিষ্ট সময়ে বোমাগুলি ফেটে যাবে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাপানের যে শহরগুলি ঠিক করা হয়েছিল, সেগুলি ছিল বেশিরভাগই কাগজ এবং কাঠে তৈরি। ফলে সহজেই বিস্ফোরণ ঘটে যেত। তবে কোনও অজানা কারণে এই বোমা কোনওদিনই ব্যবহার করা হয়নি।

মুণ্ডহীন মাইক

ধড় আছে, কিন্তু মুন্ডু নেই। এমতাবস্থায় কোনও প্রাণীর পক্ষে কি বেঁচে থাকা সম্ভব? স্কন্ধকাটা ভূত ছাড়া আর কেউ এভাবে ঘুরেফিরে বেড়াতে পারে বলে জানা যায় না। ভূতটুতে অবশ্য অনেকেই বিশ্বাস করেন না। তাদের জন্য তাই এই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছিল ‘মুণ্ডহীন মাইক’! ১৯৪৫ সালে কলোরাডোর এক কৃষক মুরগি কাটতে গিয়ে এমন বিচ্ছিরি কোপ মারেন যে মুরগির ঘাড়ের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিরা অক্ষত থেকে যায়। মাথাটা বাদ গেলেও মস্তিষ্কের বেশ কিছুটাও লেগে থেকে যায় শরীরের সঙ্গে। ‘মাইক’ নামের সেই মুরগি অমন স্কন্ধকাটা হয়ে বেঁচে ছিল টানা ১৮ মাস! এই পুরো সময়টা মাইককে জল আর দুধের মিশ্রণ ড্রপারে করে খেতে দেওয়া হত। দিকে-দিকে তার খ্যাতিও এমনই ছড়িয়েছিল যে, তাকে নিয়ে তার মালিক নানা জায়গায় প্রদর্শনী করে বেড়িয়ে বহু অর্থ উপার্জন করেছিলেন। মালিকের দু’হাতে সেই টাকার গোছা অবশ্য মাইক স্বচক্ষে দেখে যেতে পারেনি। দেখবেই বা কী করে। তার যে মুন্ডুই ছিল না!

শূকরদের দ্বীপ

উত্তর আমেরিকার একপাশে বাহামা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৩৬৫ খানা ছোট-বড় দ্বীপকে একত্রে বলা হয় এক্সুমা। আমাদের আগ্রহ এই লেখায় ঘনীভূত হবে তার মধ্যে একটিমাত্র দ্বীপের উপর, যার নাম ‘বিগ মেজর কে’। যাকে কিনা অনেকেই বলে থাকেন ‘শূকর দ্বীপ’! এরকম অদ্ভুত নামকরণের কারণ?
জনমনিষ্যিহীন এই দ্বীপের কাছাকাছি গেলেই শুনতে পাবে শূকরদের হাঁকডাক, ঘোঁতঘোঁত ভীমবিক্রমে কেঁপে উঠবে কানের পরদা! এর কারণ আর কিছুই নয়, দ্বীপ জুড়ে বিপুল সংখ্যায় শূকরদের উপস্থিতিই এর জন্য দায়ী!
ঠিক কবে, কোথা থেকে শূকররা এই দ্বীপে এসে হাজির হয়েছিল, জানা নেই। কেউ বলে দ্বীপের ধারকাছে ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকেই শূকরদের পাল এসে পৌঁছেছিল এই দ্বীপে। কেউ আবার বলে জলদস্যুরা এককালে শূকরদের রেখে গিয়েছিল এই দ্বীপে, পরে সময়মতো ফিরে এসে কেটেকুটে খাবে বলে। কিন্তু ফিরে আসা আর তাদের হয়নি।
সে যেভাবেই তারা এসে থাকুক না কেন, আজকাল এই দ্বীপের শূকররা আছে মহা ফুর্তিতে। প্রথম-প্রথম দ্বীপের জঙ্গলে খাবার খুঁজে বেড়াতে হলেও এখন দ্বীপে তাদের দেখতে ভিড় জমানো মানুষের কাছ থেকেই দিব্যি পেট ভরে খাবার খাওয়া হয়ে যায়। ভিড় জমানো মানুষদের সঙ্গে চুটিয়ে তারা খেলে বেড়ায় দিনভর, সাঁতারও কাটে একসঙ্গে। শূকরদের স্বর্গরাজ্য আর কাকে বলে!

বেবি-জাম্পিংয়ের উৎসব

স্পেনের বার্গোস প্রদেশের গ্রাম ক্যাসত্রিলো দে মুরসিয়াতে প্রতিবছর জুনমাসে অনুষ্ঠিত হয় এক অদ্ভুত উৎসব, যার নাম ‘এল কোলাসো’ বা বেবি জাম্পিং। এই অনুষ্ঠানে রাস্তায় ১২ মাস বা তার চেয়ে কম বয়সি শিশুদের তোষক পেতে শুইয়ে রাখা হয়। তারপর এক বা একাধিক মানুষ লাল-হলুদ পোশাক পরে ‘শয়তান’ সেজে লাফিয়ে সেই শিশুদেরকে টপকায়। ১৬২০ সাল থেকে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের একটি প্রথা হিসেবে এটি চলে আসছে। বিশ্বাসীরা মনে করেন এতে শিশুদের জীবনের পথ মসৃণ হয় এবং অশুভ প্রভাব কেটে যায়। আশ্চর্য প্রথা, তাই না?

dvbottom_bg-624x1951112

ওজন কমায় চাঁদ!

