issue_cover
x


কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোলের কথা নিশ্চয়ই তোমরা অনেকেই জান। মহাজাগতিক এই রাক্ষুসে গহ্বরের গ্রাসে একবার গিয়ে পড়লে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না এমনকী আলোকরশ্মিও। কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ চিরন্তন, তার একটা বড় কারণ এই যে, তাকে কখনও দেখতে পাইনি আমরা। এই নিয়ে ভাবতে বসে পাতার পর-পাতা, খাতার পর-খাতা অঙ্ক কষে তবে গিয়ে তার চেহারা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটা ধারণা পাওয়া গিয়েছে। কীভাবে কৃষ্ণগহ্বরের জন্ম হয়, তার প্রকৃতিই বা কেমন হতে পারে, এসবেরও অনেকটা বিজ্ঞানীরা আঁচ করতে পেরেছেন বটে। তবে যাকে নিয়ে এত কথা, তার একখানা ফোটো আজ পর্যন্ত আমরা তুলতে পারিনি। যে জিনিসের খপ্পর থেকে আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না, তার ফোটো অত সহজে তোলা যাবেই বা কী করে, তাই না? সম্প্রতি আমেরিকার জাতীয় গবেষণা সংস্থা (ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন) জানিয়েছে, এপ্রিলের ১০ তারিখ তাঁরা সারা বিশ্বের নানা জায়গায় সাংবাদিক সম্মেলন করে ‘ইভেন্ট হরাইজ়ন টেলিস্কোপ’ প্রজেক্ট সম্পর্কে অভূতপূর্ব খবর দেবেন। সেই খবরটা যে ঠিক কী, তা নিয়ে তাঁরা মুখ না খুললেও ওয়াকিবহাল মহলের বিশ্বাস, ওই টেলিস্কোপ যেহেতু ব্ল্যাক হোল খুঁজতেই বানানো হয়েছিল, তা হলে নিশ্চয়ই এতদিনে ব্ল্যাক হোলের ফোটো তোলা গিয়েছে। ঘটনাটা হেলাফেলার নয়, কারণ ১৯১৫ সালে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদের যে তত্ত্ব দিয়েছিলেন, এতদিন ব্ল্যাক হোল নিয়ে সমস্ত অঙ্ক কষা হয়েছিল মূলত তার উপর ভিত্তি করেই। সেই তত্ত্বের উপর নির্ভর করে ব্ল্যাক হোলকে যেমন দেখতে হওয়া উচিত, সেরকমটা না হলেই চিত্তির! সব অঙ্ক তখন আবার কষতে হবে নতুন করে। কিন্তু ফোটোটা কি আদৌ তোলা গিয়েছে? তা জানা যাবে আগামিকাল, অর্থাৎ এপ্রিলের ১০ তারিখ।

চিত্রসৌজন্য : নাসা

একতলা বাড়ির সমান পাইথন

ফ্লোরিডার বিগ সাইপ্রেস জাতীয় সংরক্ষণকেন্দ্র থেকে সম্প্রতি সরিয়ে ফেলা হল ১৭ ফুট লম্বা এবং ৬৩ কেজি ওজনের একটি স্ত্রী পাইথনকে। সাপটা যে ঠিক কত বড়, সঙ্গের ছবিতে তো তোমরা সেটা দেখতে পাচ্ছই, এবার একটু ভেবে দেখো এই সাপকে লম্বালম্বি দাঁড় করালে সেটা ঠিক কতটা উঁচু হবে! অন্তত একটা একতলা বাড়ির সমান তো বটেই। দৈত্যাকৃতি এই সাপ ধরতে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল ওই প্রজাতিরই কয়েকটি পুরুষ সাপকে। শেষমেশ যখন স্ত্রী সাপটিকে ধরা হয়, তখন তার পেটে ছিল ৭২টি ডিম। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে এই যে, সাপটাকে ধরার পর ওই সংরক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা তাকে মেরে ফেলেছেন। নষ্ট করে দিয়েছেন সাপের পেটের সমস্ত ডিমও। আর এখানেই দ্বিধাবিভক্ত হয়েছেন সারা বিশ্বের মানুষ। ইন্টারনেটের সৌজন্যে সাপের ছবি আর তার পরিণতির কথা জনসমক্ষে আসতেই লেগেছে গোলমাল। পশুপ্রেমীরা বলছেন, সাপ এবং তার ডিম, কোনওটাকেই হত্যা করা অত্যন্ত অমানবিক হয়েছে! আর-একদলের আবার বক্তব্য, ‘আপনার নিজের পাড়ায় যদি এমন একটা দৈত্য ঘুরে বেড়াত আর তার এত-এত সন্তান জন্মাত, তা হলে আপনি তার সঙ্গে থাকতেন তো?’ পশুপ্রেমীরা বলছেন, পৃথিবীর অনেক জঙ্গলেই তো সাপটাকে ছেড়ে দিয়ে আসা যেত, যেখানে মানুষের বসবাস নেই। উলটো দিকের লোকগুলো তখনও মুঠি পাকিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন, ‘অত বড় একটা সাপকে অজ্ঞান করে অত দূর নিয়ে যেতে কত খরচ হত জানেন?’ কিন্তু খরচ বাঁচাতে প্রকৃতির তৈরি একটা প্রাণকে একেবারে মেরেই ফেলার অধিকার মানুষকে কে দিল? সেটা কিন্তু ভেবে দেখার মতো বিষয়।

চিত্রসৌজন্য : ফেসবুক