issue_cover
x

Praani-Jogot-গু আফ্রিকার দক্ষিণে মস্ত বড় দ্বীপ মাদাগাস্কার। তার বেশ খানিকটা উত্তরে, ভারত মহাসাগরের বুকে দেখা পাওয়া যায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবালদ্বীপ অ্যালডাব্রা-র। সেখানে একসময় বাস করত আকারে মুরগির মতো পাখি ‘হোয়াইট থ্রোটেড রেল’। প্রায় এক লক্ষ ৩০ হাজার বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় আস্ত দ্বীপটি। দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রবালদ্বীপে থাকার ফলে উ়ড়তে ভুলে গিয়েছিল এই পাখি। ফলে দ্বীপ ডুবে যাওয়ায় বেঘোরে প্রাণ হারায় তারাও। পরবর্তীতে, কয়েক হাজার বছর পর জল নেমে যাওয়ায় আবার ভেসে ওঠে দ্বীপ। আর কী আশ্চর্য! দ্বীপে গিয়ে ফের দেখা মেলে ওই হোয়াইট থ্রোটেড রেল পাখির, যারা কিনা উড়তে পারে না! কী করে সম্ভব হল এই অসম্ভব ঘটনা? মাঝের ওই কয়েক হাজার বছর কোথায় ছিল তারা? বিজ্ঞানীরা ওই প্রবালদ্বীপে ওই পাখির লক্ষ বছর আগের জীবাশ্ম এবং তার কয়েক হাজার বছর পরের জীবাশ্ম পরীক্ষা করে বুঝেছেন, এর পিছনে আছে বিবর্তনের এক আশ্চর্য খেলা, যার নাম তাঁরা দিয়েছেন, ‘ইটারেটিভ ইভোলিউশন’। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পাখিদের আদি পূর্বপুরুষরা ছিল মাদাগাস্কার দ্বীপে। ক্রমশ সেখান থেকে তারা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের অন্যান্য দ্বীপে। কেউ চলে যায় আফ্রিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ডে। দ্বীপ যখন জেগে উঠল, তখন আবার একবার এই পাখি আশপাশ থেকে উড়ে এসে বাসা বাঁধল এবং দীর্ঘদিন সেখানে থাকতে-থাকতে আবার একবার উড়তে ভুলে গেল। ডোডো পাখি এই কায়দা জানত না। ফলে বিলুপ্ত হতে হয়েছিল তাকে। হোয়াইট থ্রোটেড রেলের কপাল ভাল। তাই তার দেখা পাওয়া যাচ্ছে এখনও। সেই একই জায়গায়।