ওজন এক বিচ্ছিরি জিনিস, তাই না? একটু বাড়ল কি অমনি বাড়ির বড়রা সব্বাই মিলে শুরু করবে ‘না’-এর ফিরিস্তি! তাও আবার জীবনের প্রিয় জিনিসগুলোতেই ‘না’! চিপ্‌স না, চকোলেট না, আইসক্রিম না, সন্দেশ-রসগোল্লা না… সে এক মহাবিপদ! তবে একবার চাঁদে যেতে পারলেই নিশ্চিন্তি! কেন? ছোটবেলা থেকেই তো পড়ছি চাঁদে যে-কোনও কিছুর ওজন পৃথিবীতে সেই বস্তুর ওজনের ছ’ভাগের একভাগ। তাই কেউ যদি বলে, ‘তোমার ওজন বেশি!’ তা হলে বলতেই পার, ‘ওজন ভুল নয়, জায়গাটা বেঠিক! চাঁদে গেলে বুঝতে!’ তবে এটাও কি জানতে যে, চাঁদের ঠিক নীচে দাঁড়িয়ে ওজন নিতে পারলেও ওজন কম আসে! পূর্ণ চাঁদ মাথার উপরে পৃথিবীর যত কাছাকাছি থাকবে, সেসময় ওজন নিলে সামান্য কিছুটা হলেও ওজন কমবে। এর কারণ হল, পৃথিবীর উপর বস্তুর ওজন সেই বস্তুর উপর পৃথিবীর অভিকর্ষের টানের উপর নির্ভর করে। চাঁদ ঠিক মাথার উপর থাকলে চাঁদের ঊর্ধ্বমুখী টান পৃথিবীর নিম্নমুখী অভিকর্ষকে খানিকটা কাটাকুটি করে দেয়, ফলে ওজনও কম আসে। বেশ মজার ঘটনা, তাই না?

ওজন কমায় চাঁদ!

ওজন এক বিচ্ছিরি জিনিস, তাই না? একটু বাড়ল কি অমনি বাড়ির বড়রা সব্বাই মিলে শুরু করবে ‘না’-এর ফিরিস্তি! তাও আবার জীবনের প্রিয় জিনিসগুলোতেই ‘না’! চিপ্‌স না, চকোলেট না, আইসক্রিম না, সন্দেশ-রসগোল্লা না… সে এক মহাবিপদ! তবে একবার চাঁদে যেতে পারলেই নিশ্চিন্তি! কেন? ছোটবেলা থেকেই তো পড়ছি চাঁদে যে-কোনও কিছুর ওজন পৃথিবীতে সেই বস্তুর ওজনের ছ’ভাগের একভাগ। তাই কেউ যদি বলে, ‘তোমার ওজন বেশি!’ তা হলে বলতেই পার, ‘ওজন ভুল নয়, জায়গাটা বেঠিক! চাঁদে গেলে বুঝতে!’ তবে এটাও কি জানতে যে, চাঁদের ঠিক নীচে দাঁড়িয়ে ওজন নিতে পারলেও ওজন কম আসে! পূর্ণ চাঁদ মাথার উপরে পৃথিবীর যত কাছাকাছি থাকবে, সেসময় ওজন নিলে সামান্য কিছুটা হলেও ওজন কমবে। এর কারণ হল, পৃথিবীর উপর বস্তুর ওজন সেই বস্তুর উপর পৃথিবীর অভিকর্ষের টানের উপর নির্ভর করে। চাঁদ ঠিক মাথার উপর থাকলে চাঁদের ঊর্ধ্বমুখী টান পৃথিবীর নিম্নমুখী অভিকর্ষকে খানিকটা কাটাকুটি করে দেয়, ফলে ওজনও কম আসে। বেশ মজার ঘটনা, তাই না?

ভাগ্যিস ফেসবুক ছিল!

কম্পিউটারের এম এস ওয়র্ড জানো তো? মাইক্রোসফ্‌ট ওয়ার্ড-এরই ছোট নাম এম এস ওয়র্ড। এই সেই সফ্‌টওয়্যার, যার সাহায্যে কম্পিউটারে লেখালিখি করতে পারি আমরা। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যাচ্ছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানার এক স্কুলের এক কম্পিউটার শিক্ষককে। তাঁর স্কুলে কম্পিউটার নেই। ফলে তিনি ক্লাসভর্তি পড়ুয়াদের এম এস ওয়র্ড শেখাচ্ছেন, ক্লাসের ব্ল্যাকবোর্ডে ছবি এঁকে-এঁকে।
এখন ব্যাপার হল এই যে, কম্পিউটারের একটা সফ্‌টওয়্যারের খুঁটিনাটি ব্ল্যাকবোর্ডে এঁকে দেখানো মোটেই মুখের কথা নয়। সেই কারণেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি দেখে নড়েচড়ে বসেছেন সারা বিশ্বের অনেক মানুষই। সৌদির এক পি এইচ ডি ছাত্র ইউনাইটেড কিংডম থেকে ঘানার ওই স্কুলে পাঠিয়েছেন ল্যাপটপ। আমাদের দেশের বড় ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি এন আই আই টি-র পক্ষ থেকেও ওই স্কুলে পাঠানো হয়েছে ল্যাপটপ আর বই। সাহায্য করছেন মাইক্রোসফ্‌ট কর্তৃপক্ষও। ফেসবুকের মাধ্যমে ভাল কাজও যে বিশ্বে কিছু-কিছু হচ্ছে, এই ঘটনা আরও একবার তারই প্রমাণ দিল।