issue_cover
x

ক্লাসে তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু দেবব্রতর সঙ্গে গত শনিবার হাফছুটির পর তোমার যে মারামারিটা লেগেছিল, সেটা যে কোনও যুদ্ধের চেয়ে কোনও অংশে কম যায় না, সেকথা না হয় মেনেই নিলাম। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট যুদ্ধ সেটাকে বলা যাবে কি? ইশ! মারামারিটা শুরু হল যখন, তখনই যদি ঘ়ড়়িটা দেখে রাখতে একবার, তা হলে হয়তো এমন দাবি করলেও করা যেত! কিন্তু তা তো তোমরা রাখোনি কেউই! ফলে ওই খেতাব পেয়ে গিয়েছে ২৭ অগস্ট, ১৮৯৬ সালের অন্য এক যুদ্ধ, যা হয়েছিল গ্রেট ব্রিটেন আর জ়ানজ়িবার-এর মধ্যে। সেসময় জ়ানজ়িবারের সুলতান হামাদ বিন থুয়াইনি ছিলেন গ্রেট ব্রিটেনের বন্ধু। তিনি মারা গেলে তাঁর প্রাসাদ দখল করে নেন হামাদ বিনের তুতো ভাই সুলতান খলিদ বিন বারঘাস। আর সেই কাজে খলিদকে সাহায্য করে জার্মানি, যার সঙ্গে গ্রেট ব্রিটেনের সম্পর্ক ছিল আদায়-কাঁচকলায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চটে একশা হয় গ্রেট ব্রিটেন। সেই রাগ এমন খুনে যে, খলিদ বিনের একটিমাত্র রাজকীয় জাহাজ আর মাত্র হাজারতিনেক সৈন্যর সঙ্গে লড়াই করতে গ্রেট ব্রিটেন পাঁচ জাহাজ ভর্তি সৈন্য পাঠিয়ে বসে। বলাই বাহুল্য, গ্রেট ব্রিটেনের পাঁচখানা জাহাজের সৈন্য যেই না আক্রমণ শুরু করেছে, সঙ্গে-সঙ্গে নিজেদের একটিমাত্র জাহাজ এবং প্রাসাদ ছেড়ে চোঁ চাঁ দৌড় লাগিয়েছে খলিদ বিনের লোকলশকর। এদিকে সবাই পালিয়ে যেতে হয়েছে কী, প্রাসাদের উপর লাগানো পতাকাটা থেকে গিয়েছে সেখানেই। ব্রিটিশবাহিনী ফিরে যেতে-যেতেও সেই পতাকা দেখে ফের একবার মুখ ঘুরিয়েছে নিজেদের রণতরীর। মূলত ওই পতাকাটা ওড়াতে গিয়েই সময় নষ্ট হল ৩৮ মিনিট। ব্যস, গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের বইয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধ হিসেবে নাম উঠে গেল এই যুদ্ধেরই।

চিত্রসৌজন্য : উইকিপিডিয়া